NASA: মহাকাশের রহস্য উন্মোচন এবং মহাবিশ্বের প্রসারণ বোঝার লক্ষ্যে নাসা আরও একটি বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। হাবল ও জেমস ওয়েবের মতো শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলোর ধারাবাহিকতায়, নাসা এখন তাদের নতুন ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’ উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পৃথিবী থেকে ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থানকারী এই টেলিস্কোপটি একবারে মহাকাশের এমন দৃশ্য ধারণ করতে সক্ষম হবে, যা কভার করতে হাবল টেলিস্কোপের ১০০টি আলাদা পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হতো।
আগামী ৩০শে আগস্ট, রবিবার মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে নাসার নতুন ও অত্যন্ত শক্তিশালী ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ—’ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। এই টেলিস্কোপটিকে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ কিলোমিটার দূরে স্থাপন করা হবে। এই উৎক্ষেপণের জন্য নাসা ও স্পেসএক্স ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের ‘লঞ্চ কমপ্লেক্স ৩৯এ’ (Launch Complex 39A)-কে নির্বাচন করেছে। স্পেসএক্স-এর ‘ফ্যালকন হেভি’ রকেটের মাধ্যমে সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে (ইডিটি) টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণ করা হবে।
এর দৃশ্যমান এলাকার (field of view) পরিধি হাবলের তুলনায় ১০০ গুণ বেশি হবে।
নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামানুসারে এই টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে; তিনি ‘হাবলের জননী’ (Mother of Hubble) হিসেবেও পরিচিত। রোমান টেলিস্কোপের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর বিশাল দৃশ্যমান এলাকা; হাবল টেলিস্কোপের তুলনায় এটি একবারে আকাশের ১০০ গুণেরও বেশি বড় অংশের ছবি ধারণ করতে সক্ষম হবে।
ডার্ক এনার্জি ও ভিনগ্রহের জগৎ অন্বেষণ
এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো মহাবিশ্বের দুটি বৃহত্তম রহস্য উন্মোচন করা: ডার্ক এনার্জি (কৃষ্ণ শক্তি) এবং ডার্ক ম্যাটার (কৃষ্ণ পদার্থ)। ডার্ক এনার্জি হলো সেই শক্তি যা মহাবিশ্বের ক্রমাগত প্রসারণ ঘটাচ্ছে। এছাড়া, এই টেলিস্কোপটি দূরবর্তী নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তনরত নতুন গ্রহের সন্ধান করবে, কোটি কোটি গ্যালাক্সির মানচিত্র তৈরি করবে এবং ব্ল্যাক হোল পর্যবেক্ষণ করবে।
সূর্য-পৃথিবী L2 বিন্দুতে স্থাপন করা হবে
রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর, রোমান টেলিস্কোপটি সূর্য-পৃথিবী ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২ বা L2-এর দিকে যাত্রা করবে। L2 হলো মহাকাশের এমন একটি স্থান যেখানে মহাকর্ষীয় বলের ভারসাম্য বজায় থাকে। এটি টেলিস্কোপটিকে সূর্য ও পৃথিবীর সাপেক্ষে একটি স্থিতিশীল অবস্থানে থাকতে সহায়তা করে।
নাসার এই অভিযানটি পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত হলেও সংস্থাটি আশা করছে যে টেলিস্কোপটি দশ বছর ধরে সচল থাকবে। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত সমস্ত বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের জন্য বিনামূল্যে উপলব্ধ করা হবে।
