ওয়াশিংটন: হরমুজ প্রণালী নিয়ে এমনিতেই উত্তেজনা চরমে। তার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে জারি করা নৌ-অবরোধ আরও কড়া করতে পশ্চিম এশিয়ায় ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করল আমেরিকা। এক্স (পূর্বতন টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে এই খবর নিশ্চিত করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কম্যান্ড (সেন্টকম)। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার আগে তাদের কিছু শর্ত মানতে হবে আমেরিকাকে। আর সেই টানাপড়েনের মাঝেই পেন্টাগনের এই মেগা-পদক্ষেপ ঘিরে উপসাগরীয় এলাকায় নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, এই সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া যুদ্ধজাহাজগুলির মধ্যে রয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস রস’। সেন্টকমের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অবরোধ কঠোর ভাবে কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ। তারা আরও জানিয়েছে, গত ৯ অগস্ট পর্যন্ত সেন্টকম ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের পথ ঘুরিয়ে দিয়েছে, দু’টি জাহাজকে নিষ্ক্রিয় করেছে এবং দু’টি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়েছে। মূলত অবরোধের নিয়মকানুন ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
এই যুদ্ধ-পরিস্থিতির মধ্যেই আবার হরমুজ প্রণালীতে নতুন বাণিজ্যিক জলপথ চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তির পথে এগোচ্ছে ইরান। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ওমানের সঙ্গে এই চুক্তি এখন “চূড়ান্ত পর্যায়ে” রয়েছে। তবে তেহরান এ কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জলপথটি পুনরায় খোলার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমেরিকার শর্ত পূরণের উপর। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ আধিকারিক মহম্মদ বাকের জোলকদর জানিয়েছেন, অবরোধ তুলতে হলে আমেরিকাকে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, মার্কিন হামলার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া, সমস্ত রকম সামরিক হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং বাজেয়াপ্ত করা ইরানি সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া।
অন্য দিকে, এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, বাধাহীন ভাবে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য চুক্তি ঘোষণার পরেই ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলি থেকে অবরোধ তুলে নেবে। তবে পুরোটাই নির্ভর করছে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা পালন করছে, তার উপর। রয়টার্স সূত্রে খবর, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে সরাসরি কোনও আলোচনা চলছে না। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই বার্তা আদানপ্রদান চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন ইরানের সঙ্গে “লো-কি” (low-keying) বা অত্যন্ত ধীর গতিতে আলোচনা চালাচ্ছে। দু’পক্ষের মধ্যে কেবল “অর্ধেক আলোচনা” (semi-negotiating) চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, পাঁচ মাসেরও বেশি সময় আগে ইরানের উপর জোরালো বিমানহানা চালিয়েছিল আমেরিকা ও ইজ়রায়েল। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরি রুখতেই ওই হামলা। এর পর গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও জুলাই মাসেই ফের উপসাগরে ইরানি জাহাজের উপর মার্কিন অবরোধ শুরু হয়। চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে এর পরেই হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। সেই সঙ্গে দোসর হয়েছে আঞ্চলিক সংঘাত। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) অভিযোগ করেছে, তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে, ইয়েমেনে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মাঝে হামলা জোরদার করেছে। সৌদি আরামকোর জাজান শোধনাগারেও হুথিরা হামলা চালিয়েছে বলে খবর মিলেছে।
বাড়ল ভারতের চাপ! যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করল পাক, সৌদি-তুরস্ক
মার্কিন সেনেটে পাস হল ভারতকে হুমকি দেওয়া বিল! যখন তখন বসবে ১০০% শুল্ক
