৫০ কোটি তছরুপ! আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগে অভিযুক্ত ভিনেশ

কলকাতা: কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বড়সড় মোড় । আই-প্যাক (Vinesh Chandel )-এর ডিরেক্টর ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে গতকাল গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বেআইনি আর্থিক…

vinesh-chandel-arrest-coal-scam-ed-ipac-controversy-2026

কলকাতা: কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বড়সড় মোড় । আই-প্যাক (Vinesh Chandel )-এর ডিরেক্টর ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে গতকাল গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বেআইনি আর্থিক লেনদেন, প্রতারণা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে এই গ্রেফতারি রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।

Advertisements

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ এপ্রিল দিল্লিতে ভিনেশ চান্ডেলের ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেই সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয় বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরই তদন্তে নতুন দিশা মেলে এবং সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

   

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দিল্লি পুলিশের একটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে এই মামলা শুরু হয়। এরপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করে আই-প্যাকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনে। এর মধ্যে রয়েছে টাকা পাচার, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, হিসাবের নথিতে কারসাজি এবং বেহিসাবি আর্থিক লেনদেন।

আরও দেখুনঃ হাওয়ালা অভিযোগে প্রতীক জৈনের স্ত্রী-ভাইকে ইডি তলব

ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, লেনদেনের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করা হত। মোট অর্থের প্রায় ৫০ শতাংশ চেকের মাধ্যমে দেওয়া হত, আর বাকি অংশ নগদে লেনদেন করা হত। এরপর ভুয়ো নথি তৈরি করে সেই লেনদেনকে বৈধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হত বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

Advertisements

এই গ্রেফতারির পর মঙ্গলবার ভিনেশ চান্ডেলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে তদন্তকারী সংস্থা। বিশেষ করে আর্থিক লেনদেনের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। বিরোধীদের একাংশের দাবি, নির্বাচনের আগে এই ধরনের গ্রেফতারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, সমস্ত পদক্ষেপ আইনি প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হচ্ছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আই-প্যাক একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে পরিচিত, যারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে পরামর্শ দেয়। ফলে এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির গ্রেফতারি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Advertisements