মুস্তাফিজুরের পাশে দাঁড়িয়ে বিসিসিআইকে তোপ দাগলেন কংগ্রেস সাংসদ

আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) দলে না রাখার নির্দেশ ঘিরে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে…

mustafizur-rahman-ipl-2026-bcci-controversy-shashi-tharoor

আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) দলে না রাখার নির্দেশ ঘিরে তীব্র বিতর্কে জড়িয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (KKR) ইতিমধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মুস্তাফিজকে খেলানো যাবে না। আর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। ক্রিকেটে রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

Advertisements

ভালো খেলেও হল না জায়গা, নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিরাট চমক দিল BCCI

   

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে থারুর লেখেন, “আমরা কাকে শাস্তি দিচ্ছি? একটি দেশকে, একজন ব্যক্তিকে নাকি তার ধর্মকে?” একই সঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, যদি মুস্তাফিজুর জায়গায় লিটন দাস বা সৌম্য সরকারের মতো অন্য কোনও বাংলাদেশি ক্রিকেটার থাকতেন, তাহলেও কি একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হত?

মুস্তাফিজুর নেই, বিকল্প হিসেবে KKR নজরে এই তিন শক্তিশালী পেসার!

Advertisements

থারুরের মতে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টির সঙ্গে একজন ক্রিকেটারের পেশাগত পরিচয়কে জড়িয়ে ফেলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তিনি আগেও স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, “মুস্তাফিজুর একজন ক্রিকেটার। তিনি কাউকে আক্রমণ করেননি, ঘৃণা ছড়াননি বা কোনও হিংসাকে সমর্থন করেননি। একজন ক্রীড়াবিদকে এভাবে শাস্তি দেওয়া অনুচিত।”

কংগ্রেস সাংসদের আশঙ্কা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁর মতে, খেলাধুলার ক্ষেত্রে ভারতের আরও উদার মনোভাব দেখানো উচিত।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আঁচ পড়েছে ক্রিকেটের ময়দানেও। এই পরিস্থিতিতে আইপিএলে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ায় একাংশের আপত্তি ছিল আগেই। এমনকী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির তরফে প্রবল প্রতিবাদ দেখা যায়। চরম বিতর্কিত মন্তব্যও সামনে আসে নাইট মালিক শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়।

এবছর আইপিএল নিলামে ৯.২ কোটি টাকায় মুস্তাফিজকে দলে নিয়েছিল কেকেআর। বিসিসিআইয়ের অনুমোদন মেনেই এই চুক্তি হয়েছিল বলে দাবি ফ্র্যাঞ্চাইজির ঘনিষ্ঠ মহলের। সেই কারণেই পরে হঠাৎ করে খেলোয়াড় বাদ দেওয়ার নির্দেশে প্রশ্ন উঠছে বোর্ডের ভূমিকা নিয়েও।

বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মুস্তাফিজুরকে ছাঁটাইয়ের পর বিরাট ঘোষণা শাহরুখের দলের

শুধু শশী থারুর নন, বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রাশিদিও। তাঁর বক্তব্য, “যদি এমন সিদ্ধান্ত নিতেই হত, তাহলে নিলামের আগেই নেওয়া উচিত ছিল। পরে একজন খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া বিভাজনমূলক মনোভাবেরই পরিচয়।”

Advertisements