PV Sindhu: সিন্ধুর ৮-০ রেকর্ড ভাঙল ওয়াং ঝি ই, কোয়ার্টারে ত্রেসা-গায়ত্রী

নয় বছর ধরে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে চীনের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অপরাজিত ছিলেন পিভি সিন্ধু (PV Sindhu,)। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই দাপট থামল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে নবম সাক্ষাতে ওয়াং ঝি…

pv-sindhu-loses-wang-zhi-yi-bwf-world-championship

নয় বছর ধরে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে চীনের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অপরাজিত ছিলেন পিভি সিন্ধু (PV Sindhu,)। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই দাপট থামল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে নবম সাক্ষাতে ওয়াং ঝি ইয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেন ভারতের তারকা শাটলার।

Advertisements

২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত অলিম্পিক এবং বিডব্লিউএফ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে চীনের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সিন্ধুর রেকর্ড ছিল ৯-০। প্যারিস অলিম্পিকে হে বিংজিয়াও সেই ধারায় প্রথম ছেদ ঘটান। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে অবশ্য ওয়াং ঝি ইয়ের বিরুদ্ধে আগের আটটি ম্যাচেই জিতেছিলেন সিন্ধু। এবার নবম সাক্ষাতে সেই রেকর্ডও বদলে গেল।

   

টানটান লড়াইয়ে ম্যাচের মোড় বদলে গেল শেষদিকে

দিল্লিতে দর্শকদের সামনে ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দীর্ঘ র‌্যালি, দ্রুত আক্রমণ এবং একাধিক নাটকীয় মুহূর্তে ম্যাচ জমে ওঠে। তৃতীয় গেমে ১৬-১৫ অবস্থার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। নিজের খেলায় কিছুটা অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন বলে ম্যাচের পর স্বীকার করেন সিন্ধু। অন্যদিকে ওয়াং ঝি ই ধৈর্য ধরে র‌্যালি চালিয়ে যেতে থাকেন। চিনা শাটলার দু’বার পায়ে ক্র্যাম্পের কারণে কোর্টে পড়ে যান। দু’বারই চিকিৎসকের সাহায্য নেন তিনি। এরপর কষ্ট নিয়েও আবার কোর্টে ফিরে ম্যাচ চালিয়ে যান।

মেডিক্যাল বিরতি নিয়ে প্রশ্ন সিন্ধুর

ওয়াং ঝি ইয়ের দু’টি মেডিক্যাল ব্রেক ম্যাচের পরে বিতর্কের বিষয় হয়ে ওঠে। সিন্ধু সরাসরি বলেন, তিনি নিশ্চিত নন চিনা খেলোয়াড় সত্যিই চোট পেয়েছিলেন কি না। সিন্ধুর বক্তব্য ছিল, এটি তাঁর কৌশলও হতে পারে এবং সেটি তাঁর খেলার অংশ কি না, তা বলা কঠিন। তবে ওয়াং ঝি ই অভিযোগটি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি সত্যিই চোট পেয়েছিলেন।  চিনা খেলোয়াড় বলেন, ওই মুহূর্তে তাঁর একমাত্র চিন্তা ছিল কীভাবে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দেওয়া যায়। খেলোয়াড়রা কখনও কখনও এমন কৌশল ব্যবহার করেন, সে বিষয়ে তিনি অবগত থাকলেও তাঁর ক্ষেত্রে চোটটি সত্যিই হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

Advertisements

৫৪ শটের র‌্যালি বদলে দিল ম্যাচের গতি

তৃতীয় গেমের শেষদিকে ম্যাচ আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়াং ঝি ই কোর্টে ফিরে আসার পর র‌্যালিগুলি দীর্ঘ হতে থাকে এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে ৫৪ শটের দীর্ঘ র‌্যালি হয়। সেটিও জিতে নেন ওয়াং ঝি ই। এরপর আবারও কোর্টের কাছে পড়ে যান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেকে সামলে ম্যাচ চালিয়ে যান বিশ্বের তিন নম্বর এই শাটলার। প্রথম ম্যাচ পয়েন্টেই নিখুঁত একটি শট খেলে সিন্ধুর অভিযান শেষ করে দেন ওয়াং ঝি ই। ফলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে চিনা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে সিন্ধুর আগের আটটি জয়ের ধারাও শেষ হল।

হার মেনে এশিয়ান গেমসের দিকে তাকাচ্ছেন সিন্ধু

হারের পর সিন্ধু বলেন, তিনি অবশ্যই হতাশ। তবে খেলাধুলায় হার-জিত দুটোই স্বাভাবিক এবং হার থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ থেকে বিদায়ের পর এখন তাঁর নজর এশিয়ান গেমসের দিকে।

আয়ুশ শেট্টিরও বিদায়

সিন্ধুর আগে পুরুষদের সিঙ্গলসে আয়ুশ শেট্টির অভিযানও শেষ হয়ে যায়। ইন্দোনেশিয়ার আলভি ফারহানের কাছে সরাসরি গেমে হেরে যান তিনি। প্রথম রাউন্ডেই বিশ্ব নম্বর এক এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শি ইউ কিকে হারিয়ে দারুণ চমক দিয়েছিলেন শেট্টি। কিন্তু পরের ম্যাচে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। আলভি ফারহানের কাছে তিনি ১৯-২১, ১১-২১ ব্যবধানে হেরে যান।

১১ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতীয় মহিলা ডাবলস জুটি

সিন্ধু এবং শেট্টির হারের পর ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের দিনটা বাঁচিয়ে দেন ত্রেসা জলি ও গায়ত্রী পুল্লেলা গোপীচাঁদ। সপ্তম বাছাই জাপানের রিন ইওয়ানাগা ও কি নাকানিশিকে ২১-১৬, ২১-১২ ব্যবধানে হারিয়ে মাত্র ৪৪ মিনিটে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যান তাঁরা।

এর ফলে ১১ বছর পর বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের শেষ আটে জায়গা করে নেওয়া প্রথম ভারতীয় মহিলা ডাবলস জুটি হলেন ত্রেসা-গায়ত্রী। এর আগে ২০১৫ সালে জ্বালা গুটা ও অশ্বিনী পোনাপ্পা শেষ আটে উঠেছিলেন।

গায়ত্রী জানান, দিল্লিতে দেশের দর্শকদের সামনে খেলার কারণে চাপ থাকলেও সেই চাপ তাঁরা উপভোগ করছেন। প্রথম গেমে ১৩-১৬ পিছিয়ে পড়ার পর কোচদের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন তাঁরা।

কোয়ার্টার ফাইনালে সাত্ত্বিক-চিরাগও

পুরুষদের ডাবলসে সাত্ত্বিকসাইরাজ রাঙ্কিরেড্ডি ও চিরাগ শেট্টিও কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। মালয়েশিয়ার জুনাইদি আরিফ ও ইয়াপ রয় কিংয়ের বিরুদ্ধে প্রথম গেমে দু’টি গেম পয়েন্ট বাঁচিয়েও পিছিয়ে পড়েছিলেন তাঁরা। দ্বিতীয় গেমে ১৬-১৮ পিছিয়ে থেকেও শেষ ছয় পয়েন্টের মধ্যে পাঁচটি জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান। তৃতীয় গেমেও ১২-১৫ পিছিয়ে ছিলেন সাত্ত্বিক-চিরাগ। পরে ১৭-১৭ সমতা ফেরানোর পর টানা চার পয়েন্ট জিতে ম্যাচ নিজেদের করে নেন তাঁরা। ফলে সিন্ধু ও আয়ুশ শেট্টির বিদায়ের দিনেও ভারতীয় শিবিরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আনন্দ নিয়ে এল দুই ডাবলস জুটি।

Advertisements