ফিলিপাইনের টেনিসে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন আলেকজান্দ্রা ইআলা (Alexandra Eala)। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি প্রথম ফিলিপিনো খেলোয়াড় হিসেবে WTA ট্যুরের একক শিরোপা জয়ের নজির গড়েছেন। সোমবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত মুবাদালা ডিসি ওপেন (Mubadala DC Open)-এর রোমাঞ্চকর ফাইনালে তিনি টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই এবং বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের অন্যতম জেসিকা পেগুলাকে ৪-৬, ৬-৪, ৬-০ ব্যবধানে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেন।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম WTA একক ট্রফিই জিতলেন না, ফিলিপাইনের টেনিস ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখলেন ইআলা। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ফাইনালেও অসাধারণ প্রত্যাবর্তন করে তিনি প্রমাণ করলেন, মহিলাদের টেনিসে আগামী দিনের অন্যতম বড় তারকা হওয়ার সব গুণই তাঁর রয়েছে।
ফাইনালের লড়াই অবশ্য একদিনে শেষ হয়নি। রবিবার ম্যাচ চলাকালীন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন জেসিকা পেগুলা ৬-৪, ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। অনেকের ধারণা ছিল, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পেগুলার হাতেই থাকবে। কিন্তু সোমবার খেলা পুনরায় শুরু হতেই সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় দেখা যায় আলেকজান্দ্রা ইআলাকে।
Also Read | NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?
আক্রমণাত্মক বেসলাইন শটে তিনি ধীরে ধীরে ম্যাচের গতি নিজের দিকে টেনে আনেন। দ্বিতীয় সেট ৬-৪ ব্যবধানে জিতে সমতা ফেরানোর পর নির্ধারক সেটে পেগুলাকে কার্যত কোনও সুযোগই দেননি। টানা আটটি গেম জিতে ৬-০ ব্যবধানে শেষ সেট দখল করে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য নিশ্চিত করেন তিনি।
শিরোপা জয়ের পর আবেগপ্রবণ হয়ে নিজের পরিবার এবং কোচিং টিমকে ধন্যবাদ জানান ইআলা। তিনি বলেন, “ধন্যবাদ জানানোর মতো মানুষের তালিকা অনেক বড়। তবে সবার আগে রয়েছেন আমার পরিবার, আমার মা, বাবা, ভাই এবং আমার টিম। ওরাই প্রতিদিন আমার সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করে এবং আমাকে অনুভব করায় যে এই কঠিন পথচলায় আমি কখনও একা নই।” তাঁর মতে, পরিবারের নিরন্তর সমর্থনই তাঁকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে।
Also Read | মহিলা কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্থা মামলা: অবশেষে বেকসুর খালাস ব্রিজ ভূষণ
ওয়াশিংটনে ইআলার এই শিরোপা জয় ছিল এক কথায় স্বপ্নের মতো। ফাইনালে বিশ্ব তিন নম্বর জেসিকা পেগুলাকে হারানোর আগে তিনি সেমিফাইনালে সাবেক বিশ্ব এক নম্বর নাওমি ওসাকাকে সরাসরি সেটে পরাজিত করেন। এছাড়া টুর্নামেন্টে এলিনা সভিতোলিনা-র বিরুদ্ধেও গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেন। পেগুলার বিরুদ্ধে এই জয় ছিল ২০২৬ মৌসুমে ইআলার সপ্তম টপ-১০ খেলোয়াড়কে হারানোর সাফল্য, যা তাঁর দ্রুত উন্নতিরই প্রমাণ।
চলতি বছর এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন এই তরুণ টেনিস তারকা। উইম্বলডনে ইগা শিওন্তেককে হারিয়ে তিনি চতুর্থ রাউন্ডে পৌঁছে চমক দিয়েছিলেন। সেই পারফরম্যান্সের পর অনেকেই মনে করেছিলেন, বড় মঞ্চে সাফল্যের সম্ভাবনা তাঁর রয়েছে। ডিসি ওপেনের শিরোপা সেই সম্ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিল।
মাত্র ২১ বছর বয়সে আলেকজান্দ্রা ইআলা দেখিয়ে দিলেন, তিনি শুধু বড় বড় প্রতিপক্ষকে হারানোর সামর্থ্যই রাখেন না, গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট জিতে ট্রফিও ঘরে তুলতে পারেন। তাঁর এই ঐতিহাসিক জয় ফিলিপাইনের টেনিসে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক টেনিসে দেশের উপস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
