ওয়াশিংটন: আমেরিকান যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে নাগাড়ে দু’দিন ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার অভিযোগের পরেই পশ্চিম এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল সর্বাত্মক যুদ্ধের আগুন। ওমান উপসাগর এবং ইরানের খাড়্গ দ্বীপের জলসীমায় বড়সড় সামরিক অভিযান চালিয়ে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার গুঁড়িয়ে দিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। আমেরিকার এই প্রবল প্রত্যাঘাতের জবাবে সরাসরি জর্ডনের একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছুড়েছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এই নতুন ও তীব্র সামরিক সংঘর্ষে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ট্যাঙ্কার ধ্বংস করল আমেরিকা
পেন্টাগন সূত্রে জানানো হয়েছে, গত দু’দিন ধরে ইরানের তরফে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছিল। যদিও আমেরিকার যুদ্ধজাহাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সেই আক্রমণ এড়িয়ে জলসীমায় নিজের অবস্থান বজায় রাখে। এই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনার হতাহতের খবর নেই।
এর পরই তার চড়া মূল্য চোকাতে হয়েছে তেহরানকে। ওমান উপসাগরে থাকা ‘এম/টি কাভিজ’, ‘এম/টি চারমিনার’, ‘এম/টি হরাইজন ১’, ‘এম/টি রিয়েস্কো’ এবং খাড়্গ দ্বীপের কাছে ‘এম/টি দেরিয়া’ নামের পাঁচটি জাহাজকে নিশানা করে মার্কিন বাহিনী। পেন্টাগনের সাফ দাবি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর বিশাল আর্থিক জাল ও ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর অংশ হিসেবে এই ট্যাঙ্কারগুলি ব্যবহার করা হতো, যেখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলির জন্য তহবিল জোগাড় করা হতো। অভিযানের আগে অবশ্য জাহাজের ক্রুদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনা।
জর্ডনের মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের উল্টো মার
আমেরিকান বিমান হানার পরেই বিধ্বংসী পদক্ষেপে ফেরে তেহরান। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডনের আজরাক (Al Azraq) বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল ছাড়ে আইআরজিসি (IRGC)। জর্ডন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোঁড়া ২০টি মিসাইলের মধ্যে ১৮টিকেই মাঝাকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে। বাকি দুটি এসে পড়ে ফাঁকা জায়গায়।
যদিও ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের দাবি, আজরাক ঘাঁটিতে তাদের এই তীব্র হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলির একাধিক হ্যাঙ্গার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। যদিও এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এখানেই না থেমে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরগুলিতে নোঙর করা বা চলাচলকারী সমস্ত তেল ট্যাঙ্কারকে অবিলম্বে খালি করার চরম হুমকি দিয়েছে তেহরান।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে জ্বালানির দাম
আমেরিকা ও ইরানের এই রক্তক্ষয়ী পাল্টাপাল্টি হামলায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে বড়সড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালী ইতিমধ্যেই কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে মঙ্গলবার তেলের দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৯.৪৬ মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
গত মাসের শেষের দিকে ৬০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরোনোর পর মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে তীব্র সামরিক উত্তেজনা চলছে। মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন নৌবহরে হামলার ন্যূনতম চেষ্টা করলেই তেহরানকে আরও বেশি তেল ট্যাঙ্কার হারাতে হবে। অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হুমকির জেরে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে ফের সর্বাত্মক যুদ্ধের কালো ছায়া ঘনিয়ে এসেছে।
আনসারুল্লাহর হামলায় দক্ষিণ সৌদিতে ৭৩ জন আহত! জানাল সৌদি জোট
নেপালের মত হিন্দু দেশে চরমপন্থী মুসলিম নেতা মামুনুল হকের সফর ঘিরে বাড়ল উত্তেজনা
