২০২৭ সালে মেমোরি চিপের দাম বাড়ছে, আরও দামি হতে পারে iPhone

২০২৭ সালের জন্য মেমোরি চিপের বাড়তি দামে স্যামসাংয়ের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হয়েছে অ্যাপল। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য স্যামসাংয়ের পুনর্নির্ধারিত দামে ডিআরএএম…

2027-memory-chip-price-hike-iphone-price-increase-apple-samsung

২০২৭ সালের জন্য মেমোরি চিপের বাড়তি দামে স্যামসাংয়ের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হয়েছে অ্যাপল। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য স্যামসাংয়ের পুনর্নির্ধারিত দামে ডিআরএএম এবং ন্যান্ড মেমোরি কেনার বিষয়টি মেনে নিয়েছে আইফোন (iPhone) নির্মাতা সংস্থাটি। মেমোরির দাম বৃদ্ধির কারণে আগামী বছর আইফোনের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে চলতি ২০২৬ সালে নতুন করে আইফোনের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। অ্যাপল ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের চতুর্থ ত্রৈমাসিকের মেমোরি চাহিদা নির্ধারণ করে ফেলেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisements

২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক থেকেই বাড়তি দাম

ডিজিটাইমসের একটি রিপোর্ট এবং সেমিকন্ডাক্টর ইনসাইডারের এক্স পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য স্যামসাংয়ের বাড়ানো মেমোরি দামে সম্মতি দিয়েছে অ্যাপল। সাপ্লাই চেন সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের তুলনায় ইতিমধ্যেই ডিআরএএম এবং ন্যান্ডের দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অ্যাপল স্যামসাংকে এলপিডিডিআর৫এক্স র‍্যামের জন্য প্রতি গিগাবিটে প্রায় ২ ডলার এবং ন্যান্ড স্টোরেজের জন্য প্রতি গিগাবিটে প্রায় ০.৩৩ ডলার দিতে পারে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এই নতুন দাম ২০২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

   

কেন বাড়ছে মেমোরির দাম?

মেমোরি চিপের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণকে দেখা হচ্ছে। রিপোর্টে ট্রেন্ডফোর্সের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স এবং মাইক্রনের মতো বড় মেমোরি নির্মাতাদের ২০২৭ সালের ডিআরএএম ও এইচবিএম উৎপাদন ক্ষমতার বড় অংশ ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। ক্লাউড পরিষেবা এবং এআই সংস্থাগুলি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে মেমোরির বড় অংশ আগেভাগে নিশ্চিত করে রাখছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে স্মার্টফোন নির্মাতাদের জন্য মেমোরি সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরবরাহ এবং দামের চাপ তৈরি হতে পারে।

Xiaomi 18 Pro-তে বড় চমক, পিছনের ডিসপ্লেতে চলবে ছোট অ্যাপ

Advertisements

আইফোনের দাম বাড়বে কি?

মেমোরির বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত আইফোনের খুচরো দামে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অ্যাপল সাধারণত উপাদানের খরচ বাড়লেও পুরো অতিরিক্ত ব্যয় সরাসরি গ্রাহকের উপর চাপায় না। সংস্থা উৎপাদন খরচ, মুদ্রার বিনিময় হার, বাজারের চাহিদা এবং অন্যান্য উপাদানের দামের পাশাপাশি সামগ্রিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করে। তবে ২০২৭ সালে মেমোরির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে আইফোনের উৎপাদন খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে নতুন মডেলের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

২০২৬ সালেই আইফোনের দাম বেড়েছে

এরই মধ্যে নতুন আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় ১০০ ডলার বেশি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আইফোন ১৭-এর ক্ষেত্রে অ্যাপল স্বাভাবিক নন-প্রো উত্তরসূরি না আনায় সেই মডেলের দামও ১০০ ডলার বাড়ানো হয়েছে। ভারতের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। আইফোন ১৭-এর ২৫৬ জিবি বেস মডেলের দাম বর্তমানে ৯৯,৯০০ টাকা থেকে শুরু। ফলে আগামী বছর মেমোরি চিপের খরচ আরও বাড়লে ভারতীয় বাজারেও আইফোনের দাম নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।

ওপো ও ভিভোর সঙ্গে স্যামসাংয়ের দর-কষাকষি

রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, স্যামসাং ওপো এবং ভিভোর সঙ্গেও মেমোরি চিপের দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করেছে। তবে দুই চিনা স্মার্টফোন নির্মাতা নতুন দাম গ্রহণ করতে রাজি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ওপো এবং ভিভো শেষ পর্যন্ত কোন মেমোরি নির্মাতার কাছ থেকে চিপ সংগ্রহ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অ্যাপল স্যামসাংয়ের সঙ্গে নতুন দামে চুক্তি করায় চিনা স্মার্টফোন সংস্থাগুলির দর-কষাকষির ক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে বলেও ওই সূত্র দাবি করেছে। এমনকি কিছু সংস্থা আন্তর্জাতিক বাজারের মডেলে ব্যবহৃত মেমোরি মডিউল ব্যবহারের কথা ভাবতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

২০২৭ সালে নতুন আইফোন আসছে

অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের আইফোন নিয়েও ইতিমধ্যে একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আইফোন ১৭-এর উত্তরসূরি হিসেবে আইফোন ১৮ এবং নতুন আইফোন এয়ার ২ বাজারে আসতে পারে। এছাড়া এন্ট্রি-লেভেল আইফোন ১৮ই-ও ২০২৭ সালে লঞ্চ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে মেমোরির বাড়তি খরচের প্রভাব এই মডেলগুলির চূড়ান্ত দামে কতটা পড়বে, তা অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক মূল্য ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৬ সালে তাৎক্ষণিক দাম বৃদ্ধির ইঙ্গিত নেই, কিন্তু ২০২৭ সালের শুরু থেকে মেমোরি চিপের বাড়তি খরচ আইফোনের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

Read More: নীতিশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ আকাশ, হার্দিকের পর নতুন অলরাউন্ডার?

Read More:  Jio রিচার্জে বিনামূল্যে এই পরিষেবা! ৪০০০ টাকার সাবস্ক্রিপশন সুবিধা

Read More: ভারতে প্রোটিনের চাহিদা তিনগুণ! দুধ-ডালের সঙ্গে বাড়বে কার্বন নিঃসরণও

Advertisements