কলকাতা ডার্বির আগে যুবভারতীতে পেপারলেস টিকিট, স্ট্যাম্পিংয়ের ঝামেলা সম্পূর্ণ শেষ

বাবন আদক, কলকাতা: ডুরান্ড কাপের কলকাতা ডার্বি মানেই ময়দানে উন্মাদনার পারদ আকাশছোঁয়া। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল ভারতীয় ফুটবলের এই চিরন্তন দ্বৈরথ চাক্ষুষ করতে সমর্থকদের টিকিটের হাহাকার…

paperless-ticket-system-launched-yuvabharati-durand-cup-derby

বাবন আদক, কলকাতা: ডুরান্ড কাপের কলকাতা ডার্বি মানেই ময়দানে উন্মাদনার পারদ আকাশছোঁয়া। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল ভারতীয় ফুটবলের এই চিরন্তন দ্বৈরথ চাক্ষুষ করতে সমর্থকদের টিকিটের হাহাকার নতুন কিছু নয়। তবে এই আবেগের মাঝেও দীর্ঘদিন ধরে কাঁটা হয়ে ছিল একটি বিষয় অনলাইনে টিকিট কাটার পরও সশরীরে গিয়ে স্ট্যাম্পিং করার চরম হয়রানি। অবশেষে সেই দীর্ঘকালীন ভোগান্তির পাকাপাকি অবসান ঘটতে চলেছে। হাই-ভোল্টেজ বড় ম্যাচের আগেই রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন ফুটবলপ্রেমীরা।

Advertisements

এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজনে এবার প্রযুক্তিগত যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার এবং আয়োজক ভারতীয় সেনা। যুবভারতীতে মেগা-ম্যাচের আগেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করে জানিয়ে দিলেন, কলকাতা ময়দানে এই প্রথমবার চালু হচ্ছে ‘পেপারলেস টিকিট’ বা কাগজবিহীন ডিজিটাল টিকিট ব্যবস্থা।

   

এই প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “আমি আমাদের দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। আমি ধন্যবাদ জানাই ভারতীয় সেনা এবং যুবকল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরকে। আমরা সকলে মিলে প্রথমবারের মতো এই পেপারলেস টিকিট ব্যবস্থা শুরু করেছি।”

ময়দানের পরিসংখ্যান বলছে, ডার্বির আগে স্রেফ টিকিটে স্ট্যাম্পিংয়ের জন্যই সমর্থকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে জলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। সেই সেকেলে প্রথাকে কার্যত জাদুঘরে পাঠিয়ে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “টিকিটে স্ট্যাম্প মারার জন্য আর দপ্তর বা কাউন্টারে ছোটাছুটি করতে হবে না। আপনাদের কাছে যে টিকিট আছে, তা নিয়েই সরাসরি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন।”

Advertisements

প্রশাসনিক পরিভাষায় যাকে বলে ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’, ঠিক সেই ধাঁচেই ক্রীড়ামন্ত্রীর গলায় শোনা যায় আধুনিকতার সুর, “স্টেডিয়ামে যাওয়ার প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ (ইজ অফ গোয়িং টু দ্য স্টেডিয়াম) হয়ে গিয়েছে। তাই সবাইকে বলব, আসুন স্টেডিয়ামে এসে ফুটবল উপভোগ করুন।”
ভারতীয় সেনা এবং রাজ্যের ক্রীড়া দপ্তরের এই যৌথ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল। স্ট্যাম্পিংয়ের লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর ক্লান্তি ভুলে, এবার শুধু গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলের জন্য গলা ফাটানোর পালা।

Advertisements