মোহন–ইস্টে বারবার বিদেশি কোচের ভরসা কেন? দুই মেরুতে ফুটবলার ও কর্তারা

কলকাতা: ময়দানের দুই ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের কোচিং দলে বারবার বিদেশি কোচ নেওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা (Football Debate) হয়। গত দশকে এই…

why-mohun-bagan-east-bengal-rely-on-foreign-coaches-Football Debate

কলকাতা: ময়দানের দুই ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের কোচিং দলে বারবার বিদেশি কোচ নেওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা (Football Debate) হয়। গত দশকে এই দুটি ক্লাব প্রায় সবসময় বিদেশি কোচের দিকে ঝুঁকেছে। মোহনবাগান এসজি-র বর্তমান হেড কোচ হলেন সার্জিও লোবেরা , যিনি ২০২৫ সালের শেষে ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। ইস্টবেঙ্গলের কোচ বর্তমানে স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজো। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, বিদেশি কোচরা আধুনিক ফুটবল কৌশল, ট্যাকটিক এবং আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন। মোহনবাগান সভাপতি সৃঞ্জয় বসু বলেন, “আমরা চাই আমাদের দল আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল খেলুক। বিদেশি কোচরা এই অভিজ্ঞতা এনে দিতে পারেন।”

Advertisements

তবে সমালোচকেরা বলছেন, দেশি কোচদেরও যথেষ্ট দক্ষতা আছে, যারা স্থানীয় ফুটবল সংস্কৃতি ও খেলোয়াড়দের মানসিকতার সঙ্গে পরিচিত। প্রাক্তন ভারতীয় জাতীয় দলের ফুটবল কোচ সুখবিন্দর সিং মন্তব্য করেন, “আমাদের দেশি কোচদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। তারা স্থানীয় খেলোয়াড়দের ভালোভাবে বুঝতে পারেন। বিদেশি কোচরা অনেক সময় কেবল আধুনিক কৌশল শেখান, কিন্তু খেলোয়াড়দের সাথে মানসিক সংযোগ কম থাকে।” গত আই-লিগ ও ভারত সুপার লিগের সময়, বিদেশি কোচরা দলকে নতুন খেলোয়াড় চুক্তি, ট্যাকটিক্যাল পরিবর্তন ও মাঠের কৌশলে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তবে সমালোচকরা বলেন, এই ধারা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্থানীয় কোচদের বিকাশ থেমে যেতে পারে। দেশি কোচদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

   

ইস্টবেঙ্গলের সহকারি কোচ বিনো জর্জ বলেন, “বিদেশি কোচরা দারুণ, কিন্তু আমাদের যুব ফুটবলাররা যদি দেশের কোচদের অধীনে খেলতে পারে, তাহলে তাদের বিকাশ আরও স্থায়ী হবে। দেশের কোচরা খেলোয়াড়দের ফুটবল জ্ঞান ও স্ট্র্যাটেজি শেখানোর পাশাপাশি মানসিক প্রস্তুতিও দিতে পারেন।” স্থানীয় ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে দেখা যায়, কেউ কেউ বিদেশি কোচদের কাজকে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ কেউ দেশি কোচদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি তৈরি করুক, যাতে বিদেশি ও দেশি কোচ দুজনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।

ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি কোচদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ, তবে দেশি কোচদের অবহেলা না করে প্রশিক্ষণ ও সুযোগ বাড়ানো আবশ্যক। ক্লাবগুলোর উচিত স্থানীয় কোচদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা, যাতে ভবিষ্যতের ফুটবল খেলোয়াড়রা দেশি ও আন্তর্জাতিক কৌশল দুইই শিখতে পারে। ফলে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দলের কোচিং নীতি শুধুই বিদেশি কোচের উপর নির্ভর করা নয়, বরং একটি সংমিশ্রণমূলক ও সমন্বিত নীতি থাকা উচিত, যাতে স্থানীয় কোচরা বিকাশ পায় এবং দলের মানসিক ও কৌশলগত শক্তি বাড়ে।

Advertisements
Advertisements