পিছিয়ে পড়েও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন, জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার

FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই ফুটবলপ্রেমীরা উপহার পেলেন দারুণ এক লড়াই। মেক্সিকোর মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে…

South Korea

FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই ফুটবলপ্রেমীরা উপহার পেলেন দারুণ এক লড়াই। মেক্সিকোর মাঠে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে পড়েও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে ২-১ গোলে জয় তুলে নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচে মোট তিনটি গোল হলেও তার চেয়েও বেশি ছিল উত্তেজনা, আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ এবং অসংখ্য গোলের সুযোগ। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের লড়াই ম্যাচটিকে অন্য মাত্রা দেয়।

Advertisements

ম্যাচের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে চেক রক্ষণকে চাপে রাখে। নবম মিনিটেই তারা একটি বিপজ্জনক ফ্রি-কিক পায়। এরপর কর্নার এবং দূরপাল্লার শট থেকে একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে। মাঝমাঠে দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখে কোরিয়ার ফুটবলাররা প্রতিপক্ষের অর্ধে নিয়মিত আক্রমণ শানাতে থাকেন। বলের দখল, পাসের গতি এবং আক্রমণের ধার—সব ক্ষেত্রেই তারা এগিয়ে ছিল।

   

প্রথম কুড়ি মিনিট কার্যত দক্ষিণ কোরিয়ার একচেটিয়া দাপটেই কাটে। তবে ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় চেক প্রজাতন্ত্র। রক্ষণ সামলে পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে তারা। কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়, যা কোরিয়ার রক্ষণকে সতর্ক করে দেয়। তবু দুই দলের কেউই প্রথমার্ধে গোলের মুখ খুলতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়া শুরু থেকেই গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে গোল করতে না পারায় হতাশা বাড়তে থাকে তাদের মধ্যে। ঠিক সেই সময়েই আসে বড় ধাক্কা। ম্যাচের ঊনষাটতম মিনিটে চেক প্রজাতন্ত্র এগিয়ে যায়। একটি চমৎকার থ্রো-ইন থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে নিখুঁত হেডে জালে পাঠান লাদিস্লাভ ক্রেজচি। হঠাৎ করেই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়।

Advertisements

তবে এই গোল দক্ষিণ কোরিয়াকে ভেঙে দেয়নি। বরং আরও আগ্রাসী করে তোলে। গোল শোধ করার লক্ষ্যে তারা আরও দ্রুত গতিতে আক্রমণ শুরু করে। চেক রক্ষণকে কার্যত নিজেদের বক্সে আটকে ফেলে কোরিয়ানরা। অবশেষে তাদের সেই চাপ ফল দেয়। সাতষট্টিতম মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে সমতা ফেরায় দক্ষিণ কোরিয়া। গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে বল জালে জড়িয়ে পড়তেই গ্যালারিতে উল্লাসের ঢেউ ওঠে।

সমতা ফেরানোর পরও থেমে থাকেনি দক্ষিণ কোরিয়া। জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। ম্যাচ যত শেষের দিকে এগোতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা। অবশেষে আশি মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে হাইঅন দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। সেই গোলেই এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া।

বাকি সময়ে চেক প্রজাতন্ত্র সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও কোরিয়ার রক্ষণ আর কোনো সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজতেই আনন্দে ফেটে পড়েন কোরিয়ান ফুটবলাররা। অনেকের চোখে দেখা যায় আবেগের অশ্রু। বিশ্বকাপের মঞ্চে লড়াই করে ফিরে আসার এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই এনে দেয়নি, বরং দক্ষিণ কোরিয়ার আত্মবিশ্বাসকেও অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্বকাপের শুরুতেই তারা বুঝিয়ে দিল, তাদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

Advertisements