ভুয়ো ব্যাঙ্ক, সরকারি সংস্থা, ডেলিভারি পরিষেবা এমনকি পরিচিত মানুষের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা গত কয়েক বছরে ক্রমশ বেড়েছে। ফোনে কথা বলে বা মেসেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে বিশ্বাস করিয়ে টাকা পাঠানো কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের তথ্য বদলে নেওয়া এখন প্রতারকদের পরিচিত কৌশল। এই ধরনের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতারণা ঠেকাতে আইওএস ২৭-এ (iOS 27) নতুন নিরাপত্তা ফিচার নিয়ে এসেছে অ্যাপল।
নতুন ফিচারটির নাম ইমপারসোনেশন রিস্ক ডিটেকশন। অ্যাপলের দাবি, ব্যবহারকারী কোনও সক্রিয় প্রতারণার মধ্যে রয়েছেন কি না, বিশেষ করে টাকা পাঠানোর আগে বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের সময়, সেটির সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করে সতর্ক করতে পারবে এই ব্যবস্থা।
কীভাবে কাজ করবে ইমপারসোনেশন রিস্ক ডিটেকশন?
অ্যাপলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ফিচার মূলত এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে কোনও প্রতারক ব্যাঙ্ক, সরকারি সংস্থা বা পরিচিত কোনও ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে ব্যবহারকারীকে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।
আইফোন বা আইপ্যাড এবং ব্যবহারকারীর অ্যাপল অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত কিছু তথ্য বিশ্লেষণ করে সিস্টেমটি সন্দেহজনক কার্যকলাপের লক্ষণ খুঁজবে।
কোনও সমর্থিত অ্যাপ এমন কোনও কাজের সময় ঝুঁকি যাচাইয়ের অনুরোধ করলে, যে কাজটি ব্যবহারকারীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বা বিপজ্জনক হতে পারে, তখন সিস্টেম একটি ঝুঁকির স্তর তৈরি করবে। এরপর ওই অ্যাপ সেই ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে পারবে।
তিন ধরনের ঝুঁকির মাত্রা
অ্যাপলের মতে, ইমপারসোনেশন রিস্ক ডিটেকশন মোট তিনটি স্তরে ঝুঁকি দেখাতে পারে:
- আননোন: সন্দেহজনক কার্যকলাপের কোনও প্রমাণ শনাক্ত হয়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট কাজটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।
- মিডিয়াম: সন্দেহজনক কার্যকলাপের কিছু লক্ষণ পাওয়া গিয়েছে।
- হাই: সন্দেহজনক কার্যকলাপের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ শনাক্ত হয়েছে।
অর্থাৎ কোনও লেনদেন বা গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের সময় সিস্টেম যদি বেশি ঝুঁকি দেখতে পায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারকারীকে অতিরিক্ত সতর্কতা বা অন্য কোনও নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ দেখাতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্য অ্যাপের হাতে যাবে না
এই ফিচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত তথ্য সরাসরি অ্যাপকে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে অ্যাপল। অ্যাপটি শুধু চূড়ান্ত ঝুঁকির স্তর পাবে। অর্থাৎ সিস্টেম কোন তথ্যের ভিত্তিতে সেই মূল্যায়ন করেছে, সেই বিস্তারিত তথ্য অ্যাপের কাছে যাবে না। এই ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবহার করা যেতে পারে টাকা পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা তথ্য পরিবর্তনের সময়ও ফিচারটি সক্রিয় হতে পারে।
আইফোনে ফিচারটি চালু করবেন যেভাবে
আইওএস ২৭-এ ইমপারসোনেশন রিস্ক ডিটেকশন চালু করতে:
১. সেটিংস অ্যাপ খুলুন।
২. প্রাইভেসি অ্যান্ড সিকিউরিটি অপশনে যান।
৩. নিচে গিয়ে ইমপারসোনেশন রিস্ক ডিটেকশন নির্বাচন করুন।
৪. শেয়ার উইথ অ্যাপ ডেভেলপারস অপশনটি চালু করুন।
৫. প্রয়োজন হলে অ্যাপ স্টোরে আপনার অ্যাপল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করুন।
ব্যবহারকারীরা চাইলে কোন কোন অ্যাপ এই ফিচারের মাধ্যমে ঝুঁকি মূল্যায়নের সুবিধা পাবে, সেটিও আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
প্রতারণা পুরোপুরি বন্ধ করবে না
অ্যাপল স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ফিচারটি সব ধরনের প্রতারণা শনাক্ত করার নিশ্চয়তা দেয় না। ইমপারসোনেশন রিস্ক ডিটেকশন শুধুমাত্র সমর্থিত অ্যাপের সঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি সিস্টেম কোনও কাজকে নিরাপদ বলে দেখালেও সেটি যে নিশ্চিতভাবে নিরাপদ, এমন গ্যারান্টি নেই।
তাই নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে ফোন বা মেসেজে কেউ ব্যাঙ্ক, সরকারি সংস্থা বা পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় দিয়ে টাকা পাঠাতে কিংবা পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে বললে, পরিচয় যাচাই না করে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শই নিরাপদ।
আইওএস ২৭-এর এই নতুন ফিচারের লক্ষ্য মূলত প্রতারণা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে প্রতারণা চলাকালীন ঝুঁকির সংকেত শনাক্ত করে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করা।
Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?
Read More: Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা
Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও
