যুদ্ধ থামাতে ৩ কড়া শর্ত ইরানের! পালটা ‘অসমাপ্ত কাজ’ শেষের চরম হুঙ্কার ট্রাম্পের

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবার দু-সপ্তাহে পা দিতে চলেছে। আর এই চরম উত্তেজনার মাঝেই আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধ শেষ করার জন্য তিনটি কড়া শর্ত…

Iran three conditions to end war

মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবার দু-সপ্তাহে পা দিতে চলেছে। আর এই চরম উত্তেজনার মাঝেই আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধ শেষ করার জন্য তিনটি কড়া শর্ত বেঁধে দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বুধবার এই শর্তগুলি ঘোষণা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই তিন শর্ত পূরণ হলেই একমাত্র পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরতে পারে। তবে ইরানের এই প্রস্তাবের পরেও যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই, উল্টে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়েছে দুই পক্ষই।

Advertisements

ইরানের দেওয়া তিন শর্ত কী কী?

আমেরিকা ও ইজরায়েলের সামনে যে তিন দফা শর্ত রেখেছে তেহরান৷ প্রথমত, আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের সমস্ত বৈধ অধিকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই যুদ্ধের ফলে যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এবং তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আর কোনওরকম আগ্রাসন বা হামলা চালানো হবে না, তার একটি সুনির্দিষ্ট ও কড়া আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে।

   

কী বলছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট? Iran three conditions to end war

মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স (X)-এ একটি পোস্টে পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যেই রাশিয়া এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ওই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর বিষয়ে ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে এই যুদ্ধের জন্য সরাসরি “জায়নবাদী শাসনযন্ত্র” (ইজরায়েল) এবং আমেরিকাকেই দায়ী করেছেন তিনি।

থামছে না সংঘাত, সেঞ্চুরিতে অপরিশোধিত তেল!

পেজেশকিয়ানের এই শান্তি-বার্তার পরেও বাস্তব চিত্রটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (UAE) নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান। পাশাপাশি, জেরুজালেমেও মিসাইল হামলা চালিয়েছে তারা, যার জেরে সাইরেন বেজে ওঠে এবং ইজরায়েলি বায়ুসেনা সেগুলি মাঝপথেই ধ্বংস করার চেষ্টা করে।

Advertisements

ইরানের ক্রমাগত পণ্যবাহী জাহাজ এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃহস্পতিবার ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছুঁয়েছে।

পালটা মার ইজরায়েল ও আমেরিকার

অন্যদিকে বসে নেই ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF) জানিয়েছে যে, তারা ইরানে “ব্যাপক মাত্রায় হামলা” শুরু করেছে। একইসঙ্গে লেবাননেও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লা যোদ্ধাদের নিশানা করে আক্রমণ জারি রেখেছে ইজরায়েল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই মুহূর্তে পিছিয়ে আসতে নারাজ। বুধবার কেন্টাকির একটি ইভেন্টে ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমরা এখনই চলে যেতে চাই না, তাই না? আমাদের অসমাপ্ত কাজটা শেষ করতে হবে।”

সব মিলিয়ে, ইরানের শর্ত এবং ট্রাম্পের পালটা হুঙ্কারে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যে এখনই শান্ত হচ্ছে না, তা একপ্রকার পরিষ্কার।

Advertisements