কালিয়াচক কাণ্ডে NIA জালে কংগ্রেস নেতা আসিফ-শাহাদাত

কালিয়াচক: মালদহের মোথাবাড়ি এলাকায় বিচারকদের ঘেরাও করে হেনস্তা ও হামলার (Malda judge harassment)ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ছড়িয়েছিল উত্তেজনা। হিংসায় উস্কানি দেওয়া মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল আগেই…

malda-judge-harassment-nia-arrest-congress-leaders

কালিয়াচক: মালদহের মোথাবাড়ি এলাকায় বিচারকদের ঘেরাও করে হেনস্তা ও হামলার (Malda judge harassment)ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ছড়িয়েছিল উত্তেজনা। হিংসায় উস্কানি দেওয়া মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল আগেই গ্রেফতার হয়েছিল CID র হাতে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে দুই কংগ্রেস নেতা আসিফ শেখ এবং শাহাদাত হুসেইনকে গ্রেফতার করেছে।

Advertisements

ঘটনাটি ঘটে ১ এপ্রিল, যখন ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছিল। অভিযোগ, মালদহের কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকদের দীর্ঘ সময় ধরে ঘেরাও করে রাখা হয় এবং তাঁদের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এলাকায় হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক স্তরে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের নজরে আসে।

   

আরও দেখুনঃ বাংলায় উন্নয়নের নতুন অধ্যায় ৪ মে-র পর শুরু হবে, দাবি শাহের

পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে এই সংবেদনশীল মামলার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় এনআইএ-র হাতে। তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক তথ্য সামনে আসতে থাকে। সেই সূত্র ধরেই এনআইএ প্রথমে গোলাম রব্বানি নামে এক স্থানীয় ISF নেতাকে গ্রেফতার করে। এরপর তদন্তের অগ্রগতিতে উঠে আসে আসিফ শেখ ও শাহদাত হোসেনের নাম, যাঁদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই ঘেরাও ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর: কালিয়াচক কাণ্ডে কংগ্রেস নেতা গ্রেফতারে বিস্ফোরক শুভেন্দু

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলার ক্ষেত্রে এই দুই নেতার সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি, বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় তদন্তকারীরা তাঁদের হেফাজতে নিয়েছেন। এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও কম নয়। মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সায়েম চৌধুরীকেও এনআইএ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও অভিযোগ আনা হয়নি, তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Advertisements

অন্যদিকে, এই একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এর আগেই পুলিশ আইএসএফ প্রার্থী মওলানা শাহজাহান কাদরি সহ আরও ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছিল। ফলে এই ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই তোলে না, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপরও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচারকদের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।

Advertisements