যুদ্ধ থামাতে চাইলে আলোচনা দরকার। তবে তার আগে ৭টি শর্ত মানতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। এমনই ঘোষণা ইরানের। তেহরান পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন তাদের দাবি প্রত্যাখ্যান করলে তেহরান একটি ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত। ইরান জানিয়েছে এই দাবি না মানলে স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে আমেরিকারই। ট্রাম্পের হুমকিতে ভয় পেতে যে তারা তৈরি নয়, সেকথা স্পষ্ট করেছে ইরান।
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের এই পদক্ষেপ যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য। আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে কাতারের মাধ্যমে যে ৭টি শর্ত পাঠিয়ে ইরান, তা নিয়ে জলঘোলা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। যদিও সব কটি শর্ত প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক মহসেন রেজাই জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা শর্তগুলি প্রত্যাখ্যান করলে তাঁর দেশ ‘নির্ণায়ক যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত।
ইরানের শর্ত
১. সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে
২. বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়তে হবে
৩. মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে
আপাতত এই ৩টি শর্তের কথাই জানা গিয়েছে বলে খবর। একদিকে কাতারের মাধ্যমে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার রাস্তা খোলা রাখতে চাইছে তেহরান। অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিতও এই শর্তে দেওয়া হয়েছে। রেজাই জানিয়েছে তাঁর দেশ আমেরিকার দ্বিচারিতা কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। তাই মার্কিন হামলার বিষয়টি ইরান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। নিজেদের সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে যে ইরান বেশ ভাবনা চিন্তা করছে, তা রেজাইয়ের কথাতেই স্পষ্ট।
এদিকে, দুদিন আগেই রাষ্ট্রসঙ্ঘে বড় ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে কার্যত কূটনৈতিক হার হয়েছে তাদের। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে আমেরিকার দাদাগিরি এবার হয়ত কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। জানা গিয়েছে ইরানের ওপর জারি হওয়া পরমাণু সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মেয়াদ আরও ১ বছর বাড়ানোর মার্কিন প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে চিন ও রাশিয়া।
শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এই প্রস্তাবের পক্ষে পড়েছিল ১১টি ভোট। তবে সোমালিয়া ও পাকিস্তান ভোট দেয়নি। রাশিয়া ও চিন বিপক্ষে ভোট দেয়। এই ভেটোর ফলে বেশ কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল আমেরিকার নজরদারি। নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে আটকে গেল মার্কিন প্রস্তাব। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য প্রস্তাবের পক্ষ নিলেও রাশিয়া ও চিন ভেটো প্রয়োগ করার ফলে তা আটকে যায়।
