বেন স্টোকস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ইংল্যান্ডের নতুন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে অভিজ্ঞ জো রুটকেই (Joe Root ) বেছে নিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB)। অনেকেরই ধারণা ছিল, সীমিত ওভারের বর্তমান অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকই হয়তো এবার টেস্ট দলের নেতৃত্ব পাবেন। তবে সেই পথে না হেঁটে নির্বাচকরা কেন রুটের উপর আস্থা রাখলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইংল্যান্ডের জাতীয় নির্বাচক মার্কাস নর্থ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নর্থ জানান, একসঙ্গে তিনটি ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব সামলানো যে কোনও ক্রিকেটারের জন্যই অত্যন্ত কঠিন। সেই কারণেই ২৭ বছর বয়সি হ্যারি ব্রুকের উপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে অভিজ্ঞ জো রুটকে আবার টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে হ্যারি ব্রুক ইংল্যান্ডের একদিনের আন্তর্জাতিক (ODI) এবং টি-২০ দলের অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের টি-২০ দল ইতিমধ্যেই বিশ্বের এক নম্বর র্যা ঙ্কিংয়ে পৌঁছেছে। আগামী বছরের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রুকের নেতৃত্বে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
মার্কাস নর্থ বলেন, হ্যারি ব্রুক তিনটি ফরম্যাটেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। সাদা বলের ক্রিকেটে তাঁর নেতৃত্ব প্রতিটি সিরিজের সঙ্গে আরও পরিণত হয়েছে। বিশ্বকাপের দিকে নজর রেখে তিনি ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে কাজ করছেন। তাই এই মুহূর্তে তাঁর উপর টেস্ট দলের অধিনায়কত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
তবে নর্থ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে ব্রুক টেস্ট দলের অধিনায়ক হবেন না, এমন নয়। তাঁর কথায়, হ্যারি ব্রুকের সময় অবশ্যই আসবে। কিন্তু আপাতত জো রুটের মতো অভিজ্ঞ একজন ক্রিকেটারকে পাওয়া ইংল্যান্ডের জন্য বড় সুবিধা। একই সময়ে ব্রুক সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজের নেতৃত্ব আরও পরিণত করতে পারবেন।
৩৫ বছর বয়সি জো রুট এর আগে ২০১৭ সালে প্রথমবার ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হন। তাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড মোট ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি রেকর্ড। সেই সময়ে দল ২৮টি ম্যাচে জয় পেয়েছিল। তবে ২০২২ সালের এপ্রিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ১০ উইকেটের হারের পর তিনি অধিনায়কের পদ ছেড়ে দেন।
এবার আবারও টেস্ট দলের দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামবেন রুট। ইংল্যান্ডের নির্বাচকদের বিশ্বাস, তাঁর অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা দলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, হ্যারি ব্রুককে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করাই এখন ইংল্যান্ডের মূল লক্ষ্য।
