বাবার ব্রোঞ্জ জয়ের ১৬ বছর পর গ্লাসগোয় রুপো জিতলেন ছেলে অজয় বাবু

দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের সেই গগনভেদী গর্জন যেন ১৬ বছর পর প্রতিধ্বনিত হলো গ্লাসগোর স্কটিশ হাওয়ায়! পদক জয় যেন এই পরিবারের রক্তে মিশে আছে। ফিরে…

valluri-ajay-babu-wins-commonwealth-games-silver-after-father-srinivasa-rao-bronze

দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের সেই গগনভেদী গর্জন যেন ১৬ বছর পর প্রতিধ্বনিত হলো গ্লাসগোর স্কটিশ হাওয়ায়! পদক জয় যেন এই পরিবারের রক্তে মিশে আছে। ফিরে দেখা যাক ২০১০ সালের নয়াদিল্লি কমনওয়েলথ গেমসের (Commonwealth Games) সেই সোনালি অধ্যায়। সেবার ৫৬ কেজি বিভাগের ভারোত্তোলনে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন ভাল্লুরি শ্রীনিবাস রাও।

Advertisements

সময় এগিয়েছে, ১৬ বছরের দীর্ঘ ব্যবধান পেরিয়ে স্থান, কাল, পাত্র বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি পদকের প্রতি এক পরিবারের অদম্য জেদ আর ভারোত্তোলনের প্রতি চরম নিষ্ঠা। ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে সেই ঐতিহ্যের মশাল আরও উজ্জ্বল করে তুললেন তাঁরই সুযোগ্য পুত্র, ভাল্লুরি অজয় বাবু। ৭৯ কেজি বিভাগে দেশের হয়ে লাভ করলেন রুপোর পদক।

   

বাবার দেখানো পথে হাঁটলেও, অজয়ের এই যাত্রাপথ মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। গ্লাসগোর মঞ্চে ৭৯ কেজি বিভাগে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল এককথায় অতিমানবিক। স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি ওজন তুলে গেমসের নতুন রেকর্ড গড়ে সোনা জয়ের প্রবল দাবিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। এরপর ক্লিন অ্যান্ড জার্কে স্নায়ুর চরম চাপ ধরে রেখে ১৮১ কেজির একটি নিখুঁত লিফ্ট সম্পন্ন করেন। সব মিলিয়ে তাঁর মোট উত্তোলিত ওজনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৩০ কেজি। স্ন্যাচে রেকর্ড গড়ার পর ক্লিন অ্যান্ড জার্কের স্থিরতা তাঁকে রুপোর পদক নিশ্চিত করে দেয়।

ভারতীয় ভারোত্তোলনের ইতিহাসে এমন বংশানুক্রমিক সাফল্যের নজির খুব একটা দেখা যায় না। গ্লাসগোর পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে যখন অজয়ের গলায় রুপোর পদক ঝুলছিল, তখন হয়তো আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি শ্রীনিবাস। বাবার ব্রোঞ্জ থেকে ছেলের রুপো পদকের রং হয়তো বদলেছে, কিন্তু দেশের তেরঙ্গাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই পারিবারিক ঐতিহ্য ভারতীয় ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এটি কেবল একটি পদক জয় নয়, বরং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে স্থানান্তরিত হওয়া এক অকৃত্রিম ক্রীড়াসত্তার নিখুঁত রূপকথা।

Advertisements
Advertisements