স্তব্ধ শ্রীভূমি, কন্যাশ্রী কাপে ইউনাইটেডের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা অব্যাহত

কলকাতা: জয়ের হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে কন্যাশ্রী কাপের (Kanyashree Cup) প্রিমিয়ার ডিভিশন এ-তে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব। রবিবার বিকেলে এক কঠিন লড়াইয়ে…

united-kolkata-beat-sribhoomi-kanyashree-cup-third-win

কলকাতা: জয়ের হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে কন্যাশ্রী কাপের (Kanyashree Cup) প্রিমিয়ার ডিভিশন এ-তে দুর্দান্ত ছন্দে এগিয়ে চলেছে ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাব। রবিবার বিকেলে এক কঠিন লড়াইয়ে শক্তিশালী শ্রীভূমি ফুটবল ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় নিশ্চিত করে তারা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন রানি ভৌমিক, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্রশান্ত ভট্টাচার্যের দল।

Advertisements

ম্যাচটি সহজ ছিল না মোটেও। প্রথমার্ধে দুই দলই সমানতালে লড়াই করে এবং খেলা ছিল প্রায় ৫০-৫০। ইউনাইটেড খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি, আবার শ্রীভূমিও বড় কোনও আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। তবে প্রথমার্ধের শেষদিকে ইউনাইটেডের গোলরক্ষক বীথিকা রায় এক নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দলের রক্ষণভাগকে স্বস্তি দেন। তাঁর এই সেভ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে। দ্বিতীয়ার্ধে চেহারা বদলে যায় ম্যাচের। মাঝমাঠে দখল বাড়িয়ে ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ইউনাইটেড। সংগঠিত ও কমপ্যাক্ট ফুটবল খেলতে শুরু করে তারা। উইং দিয়ে আক্রমণের বদলে ছোট পাসে খেলা গড়ে তোলার কৌশল দেখা যায় এদিন। এরই মধ্যে এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে রানি ভৌমিক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। শেষের দিকে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইউনাইটেড।

   

অন্যদিকে শ্রীভূমি সরাসরি আক্রমণভিত্তিক ফুটবল খেলতে থাকে। বল পেলেই দ্রুত ইউনাইটেডের বক্সে পৌঁছনোর চেষ্টা করছিল তারা। ম্যাচের শুরুতেই সুজাতা মাহাতোর চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া তাদের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। তাঁর পরিবর্তে নামেন মমতা মাহাতো, তবে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি।
এই জয়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে ইউনাইটেডের জন্য। কন্যাশ্রী কাপে এটি তাদের মাত্র দ্বিতীয় বছর, আর প্রিমিয়ার ডিভিশনে প্রথম অংশগ্রহণ। তবুও গতবারের চ্যাম্পিয়ন এবং অভিজ্ঞ দল শ্রীভূমিকে হারিয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে তারা। এর আগে চাঁদনী স্পোর্টিং এবং দীপ্তি সংঘকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল দলটি।

ম্যাচে রেফারিং নিয়েও কিছু বিতর্ক তৈরি হয়। একাধিক সিদ্ধান্ত ইউনাইটেডের বিপক্ষে গেলেও তারা মনোবল হারায়নি। কোচ প্রশান্ত ভট্টাচার্য ম্যাচ শেষে বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর দল দারুণ লড়াই করেছে এবং গোল না খাওয়ার কৌশলই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দিয়েছে। এই জয়ের পর ইউনাইটেডের মহিলা দল উদযাপনে মেতে ওঠে। তরুণ ফুটবলারদের এই পারফরম্যান্স বাংলার মহিলা ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন তাদের লক্ষ্য এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও সাফল্য ধরে রাখা।

Advertisements
Advertisements