কলকাতা: সোমবার ফের কলকাতা ডার্বির (Kolkata Derby,) উত্তেজনায় সরগরম হতে চলেছে বারাসত। বারাসত বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে বিকেল ৫টায় মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। ম্যাচ ঘিরে প্রায় ১০ হাজার দর্শক সমাগমের সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণে বড়সড় ব্যবস্থা নিয়েছে বারাসত পুলিশ জেলা। ডার্বির জন্য প্রায় ১১০০ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে থাকবেন ৬ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আধিকারিক। বারাসত পুলিশ জেলার বাইরে থেকেও অতিরিক্ত পুলিশকর্মী আনা হচ্ছে।
ইংরেজিতে পড়তে ক্লিক করুন: East Bengal vs Mohun Bagan: Major Traffic Update in Barasat to Stadium Entry Rules
বিকেল ৩টা থেকে বারাসতে পণ্যবাহী গাড়িতে নিষেধাজ্ঞা
ম্যাচের সময় যানজট নিয়ন্ত্রণে সোমবার বারাসতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
- বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলে বিধিনিষেধ থাকবে।
- স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
- স্টেডিয়ামের সামনে কোনও জমায়েত করতে দেওয়া হবে না।
- ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকদের জন্য আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
- স্টেডিয়ামের ঠিক উল্টো দিকে থাকা স্কুলের পড়ুয়াদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার পর বিশেষ ট্রাফিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে।
পুলিশের তরফে সাধারণ যাত্রী ও গাড়িচালকদের আগেভাগে যাত্রার পরিকল্পনা করার এবং এলাকায় পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিকেল ৩টা থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা বলয়
প্রায় আট বছর পর বারাসত স্টেডিয়ামে এত বড় ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচ হওয়ায় নিরাপত্তায় কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না পুলিশ। কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টা থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা বলয় কার্যকর হবে। দর্শকদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্টেডিয়ামের ভিতর ও বাইরে একাধিক স্তরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্টেডিয়ামে ঢুকতে হবে তিন স্তরের নিরাপত্তা পরীক্ষা
দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশের আগে তিনটি ধাপে নিরাপত্তা পরীক্ষা দিতে হবে।
প্রথম ধাপ: প্রথমে টিকিট যাচাই করা হবে। এরপর দর্শকদের নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে পাঠানো হবে।
দ্বিতীয় ধাপ:পুলিশ দর্শকদের ব্যাগ ও সঙ্গে থাকা অন্যান্য সামগ্রী বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করবে।
তৃতীয় ধাপ: শেষ ধাপে আয়োজকদের তরফে দর্শকের QR কোড যাচাই করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে তবেই স্টেডিয়ামে প্রবেশের অনুমতি মিলবে।
ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকদের জন্য পৃথক প্রবেশের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
কী কী জিনিস স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া যাবে না?
দর্শকদের বেশ কিছু জিনিস নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশেষ করে জলের বোতল ও ছাতা নিয়ে ঢোকা যাবে না। তবে স্টেডিয়ামের ভিতরেই পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে। মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করা যাবে, তবে অন্যান্য দর্শকের মতোই নিরাপত্তা পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। পুলিশের পরামর্শ, গেটে গিয়ে যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য দর্শকরা আগেই নিষিদ্ধ সামগ্রীর তালিকা সম্পর্কে জেনে নিন।
চারটি প্রবেশপথ, জরুরি পরিস্থিতির জন্য আরও দুটি গেট
দর্শকদের প্রবেশের জন্য মোট চারটি গেট ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত দর্শকদের বের করে দেওয়ার জন্য আরও দুটি গেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সমর্থকদের বসার জায়গা, VIP জোন এবং জরুরি অবস্থায় দর্শকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য পৃথক পরিকল্পনাও তৈরি করেছে প্রশাসন। ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামে অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত থাকবে।

প্রায় ১০ হাজার টিকিট
ডার্বির জন্য প্রায় ১০ হাজার টিকিট রাখা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক সমর্থক মাঠে আসবেন বলে অনুমান করে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে পুলিশ। স্টেডিয়ামের আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বোঝাতে একটি সিকিউরিটি ম্যাপও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং দর্শকদের কোন কোন সামগ্রী নিয়ে ঢোকা যাবে না, সেই সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আগেই স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরামর্শ
ম্যাচ শুরু বিকেল ৫টায়। তার আগে ট্রাফিক বিধিনিষেধ, ভিড় এবং তিন স্তরের নিরাপত্তা পরীক্ষার কারণে গেটে সময় লাগতে পারে। তাই ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমর্থকদের অনেকটা আগে স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। পুলিশের ট্রাফিক নির্দেশিকা ও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ডার্বি উপভোগ করার আবেদন জানানো হয়েছে।
