কলকাতা: ভারতের স্মার্টফোন বাজারে এবার পা রাখতে চলেছে জনপ্রিয় অডিয়ো ডিভাইস নির্মাতা মিভি (Mivi Smartphone)। এতদিন ইয়ারফোন, হেডফোন এবং অন্যান্য অডিয়ো পণ্যের জন্য পরিচিত এই সংস্থা এবার তাদের প্রথম স্মার্টফোন নিয়ে আসছে। নতুন ফোনটি মূলত বাজেট সেগমেন্টের ক্রেতাদের লক্ষ্য করেই বাজারে আসতে পারে।
ফোনটির নাম, নির্দিষ্ট লঞ্চের তারিখ এবং সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন এখনও প্রকাশ করেনি মিভি। তবে নতুন একটি রিপোর্টে ফোনটির সম্ভাব্য দাম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ভারতে মিভির প্রথম স্মার্টফোনটির দাম ১৫ হাজার টাকার মধ্যেই রাখা হতে পারে।
১৫ হাজার টাকার কমে আসতে পারে ফোন
৯১মোবাইলসের একটি রিপোর্টে শিল্পমহলের সূত্রের উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, মিভির প্রথম স্মার্টফোনটি ১৫ হাজার টাকার কম দামের সেগমেন্টে লঞ্চ হতে পারে। যদিও সংস্থা এখনও চূড়ান্ত দাম ঘোষণা করেনি। ফলে ফোনটির ঠিক কত টাকা দাম হবে, তা লঞ্চের সময়ই জানা যাবে। এই দামের সেগমেন্টে ফোনটি সরাসরি একাধিক জনপ্রিয় বাজেট স্মার্টফোনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। মিভির জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হতে চলেছে দাম এবং ফিচারের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।
থাকবে ৫জি কানেক্টিভিটি
রিপোর্ট অনুযায়ী, মিভির প্রথম স্মার্টফোনে ৫জি কানেক্টিভিটি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাও ইতিমধ্যে ফোনটির প্রসঙ্গে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট ব্যবহারের বিষয়টি টিজ করেছে। তবে কোন স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট ফোনটিতে ব্যবহার করা হবে, তা এখনও জানায়নি মিভি। বাজেট সেগমেন্টে এই চিপসেট ফোনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
ফ্লিপকার্টে ইতিমধ্যেই টিজার
মিভি তাদের আসন্ন স্মার্টফোনের একটি প্রচারমূলক তালিকা ইতিমধ্যেই ফ্লিপকার্টে প্রকাশ করেছে। সেই টিজার থেকে ফোনটির ডিজাইন সম্পর্কেও কিছু ধারণা পাওয়া গিয়েছে। টিজারে সবুজ রঙের একটি ফোন দেখা যাচ্ছে। পিছনের প্যানেলটি সমতল এবং চারদিকে গোলাকার প্রান্ত রয়েছে। সামগ্রিক ডিজাইন বেশ সাধারণ এবং আধুনিক রাখার চেষ্টা করেছে মিভি। ফ্লিপকার্টের লাইভ মাইক্রোসাইট থেকেও নিশ্চিত হয়েছে যে ফোনটি ভারতে এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি হবে।
ক্যামেরা ও ব্যাটারির তথ্য এখনও অজানা
স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট এবং সম্ভাব্য ৫জি সাপোর্ট ছাড়া ফোনটির হার্ডওয়্যার সম্পর্কে এখনও খুব বেশি তথ্য সামনে আসেনি। মিভি এখনও জানায়নি ফোনটিতে কত মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থাকবে। একইভাবে ব্যাটারির ক্ষমতা, চার্জিং প্রযুক্তি, র্যাম এবং স্টোরেজ সম্পর্কেও কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি সংস্থা। ফলে ফোনটির প্রকৃত পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
স্মার্টফোন শিল্পে অভিজ্ঞ মুখকে দলে নিয়েছে মিভি
স্মার্টফোন ব্যবসায় প্রবেশের আগে মিভি তাদের দলে স্মার্টফোন শিল্পের অভিজ্ঞতাও যোগ করেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটি সম্প্রতি হিমাংশু ট্যান্ডনকে নিয়োগ করেছে। তিনি এর আগে পোকো এবং সিএমএফ বাই নাথিংয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে স্মার্টফোন বাজারে পণ্য তৈরি, অবস্থান নির্ধারণ এবং বাজারজাত করার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা মিভির কাজে আসতে পারে।
বাজেট বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা
মিভি এমন সময়ে স্মার্টফোন বাজারে প্রবেশ করছে, যখন বাজেট সেগমেন্টে নতুন সংস্থাগুলির উপস্থিতি বাড়ছে। ফায়ার-বল্টও পরিধেয় প্রযুক্তি পণ্যের বাইরে গিয়ে স্মার্টফোন বাজারে প্রবেশ করেছে। এআই প্লাস ইতিমধ্যেই ভারতে স্মার্টফোন এনেছে। মাইক্রোম্যাক্সও আবার বাজারে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে রিপোর্ট রয়েছে। অন্যদিকে ফিলিপসও ভারতে নতুন স্মার্টফোন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে ১৫ হাজার টাকার আশপাশের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে।
শুধু স্ন্যাপড্রাগন চিপসেটই যথেষ্ট নয়
মিভির নতুন ফোনে স্ন্যাপড্রাগন চিপসেট এবং ৫জি থাকলেও শুধু এই দুই বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে বাজেট বাজারে জায়গা তৈরি করা সহজ হবে না। ক্যামেরার মান, ব্যাটারি ব্যাকআপ, চার্জিং গতি, সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা, দীর্ঘমেয়াদি আপডেট, ফোনের পারফরম্যান্স এবং বিক্রয়-পরবর্তী পরিষেবাও ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
বিশেষ করে র্যাম ও স্টোরেজের খরচ বাড়ায় বর্তমান সময়ে বাজেট ফোনে প্রতিযোগিতামূলক দাম রাখা নির্মাতাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতেই মিভির মতো নতুন সংস্থার জন্য বাজারে জায়গা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে মিভির প্রথম স্মার্টফোন সত্যিই কতটা প্রতিযোগিতামূলক হবে, তা বোঝার জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশনের।
