ওয়াশিংটন: আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে এক অভিনব ‘ইনফিনিট লাইফ’ (Infinite Life) চুক্তির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল (Truth Social)-এ একাধিক পোস্টের মাধ্যমে এই চুক্তি প্রকাশ্যে এনে তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তির ফলে ওই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেরু অঞ্চলের প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তার ওপর স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ পাবে আমেরিকা। বিনা আর্থিক খরচে সম্পাদিত এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো ওয়াশিংটনকে গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নিরঙ্কুশ অধিকার প্রদান করা এবং আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি আরও প্রসারিত করা।
চুক্তির মূল শর্ত ও সুরক্ষার বেষ্টনী
ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটনের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো অ-ন্যাটো (non-NATO) দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি বা সেনা মোতায়েন করতে পারবে না। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো-
স্থায়ী প্রবেশাধিকার: মার্কিন সেনার জন্য দ্বীপজুড়ে দীর্ঘমেয়াদি ঘাঁটি স্থাপন, ওভারফ্লাইট এবং অপারেশনাল কর্তৃত্ব নিশ্চিত করা।
প্রতিদ্বন্দ্বী এক্সক্লুসিভ জোন: রাশিয়া বা চিনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি যাতে মেরু বাণিজ্য রুটে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, তার জন্য অ-ন্যাটো দেশগুলির সংবেদনশীল পরিকাঠামো বিনিয়োগে নিষেধাজ্ঞা।
সামরিক স্থানাঙ্ক প্রসার: দ্বীপটির উপযুক্ত এলাকায় নতুন মার্কিন সামরিক ইনস্টলেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা।
সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক বাস্তবতা
হোয়াইট হাউসের তরফে নিখাদ নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়া হলেও কোপেনহেগেন এবং নুুকের (গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ব্যবস্থাটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার বজায় রেখেই ন্যাটোর কাঠামোর মধ্যে আর্কটিকের স্থিতাবস্থা রক্ষা করবে। ১৯৫১ সালের পূর্ববর্তী প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই নতুন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন আসন্ন রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকেই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে এর জন্য কোপেনহেগেন ও নুুকের সংসদীয় অনুমোদন প্রয়োজন।
ট্রাম্পের ছাড়পত্র! ইসরায়েলকে ৪০ হাজার ভারী বোমা সহ ২৮০ কোটির অস্ত্র প্যাকেজ আমেরিকার
মহাকাশে মোতায়েন আছে অস্ত্র! স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের
