ইস্তফা দিলেন নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ করা পবিত্র কর

পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেল। (Pabitra Kar)দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলয়ে পরিচিত পবিত্র কর এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি…

nandigram-pabitra-kar-shiuoli-kar-resignation-panchayat-politics

পূর্ব মেদিনীপুর: নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেল। (Pabitra Kar)দীর্ঘদিন ধরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলয়ে পরিচিত পবিত্র কর এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কর এবার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এই দুই জনপ্রতিনিধির পদত্যাগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক আলোচনা।

Advertisements

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিপক্ষে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন পবিত্র কর। নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হার হয় তার। এবার বিজেপির টিকিটে জেতা পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন তিনি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ মে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুজনেই বিডিও-র কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

   

আরও দেখুনঃদ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরাল ইস্টবেঙ্গল, ফলাফল ১-১

সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে বলে নন্দীগ্রাম-২ ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও জানিয়েছে দফতর। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্তিগত কারণ দেখানো হলেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ।

পবিত্র কর এবং শিউলি কর দুজনেই একসময় বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। শিউলি কর ছিলেন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এবং পবিত্র কর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঢেউয়ে তাঁরা দলবদল করেন এবং নন্দীগ্রামের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য ছিল।

Advertisements

পবিত্র করকে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক মহলে অনেকেই ‘সাইলেন্ট কিলার’ হিসেবে চেনেন। প্রকাশ্যে খুব বেশি না থাকলেও বুথ স্তরের সংগঠনে তাঁর দক্ষতা নিয়ে সব শিবিরেই আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের মতে, তিনি মূলত গ্রামস্তরের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় পারদর্শী ছিলেন, যা নির্বাচনী ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছিল।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তৃণমূল এবং বিজেপির হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে এই অঞ্চলের সংগঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই সময় নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি তৈরির পিছনে পবিত্র করের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়। পরবর্তী লোকসভা নির্বাচনেও একই ধরনের লিড বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর সংগঠন বড় ভূমিকা পালন করেছিল বলে দাবি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে। অভিযোগ, বিভিন্ন স্তরে অসন্তোষ এবং সাংগঠনিক টানাপোড়েনের কারণে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ভারসাম্য বদলাতে থাকে। ২০২৬ এ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন পবিত্র। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামে যখন তৃণমূলের তরফ থেকে প্রার্থীর টানাটানি চলছে সেই সময় পবিত্রকে পেয়ে তাকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। এর মধ্যেই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পবিত্র কর ও শিউলি কর পদত্যাগ করায় নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের একাংশের মতে, এই পদত্যাগ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত। কারণ নন্দীগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের সবচেয়ে সংবেদনশীল রাজনৈতিক কেন্দ্রগুলির একটি। এখানে প্রতিটি পরিবর্তনই রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিফলিত হয়। তৃণমূল শিবিরের একাংশের দাবি, এই ঘটনা নন্দীগ্রামে দলের সংগঠন আরও মজবুত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে বিজেপি শিবির মনে করছে, অভ্যন্তরীণ চাপ ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

Advertisements