শিলিগুড়ির মেয়র পদ ছাড়ছেন গৌতম দেব? জল্পনায় সরগরম রাজনৈতিক মহল

পুরনিগমের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর গৌতম দেবের পদত্যাগ জল্পনা তীব্র। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।

gautam deb siliguri

পারমিতা রায়,শিলিগুড়ি, ১৮ জুন: শিলিগুড়ি (Siliguri) পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে গৌতম দেব পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবার এই জল্পনা আরও তীব্র হয়ে ওঠে পুরনিগমে অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে। বৈঠকে মেয়রের ভবিষ্যৎ ভূমিকা এবং পুর প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

Advertisements

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি মেয়র, মেয়র পারিষদ সদস্য, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং বরো চেয়ারম্যানরা। যদিও বৈঠক শেষে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়রের পদত্যাগ প্রসঙ্গে মুখ খোলেননি, তবুও রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে।

   

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন গৌতম দেব। কিন্তু নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। সেই আবহেই মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হওয়ায় এই শহরকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরই নিজেদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ফলে পুরনিগমের শীর্ষ পদে কোনও পরিবর্তন এলে তার প্রভাব শুধুমাত্র প্রশাসনিক ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক সমীকরণেও পড়তে পারে।

Advertisements

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেই সূত্রের দাবি। তবে দলের কোনও শীর্ষ নেতা বা পুরনিগমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও জনপ্রতিনিধি এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও গোটা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে গৌতম দেবের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে।

তবে সমস্ত জল্পনার মাঝেও এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বা লিখিত ঘোষণা সামনে আসেনি। ফলে মেয়র পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হতে চলেছে, তা জানতে আপাতত অপেক্ষা করতেই হবে রাজনৈতিক মহল ও শহরবাসীকে।

Advertisements