বাবান আদক, কলকাতা: চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) নিজেদের গত ম্যাচে আট গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, মোহনবাগানও (Mohun Bagan) কি বেশি গোল করার কোনও বিশেষ পরিকল্পনা করছে? এই জল্পনায় জল ঢেলে কোচ প্যানাজিওটিস ডিলম্পেরিস (Panagiotis Dilmperis) অত্যন্ত পেশাদার ভঙ্গিতে বলেন, “অন্য দল কটা গোল করল, তার সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি গোলের তুল্যমূল্য বিচারে বা অন্যের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করায় বিশ্বাসী নই। আমার ফোকাস শুধুমাত্র দলের সৃজনশীলতা এবং ফুটবলের চারটি পর্যায়ে আমাদের ফুটবলাররা কেমন খেলছে, তার ওপর। আমরা নিজেদের খেলায় মন দিতে চাই, সুযোগ তৈরি করতে চাই এবং প্রতিপক্ষকে সম্মান জানিয়েই গোল করতে চাই।”
ডুরান্ড কাপের পরবর্তী ম্যাচে এক ‘অচেনা’ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চলেছে সবুজ মেরুন। প্রতিপক্ষ কে, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন বাগান কোচ। বরং নিজেদের আগ্রাসী রণনীতি বাস্তবায়নের দিকেই তাঁর কড়া নজর। ডিলম্পেরিস ভালো করেই জানেন, এই ম্যাচে প্রতিপক্ষ হয়তো নিজেদের অর্ধে জমাট রক্ষণ তৈরি করে খেলবে। এই ‘কম্প্যাক্ট’ রক্ষণ ভাঙার জন্য উইং এবং মাঝমাঠ উভয় প্রান্ত থেকেই আক্রমণের ঝড় তুলতে চান তিনি। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “আমাদের প্রচুর সুযোগ তৈরি করতে হবে এবং হাই-প্রেস ফুটবল খেলতে হবে, যাতে প্রতিপক্ষ দম ফেলারও সুযোগ না পায়। বল হারালে কত দ্রুত আমরা রক্ষণে ফিরছি (ডিফেন্ডিং ট্রানজিশন), সেটাই এই ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।”
ফিফার বিশ্বকাপ বিক্রির পরিকল্পনা আটকালেন কারা? আলোচনায় দুই মহিলা প্রশাসক
বড় দল সব প্রতিপক্ষকেই সমান সম্মান করে। ডিলম্পেরিসের মতে, তাঁরা মোহনবাগান, তাই আত্মবিশ্বাস তাঁদের স্বাভাবিক সঙ্গী, তবে ম্যাচের প্রথম সেকেন্ড থেকেই পূর্ণ ফোকাস ধরে রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। ডুরান্ড কাপের গ্রুপ পর্বকে ফুটবলারদের পরখ করে নেওয়ার আদর্শ মঞ্চ হিসেবেই দেখছেন তিনি। তাই প্রথম একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, স্কোয়াডের সব ফুটবলারকেই তিনি মাঠে দেখতে চান। ডার্বি জয়ের পর গত দু’সপ্তাহে দল তাঁর আক্রমণাত্মক কৌশল কতটা রক্তে মিশিয়ে নিতে পারল, ডুরান্ডের এই মঞ্চে সেটাই কড়া আতসকাঁচের তলায় যাচাই করে নিতে চান প্যানাজিওটিস ডিলম্পেরিস।
খালি পায়ে ইতিহাস, ১১৫ বছর পরেও অমর মোহনবাগান দিবসের গৌরব
