সৌদি বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান ধ্বংস করল ইরান

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। (Iran Missile Strike)শুক্রবার ইরান দাবি করেছে, সৌদি আরবের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায়…

iran-missile-strike-us-air-base-saudi-arabia-middle-east-war

পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। (Iran Missile Strike)শুক্রবার ইরান দাবি করেছে, সৌদি আরবের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে একটি অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। যদিও এই দাবি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং মার্কিন পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisements

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত ছবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ারবেসে একটি E-3 AWACS কমান্ড ও কন্ট্রোল বিমান হামলায় প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানের মূল কাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে, কেবল সামনের অংশ এবং লেজের কিছু অংশ অক্ষত রয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলায় ব্যবহার করা হয় ছয়টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং প্রায় ২৯টি ড্রোন। হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যার মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। পাশাপাশি একাধিক রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃবাংলার নির্বাচন নিয়ে অনন্তনাগ থেকে চমক দিলেন কংগ্রেস নেতা

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি। তাদের দাবি, দীর্ঘ-পাল্লার ও মাঝারি-পাল্লার মিসাইল এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘাঁটিগুলিকে নিশানা করা হয়েছে। এছাড়াও তারা দাবি করেছে, একটি মার্কিন MQ-9 ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে এবং একটি F-16 যুদ্ধবিমানেও আঘাত হানা হয়েছে।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকেই একের পর এক পাল্টা হামলা চলছে। ইরানের দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী তাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে এবং একাধিক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে রয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেই এবং নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি।

Advertisements

এই সংঘাতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হল বেসামরিক মানুষের উপর এর প্রভাব। ইরানের মিনাব এলাকায় একটি মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় প্রায় ১৮০ জন ছাত্রী নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া বুশেহর প্রদেশে একটি পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন এবং খুজেস্তান প্রদেশে একটি জল সরবরাহ কেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংঘাত এখন সৌদি আরবের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে খবর। পাশাপাশি ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হলে তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও নিশানা করতে পারে। এদিকে, রবিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী শহরের একটি আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

Advertisements