NEET প্রশ্নপত্র কাণ্ডে জড়িয়ে গেরুয়া রাজ্যের ১০০ কোটির ইনস্টিটিউট!

মহারাষ্ট্র: ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET 2026) ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে বড় ধাক্কা দিয়েছে সিবিআই। শুক্রবার লাতুরের একটি নামকরা কোচিং ইনস্টিটিউটে অভিযান চালিয়ে…

neet-2026-paper-leak-investigation-latur

মহারাষ্ট্র: ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET 2026) ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে বড় ধাক্কা দিয়েছে সিবিআই। শুক্রবার লাতুরের একটি নামকরা কোচিং ইনস্টিটিউটে অভিযান চালিয়ে তদন্তকারীরা উদ্ধার করেছেন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ডিজিটাল উপকরণ। ওই ইনস্টিটিউটের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকারও বেশি। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল ইনস্টিটিউটের মক টেস্টের বেশ কয়েকটি প্রশ্ন নিটের আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।

Advertisements

তদন্তকারীদের মতে, এই ইনস্টিটিউটের ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া মাস্টারমাইন্ড প্রফেসর পি.ভি. কুলকর্ণির যোগসাজশ থাকতে পারে। প্রফেসর কুলকর্ণিকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিবিআই সূত্র জানিয়েছে, কোচিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযানের সময় ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ ক্যানিংয়ে মাদক চক্র ভাঙতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ

তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।লাতুরের এই কোচিং সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থী এখানে ভর্তি হয়ে স্বপ্ন দেখত ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু এই ঘটনায় সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মক টেস্ট নিত। সেই টেস্টের প্রশ্নগুলো এমনভাবে সাজানো হতো যাতে আসল পরীক্ষায় একই প্রশ্ন আসে।

এই পদ্ধতিতে কিছু নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীকে আগেভাগে সুবিধা দেওয়া হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সিবিআই কর্মকর্তারা বলছেন, এটি একটি বড় চক্রের অংশ। শুধু লাতুর নয়, মহারাষ্ট্রের অন্যান্য জেলা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কোচিং সেন্টারগুলোতেও তদন্তের আওতা বাড়ানো হচ্ছে।নিট পরীক্ষা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে পেপার লিকের অভিযোগ উঠছে। হাজার হাজার মেধাবী ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন।

Advertisements

এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তীব্র। লাতুরের এক ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা শিন্দে কান্নাভেজা গলায় বলে, “আমরা রাত জেগে পড়াশোনা করি। আর কয়েকজন টাকার জোরে প্রশ্ন কিনে নিয়ে ডাক্তার হয়ে যায়। এটা কোন ন্যায়?” সিবিআইয়ের তদন্ত এখন প্রফেসর পি.ভি. কুলকর্ণির সঙ্গে কোচিং ইনস্টিটিউটের মালিক ও কর্মকর্তাদের আর্থিক লেনদেনের দিকে নজর দিয়েছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফোন কল রেকর্ড, ইমেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইনস্টিটিউটের মালিককে ইতিমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি জড়িত থাকেন, তাহলে গ্রেফতারের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।শিক্ষামহলে এই ঘটনা বড় ধাক্কা। অনেকে দাবি করছেন, কোচিং ইনস্টিটিউটগুলোর উপর কড়া নজরদারি বাড়ানো উচিত। প্রতিটি মক টেস্টের প্রশ্নপত্র আগে থেকে জমা দিয়ে অনুমোদন নেওয়ার নিয়ম চালু করা উচিত। কেন্দ্রীয় সরকারও নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে ভাবছে।

Advertisements