মুম্বই: ভারতের বাজারে নতুন প্রজন্মের পিক্সেল স্মার্টফোন সিরিজ নিয়ে এল গুগল। বুধবার সংস্থা লঞ্চ করল গুগল পিক্সেল ১১ (Google Pixel 11), পিক্সেল ১১ প্রো এবং পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল। তিনটি মডেলেই রয়েছে গুগলের নতুন টেনসর জি৬ প্রসেসর। প্রো সিরিজের ফোন দুটিতে নতুন হাইলাইট ফিচারও যোগ করেছে সংস্থা। নতুন সিরিজে উন্নত ক্যামেরা, উজ্জ্বল ডিসপ্লে, অ্যান্ড্রয়েড ১৭ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একাধিক ফিচারের উপর জোর দিয়েছে গুগল।
Google Pixel 11 সিরিজের দাম কত?
ভারতে গুগল পিক্সেল ১১-এর দাম শুরু হচ্ছে ৮৯,৯৯৯ টাকা থেকে। এই দামে মিলবে ১২ জিবি র্যা ম এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণ। ১২ জিবি র্যা৯ম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজের দাম ১,০৪,৯৯৯ টাকা। পিক্সেল ১১ পাওয়া যাবে পিস্তাচিও, হিবিস্কাস, ফ্রস্ট এবং অবসিডিয়ান রঙে।
অন্যদিকে, গুগল পিক্সেল ১১ প্রো-এর ১২ জিবি র্যায়ম ও ২৫৬ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ১,১৯,৯৯৯ টাকা। ১২ জিবি র্যা৯ম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজ সংস্করণের দাম ১,৩৪,৯৯৯ টাকা।
পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল-এর দাম শুরু হচ্ছে ১,৩৪,৯৯৯ টাকা থেকে। এই সংস্করণে রয়েছে ১২ জিবি র্যা ম এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ। ১২ জিবি র্যাযম ও ৫১২ জিবি স্টোরেজের দাম ১,৪৯,৯৯৯ টাকা। প্রো এবং প্রো এক্সএল মডেল পাওয়া যাবে ক্যানিয়ন, ফগ, অলিভ এবং ম্যাট অবসিডিয়ান রঙে।
কবে থেকে কিনতে পারবেন?
গুগল জানিয়েছে, তিনটি ফোনই ২০ আগস্ট থেকে বিক্রি শুরু হবে। গুগল স্টোর, ফ্লিপকার্ট এবং অন্যান্য অনুমোদিত খুচরো বিক্রেতার মাধ্যমে ফোনগুলি কেনা যাবে।
নতুন ফোনগুলির সঙ্গে গুগল কয়েকটি আনুষঙ্গিক পণ্যও এনেছে। এর মধ্যে পিক্সেলস্ন্যাপ কেসের দাম ৪,৯০০ টাকা, পিক্সেলস্ন্যাপ চার্জারের দাম ৪,৫০০ টাকা এবং পিক্সেলস্ন্যাপ রিং স্ট্যান্ডের দাম ২,৯৭৯ টাকা।
ক্রেতারা এই ফোনগুলির ক্ষেত্রে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের ক্রেডিট কার্ড ইএমআই ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক ছাড় পেতে পারেন। এছাড়াও সর্বোচ্চ ২৪ মাসের নো-কস্ট ইএমআই এবং ৯,০০০ টাকা পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ বোনাস রয়েছে। ফোনের সঙ্গে ছয় মাসের গুগল এআই প্রো সাবস্ক্রিপশনও দেওয়া হচ্ছে।
গুগল পিক্সেল ১১-এ কী থাকছে?
গুগল পিক্সেল ১১-তে রয়েছে ৬.৩-ইঞ্চি ফুল এইচডি প্লাস অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এর স্ক্রিনে সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট পাওয়া যাবে। সর্বোচ্চ উজ্জ্বলতা ৩,০০০ নিটস পর্যন্ত। ডিসপ্লেকে সুরক্ষিত রাখতে রয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিক্টাস ২।
ফোনটির অন্যতম বড় আপগ্রেড হল নতুন গুগল টেনসর জি৬ প্রসেসর। এর সঙ্গে রয়েছে টাইটান এম৩ সিকিউরিটি চিপ। ফোনে ১২ জিবি এলপিডিডিআর৫এক্স র্যারম এবং সর্বোচ্চ ৫১২ জিবি স্টোরেজ পাওয়া যাবে।
পিক্সেল ১১-এর পিছনে রয়েছে ট্রিপল ক্যামেরা সেটআপ। এতে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেল প্রাইমারি ক্যামেরা, এফ/১.৭ অ্যাপারচার, ওআইএস এবং এলডিএএফ সমর্থন। সঙ্গে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং ১০.৮ মেগাপিক্সেল ৫এক্স টেলিফটো ক্যামেরা। সেলফির জন্য সামনে রয়েছে ১০.৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, যার অ্যাপারচার এফ/২.২।
ব্যাটারি ও চার্জিং
পিক্সেল ১১-তে রয়েছে ৪,৯৮৫ এমএএইচ ব্যাটারি। ফোনটি ৩০ ওয়াট তারযুক্ত চার্জিং এবং ২৫ ওয়াট কিউআই ২.২ পিক্সেলস্ন্যাপ ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে। ফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেমে চলবে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে আল্ট্রাসনিক ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং আইপি৬৮ জল ও ধুলো প্রতিরোধ ক্ষমতা।
পিক্সেল ১১ প্রো ও প্রো এক্সএলে নতুন হাইলাইট ফিচার
পিক্সেল ১১ প্রো এবং পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলের অন্যতম আকর্ষণ নতুন হাইলাইট ফিচার। এটি মূলত একটি কনটেক্সচুয়াল অ্যালার্ট ব্যবস্থা। রিয়ার ক্যামেরার ফ্ল্যাশের চারপাশে থাকা এলইডি আলো বিভিন্ন কাস্টমাইজড প্যাটার্ন তৈরি করতে পারে। ফোনটি টেবিল বা অন্য কোনও জায়গায় রেখে দিলেও এই আলো দিয়ে নির্দিষ্ট স্ট্যাটাস বোঝানো যাবে।
এমনকি জেমিনি যখন কোনও প্রশ্ন শুনছে, সেটি প্রক্রিয়া করছে বা উত্তর দিচ্ছে, তখনও হাইলাইট ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংকেত দেখানো যাবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিচিতির ফোন এলে নির্দিষ্ট রঙের কোড ব্যবহার করার সুবিধাও থাকবে।
পিক্সেল ১১ প্রো এবং প্রো এক্সএলের ডিসপ্লে
পিক্সেল ১১ প্রো-তে রয়েছে ৬.৩-ইঞ্চি ১.৫কে এলটিপিও অ্যামোলেড ডিসপ্লে। এর রেজোলিউশন ২৮৫৬x১২৮০ পিক্সেল। অন্যদিকে, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলে রয়েছে বড় ৬.৮-ইঞ্চি কিউএইচডি প্লাস অ্যামোলেড ডিসপ্লে, যার রেজোলিউশন ১৩৪৪x২৯৯২ পিক্সেল।
দুই ফোনেই সর্বোচ্চ ৩,৬০০ নিটস উজ্জ্বলতা এবং ১২০ হার্টজ অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট রয়েছে। ডিসপ্লে সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিক্টাস ২।
প্রো মডেলে ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা
পিক্সেল ১১ প্রো এবং পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল, দুই ফোনেই ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটআপ রয়েছে। মূল ক্যামেরাটি ৫০ মেগাপিক্সেল, যার অ্যাপারচার এফ/১.৬৮। এর সঙ্গে রয়েছে ওআইএস এবং এলডিএএফ সমর্থন।
এছাড়াও রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেল টেলিফটো ক্যামেরা। টেলিফটো ক্যামেরায় ৫এক্স অপটিক্যাল জুম এবং সর্বোচ্চ ১২০এক্স ডিজিটাল জুম পাওয়া যাবে। সেলফির জন্য রয়েছে ৪২ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, যার অ্যাপারচার এফ/২.২।
দুই প্রো মডেলের ব্যাটারি
পিক্সেল ১১ প্রো-তে রয়েছে ৪,৮৪০ এমএএইচ ব্যাটারি। অন্যদিকে পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলে রয়েছে আরও বড় ৫,১১৫ এমএএইচ ব্যাটারি।
দুই ফোনেই ৩০ ওয়াট তারযুক্ত চার্জিং এবং ২৫ ওয়াট কিউআই ২.২ পিক্সেলস্ন্যাপ ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে। দুই মডেলেই আল্ট্রাসনিক ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং আইপি৬৮ জল ও ধুলো প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। তিনটি ফোনই অ্যান্ড্রয়েড ১৭-তে চলবে।
পিক্সেল ১১ সিরিজের মাপ ও ওজন
পিক্সেল ১১-এর মাপ ১৫২.৮x৭২x৮.৬ মিলিমিটার এবং ওজন ১৯৭ গ্রাম।
পিক্সেল ১১ প্রো-এর মাপ ১৫২.৭x৭১.৯x৮.৪ মিলিমিটার এবং ওজন ২০৪ গ্রাম।
সবচেয়ে বড় পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএলের মাপ ১৬২.৭x৭৬.৫x৮.৫ মিলিমিটার এবং ওজন ২২৬ গ্রাম।
নতুন পিক্সেল ১১ সিরিজে প্রসেসর, ক্যামেরা, ডিসপ্লে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিচারের উপর বিশেষ জোর দিয়েছে গুগল। বিশেষ করে প্রো সিরিজের হাইলাইট ফিচার এবং ১২০এক্স ডিজিটাল জুম নতুন ফোনগুলিকে আগের প্রজন্মের তুলনায় আলাদা করে তুলতে পারে। ভারতে ৮৯,৯৯৯ টাকা থেকে শুরু হওয়া পিক্সেল ১১ সিরিজ এখন প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে গুগলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
Also Read | NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?
Also Read | পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
