ইমরান মৃত? সাংবাদিকের দাবিতে শোরগোল! বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি PTI-এর

ইসলামাবাদ: রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কেমন আছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? তিনি কি আদৌ জীবিত আছেন, নাকি জেলের ভেতরেই ঘটে গিয়েছে চরম কোনও…

ইসলামাবাদ: রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কেমন আছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? তিনি কি আদৌ জীবিত আছেন, নাকি জেলের ভেতরেই ঘটে গিয়েছে চরম কোনও অঘটন? গত কয়েক দিন ধরে এই প্রশ্নেই তোলপাড় পাকিস্তানের রাজনীতি। সম্প্রতি এক পাকিস্তানি সাংবাদিকের বিস্ফোরক দাবির পর সেই জল্পনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে ইমরান বা তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গে পরিবার ও চিকিৎসকদের দেখা করতে না দেওয়ায় ফুঁসছে তাঁর দল ‘পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ’ (পিটিআই)। পরিস্থিতি যা, তাতে সেনাবাহিনী ও শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আছড়ে পড়তে পারে বিশ লাখ মানুষের এক বিশাল জনস্রোত।

Advertisements

সমগ্র বিতর্ক ও জল্পনার সূত্রপাত প্রবাসী পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সইদ খানের একটি ইউটিউব ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে। আমেরিকায় বসবাসকারী ওই সাংবাদিক দাবি করেছেন, রাওয়ালপিন্ডির পাকিস্তান সেনা সদর দফতর (GHQ)-এর তিনটি অত্যন্ত উচ্চপদস্থ সূত্র তাঁকে জানিয়েছে যে, ইমরান খান আর জীবিত নেই। সেনার অন্দরেই এমন জল্পনা চরমে পৌঁছেছে। যদিও ওয়াজাহাত নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এই তথ্যের কোনও প্রত্যক্ষ সত্যতা তিনি বা তাঁর সূত্র নিজের চোখে মেলাননি, তবে সেনার সদর দফতরে এই নিয়ে তীব্র চর্চা চলছে। আর সেই কারণেই সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং পাক সরকার ইমরানকে বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

   

ইমরানের মৃত্যুর এই জল্পনা এমন এক সময়ে ছড়িয়েছে, যখন পিটিআই নেতৃত্ব অভিযোগ করছে যে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর সঙ্গে পরিবার বা দলের কাউকেই দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। খাইবার পাখতুনখওয়ার মুখ্যমন্ত্রী তথা পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি সতর্ক করে বলেছেন, পাক যুবসমাজ ও কোটি কোটি সমর্থকের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। আফ্রিদির দাবি, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘লং মার্চ’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে এবং ২০ লক্ষের বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে তৈরি। তার আগেই যদি ইমরান ও বুশরা বিবির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি না মেলে, তবে সুপ্রিম কোর্ট ও আদিয়ালা জেলের বাইরেও ঘেরাও কর্মসূচি করা হবে।

ইমরানের এই বন্দিদশা এবং স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। আমেরিকার অন্তত ১৩ জন আইনপ্রণেতা সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে একটি চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে তিনি ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে সরাসরি ইমরান ও বুশরার মুক্তির বিষয়ে দর কষাকষি করেন। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ মানবাধিকার রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন প্রণেতারা জানিয়েছেন, ইমরানকে দিনের পর দিন দিনে প্রায় ২৩ ঘণ্টা নির্জন কারাবাস (solitary confinement)-এ রাখা হচ্ছে। এমনকি সঠিক চিকিৎসার অভাবে তাঁর ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

Advertisements

২০২৩ সালের ৫ অগস্ট থেকে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ১৪ বছরের সাজা নিয়ে জেলবন্দি ইমরান। তবে তাঁর এই কারাবাসের নেপথ্যে যে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে পুরনো রাজনৈতিক সংঘাত ও ২০২৩ সালের ৯ মে সেনার সদর দফতরে হামলার ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞদের। সেনার সঙ্গে সংঘাতের এই আবহে ইমরানের জীবিত থাকা না-থাকা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া খবরটি আপাতত এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের বর্তমান প্রশাসনকে।

Advertisements