‘মেসিকে ঘিরে চাল চোর- কাট মানি খোর!’ বেলাগাম তরুণজ্যোতি

কলকাতা: কলকাতায় লিওনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ক্ষোভ, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক অভিযোগে (Messi Kolkata ticket corruption)। হাজার…

messi-kolkata-ticket-corruption-tarunjyoti-tiwari-allegation

কলকাতা: কলকাতায় লিওনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ক্ষোভ, ভাঙচুর ও রাজনৈতিক অভিযোগে (Messi Kolkata ticket corruption)। হাজার হাজার দর্শক বহু আশা আর আবেগ নিয়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন এক ঝলক বিশ্বকাপজয়ী মহাতারকাকে দেখার জন্য। কিন্তু সেই স্বপ্নভঙ্গই এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রে। টিকিট দুর্নীতির অভিযোগের মাঝেই এবার আরও গুরুতর অভিযোগ তুললেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

Advertisements

তরুণজ্যোতি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে সরাসরি অভিযোগ করেছেন মানুষের আবেগকে পুঁজি করে তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনের খরচ তোলার চেষ্টা করেছে। তাঁর কথায়, “হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মানুষ মেসিকে দেখতে পেল না। কারণ তাঁকে ঘিরে রেখেছিল কিছু চালচোর, কাটমানি-খোর তৃণমূল নেতা।” এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়।

   

এশীয় আধিপত্যের জন্য লড়াইয়ে রাফায়েল এবং ইউরোফাইটার, যুদ্ধে জিতবে কে?

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শকদের অভিযোগ, কেউ কেউ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন, অথচ মাঠে বসে তাঁরা মেসিকে একবারের জন্যও সামনে থেকে দেখতে পাননি। শেষ পর্যন্ত জায়ান্ট স্ক্রিনেই ভরসা রাখতে হয়েছে তাঁদের। ক্ষোভে ফেটে পড়ে অনেক দর্শক প্রশ্ন তুলেছেন—“এই ছবি তো বাড়িতে টিভি বা মোবাইলের স্ক্রিনেও দেখা যেত, তাহলে এত টাকা দিয়ে স্টেডিয়ামে আসার মানে কী?”

Advertisements

তরুণজ্যোতি তিওয়ারি আরও বলেন, “যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই সাধারণ, গরিব মানুষ। কেউ সঞ্চয় ভেঙে, কেউ ধার করে টিকিট কেটেছিলেন শুধুমাত্র এক ঝলক মেসিকে দেখার আশায়। সেই আবেগকে অপমান করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, এই টিকিট বিক্রির বিপুল অর্থ কোথায় গেল, তা নিয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট জবাব দেওয়া উচিত।

এই অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও দর্শকদের একাংশ অভিযোগ করেছিলেন, টিকিট বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। মাঠে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভেঙে পড়া, ব্যানার ছেঁড়া, বোতল ছোড়াছুড়ি সব মিলিয়ে যুবভারতী কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই বিশৃঙ্খলার মাঝেই তড়িঘড়ি মাঠ ছাড়েন লিওনেল মেসি, যা দর্শকদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।

তরুণজ্যোতির সবচেয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন—“তৃণমূল কি টিকিট বিক্রির টাকা থেকে নির্বাচনী খরচের কিছুটা তুলে নিল?” যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও সরকারি প্রমাণ সামনে আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না হলে মানুষের বিশ্বাস আরও ভাঙবে।

অন্যদিকে, শাসক দলের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির কোনও বিস্তারিত জবাব দেওয়া হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মেসির মতো বিশ্বতারকার সফর ঘিরে যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে এই মাত্রার ক্ষোভ তৈরি হয়, তা শাসক দলের ভাবমূর্তির পক্ষে মোটেই শুভ নয়। সব মিলিয়ে, যুবভারতী কাণ্ড এখন শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া ইভেন্টের ব্যর্থতা নয় এটি রূপ নিয়েছে মানুষের আবেগ, অর্থ এবং রাজনীতির সংঘর্ষে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন একটাই—তাঁদের স্বপ্ন আর আবেগের দায় নেবে কে?

Advertisements