বাবান আদক, কলকাতা ডেস্ক: ম্যাচ জিতল ভারত! তবে ২০৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে একেবারে শেষলগ্নে মহম্মদ সিরাজের (Mohammed Siraj) ব্যাটে যে এমন রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার অপেক্ষা করে থাকবে, তা হয়তো কলম্বোর মাঠে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) একাদশের বিরুদ্ধে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের শেষ দিনে ৬ উইকেটে দাপুটে জয় তুলে নিল টিম ইন্ডিয়া।
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের রান তাড়ার চিত্রটা ছিল বেশ আকর্ষণীয়। প্রথম ইনিংসে খাতা খুলতে না পারার আক্ষেপ দ্বিতীয় ইনিংসে সুদে-আসলে মিটিয়ে নেন তরুণ ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল। মাত্র ৪৩ বলে বিধ্বংসী ৬১ রান করে তিনি রিটায়ার্ড হন। অন্যদিকে, আঙুলের চোটের কারণে প্রথম দু’দিন মাঠে না নামায় যাঁকে নিয়ে প্রবল উৎকণ্ঠা ছিল, সেই অধিনায়ক শুভমন গিল সাবলীল ৪৪ রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি টেস্ট সিরিজের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কভার দিয়ে মারা তাঁর বাউন্ডারিগুলো ছিল দেখার মতো।
দুই ওপেনার ফেরার পর, প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়া দুই উইকেটকিপার ব্যাটার ঋষভ পন্থ এবং ধ্রুব জুরেল ক্রিজে কিছুটা সময় কাটান। দু’জনে মিলে জুটিতে ৪৫ রান যোগ করেন। এরপর রবীন্দ্র জাডেজা এবং মানব সুতার কিছুক্ষণ ক্রিজে টিকে থেকে রিটায়ার্ড হন। তবে আসল চমকটা দেখান পেসার সিরাজ। সোনাল দিনুশাকে একটি ওভার বাউন্ডারি মারার ঠিক পরের ওভারেই স্পিনার কেশারা নুয়ান্তাকে টানা তিনটি বিশাল ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন তিনি।
Also Read | টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতে ইতিহাস মীরাবাঈয়ের
দ্বিতীয় ইনিংসে সিরাজরা দ্রুত রান তুলে ম্যাচ জেতালেও, এই প্রস্তুতি ম্যাচের মূল ভিতটা তৈরি হয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। এসএলসি একাদশ তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৬৩ রান তোলার পর, ভারত ৬ উইকেটে ৩৫৭ রান তুলেছিল। প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে। সাই সুদর্শনের অনুপস্থিতিতে তিন নম্বরে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেন দেবদত্ত পাডিক্কাল। স্পিন এবং পেসের বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ১৪২ রানের ইনিংসটি ছিল একেবারে নিখুঁত।
Also Read | বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা
১৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন কিছুটা চাপে, তখন পাডিক্কালের সঙ্গে ৭২ রানের জুটির পাশাপাশি নিজে দায়িত্বশীল ৬৩ রান করে দলের হাল ধরেন জাডেজা। টপ অর্ডারে কেএল রাহুল ৪০ রান করেন এবং শেষের দিকে মানব সুতার ৯০ বল খেলে লড়াকু ৪১ রান করে দলের স্কোর সাড়ে তিনশো পার করতে সাহায্য করেন। তবে প্রথম ইনিংসে ভারতীয় শিবিরের সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা ছিল পন্থ (২) এবং জুরেলের (১) চরম ব্যর্থতা।
সব মিলিয়ে, পাডিক্কালের জমি তৈরি করে দেওয়া এবং সিরাজের ফিনিশিং আসন্ন সিরিজের আগে ভারতীয় শিবিরকে আত্মবিশ্বাসের শিখরেই রাখছে।
