বাংলায় UCC এলে বদলাবে ১৩টি বিবাহ আইন, এক নিয়মে বিয়ে-ডিভোর্স

কলকাতা: বাংলায় প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা UCC কার্যকর হলে বিভিন্ন ধর্মের জন্য চালু থাকা অন্তত ১৩টি পৃথক বিবাহ আইন বাতিল করে একটি অভিন্ন আইন…

west-bengal-ucc-13-marriage-laws-uniform-civil-code-marriage-divorce

কলকাতা: বাংলায় প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা UCC কার্যকর হলে বিভিন্ন ধর্মের জন্য চালু থাকা অন্তত ১৩টি পৃথক বিবাহ আইন বাতিল করে একটি অভিন্ন আইন আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে মূল গুরুত্ব দেওয়া হবে লিঙ্গসমতা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার উপর। তবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি, পোশাক কিংবা প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে কমিটির সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের দাবি।

Advertisements

বাংলার ইউসিসির খসড়া তৈরির জন্য গঠিত কমিটি বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রথম বৈঠকে বসতে চলেছে। সেই বৈঠকে প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা এবং পরবর্তী কাজের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

   

কোন কোন আইন বদলানোর সম্ভাবনা?

প্রস্তাবিত ইউসিসির আওতায় ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনগুলির পরিবর্তে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে। এর আওতায় বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার এবং অভিভাবকত্বের মতো বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রিত হবে। যে ১৩টি আইন বাতিল করে একটি আইনের আওতায় আনার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল:

১. ইন্ডিয়ান ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৮৬৯
২. ইন্ডিয়ান ক্রিশ্চিয়ান ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৮৭২
৩. বেঙ্গল মহামেডান ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৭৬
৪. আনন্দ ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯০৯
৫. পারসি ম্যারেজ অ্যান্ড ডিভোর্স অ্যাক্ট, ১৯৩৬
৬. আর্য ম্যারেজ ভ্যালিডেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭
৭. মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট, ১৯৩৭
৮. ডিসোলিউশন অব মুসলিম ম্যারেজেস অ্যাক্ট, ১৯৩৯
৯. স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৪
১০. হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৫৫
১১. ফরেন ম্যারেজ অ্যাক্ট, ১৯৬৯
১২. মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অব রাইটস অন ডিভোর্স) অ্যাক্ট, ১৯৮৬
১৩. মুসলিম উইমেন (প্রোটেকশন অব রাইটস অন ম্যারেজ) অ্যাক্ট, ২০১৯

Advertisements

বর্তমানে এই আইনগুলি ধর্ম, আন্তঃধর্মীয় বিবাহ বা বিদেশে সম্পন্ন বিবাহের মতো বিভিন্ন পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং অন্যান্য বৈবাহিক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে।

Read More:

সব বিয়ে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক হতে পারে

প্রস্তাবিত ইউসিসির অধীনে ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত বিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মনোনীত রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে রেজিস্ট্রেশন করানো বাধ্যতামূলক হতে পারে। অর্থাৎ কোনও ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে সম্পন্ন হলেও সেটিকে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় নথিভুক্ত করতে হবে। বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখা হবে বলে সূত্রের দাবি।

ডিভোর্সে থাকবে সমান অধিকার

প্রস্তাবিত আইনে আদালতের বাইরে বিবাহবিচ্ছেদের কোনও ব্যবস্থা থাকবে না বলে দাবি করা হয়েছে। স্বামী ও স্ত্রী, উভয়ের ক্ষেত্রেই বিবাহবিচ্ছেদের কারণ একই হবে। ভরণপোষণ এবং খোরপোষের ক্ষেত্রেও দুই পক্ষের সমান অধিকার থাকবে। অর্থাৎ শুধু লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনও পক্ষকে আলাদা অধিকার বা সুবিধা দেওয়ার বদলে অভিন্ন নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রচলিত কিছু বিচ্ছেদ-সংক্রান্ত ধর্মীয় প্রথাও এই আইনের আওতায় বাতিল করা হতে পারে। সূত্রের দাবি, নিকাহ হালালা-র মতো প্রথার কোনও জায়গা প্রস্তাবিত ইউসিসিতে থাকবে না।

লিভ-ইন সম্পর্কেও রেজিস্ট্রেশনের প্রস্তাব

প্রস্তাবিত ইউসিসিতে শুধু বিবাহিত দম্পতিই নয়, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা ব্যক্তিদের নিয়েও বিধান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা যুগলকে তাঁদের সম্পর্ক রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। নির্ধারিত নিয়ম না মানলে জরিমানার মতো শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হিসেবে প্রতারণা রোধ এবং লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা দুই পক্ষের পাশাপাশি সেই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব

প্রস্তাবিত বাংলার ইউসিসিতে বহুবিবাহ বা দ্বিবিবাহের কোনও বিধান থাকবে না বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ ধর্ম নির্বিশেষে একসঙ্গে একাধিক বিবাহের সুযোগ রাখা হবে না। একই সঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও ছাড় না দিয়ে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।

সম্পত্তিতে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে পৈতৃক বা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তিতে ছেলে এবং মেয়ের সমান অধিকার থাকবে। দত্তক গ্রহণ এবং উইল বা ইচ্ছাপত্রের ক্ষেত্রেও ধর্মনিরপেক্ষ ও লিঙ্গসমতার নীতি অনুসরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। অর্থাৎ বিয়ে, ডিভোর্স এবং ভরণপোষণের পাশাপাশি উত্তরাধিকার, দত্তক এবং সম্পত্তির মতো বিষয়েও ধর্মভিত্তিক আলাদা নিয়মের পরিবর্তে অভিন্ন কাঠামো তৈরির লক্ষ্য রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লিতে প্রথম বৈঠক

ইউসিসির খসড়া তৈরির কমিটির সদস্য এবং আইনজীবী ওসমান মালিক জানিয়েছেন, কমিটির প্রথম বৈঠক বৃহস্পতিবার দিল্লিতে হবে। সেই বৈঠকে বাংলার অভিন্ন দেওয়ানি বিধির জন্য একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হবে। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে কমিটি প্রাথমিক প্রশাসনিক কাজ চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে।

তবে এখনও প্রস্তাবিত ইউসিসির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ১৩টি আইন বাতিল, লিভ-ইন সম্পর্কের রেজিস্ট্রেশন, বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম, উত্তরাধিকার এবং অন্যান্য বিধান শেষ পর্যন্ত ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তা চূড়ান্ত আইন ও সরকারি ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে। বর্তমানে প্রকাশিত তথ্যগুলি মূলত খসড়া তৈরির সঙ্গে যুক্ত সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Advertisements