ময়দান হবে কেন্দ্র! চার করিডোরে বদলাবে বাংলার আঞ্চলিক পরিবহন ব্যবস্থা

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা বা আরআরটিএস (RRTS)গড়ে তোলার এক বড় প্রস্তাব সামনে এসেছে। মোট ছয়শো চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কলকাতার…

west-bengal-rrts

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা বা আরআরটিএস (RRTS)গড়ে তোলার এক বড় প্রস্তাব সামনে এসেছে। মোট ছয়শো চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কলকাতার ময়দানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। চারটি করিডোরের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহর ও শিল্পকেন্দ্রগুলোকে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Advertisements

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।প্রস্তাবিত চারটি করিডোরের মধ্যে প্রথমটি একশো পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা কল্যাণী-কৃষ্ণনগর-মায়াপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। ( RRTS)দ্বিতীয় করিডোরটি সবচেয়ে দীর্ঘ দুইশো বত্রিশ কিলোমিটার। এটি বর্ধমান-দুর্গাপুর-আসানসোল পর্যন্ত যাবে। তৃতীয় করিডোর একশো দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ফলতা-ডায়মন্ড হারবার-হলদিয়া-নন্দীগ্রামকে সংযুক্ত করবে।

   

আরও দেখুনঃ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর শর্ত উপেক্ষা করেই শেষ তৃণমূল!

চতুর্থ করিডোর আবার একশো পঁয়ত্রিশ কিলোমিটারের এবং সাঁতরাগাছি -কোলাঘাট-খড়গপুর-মেদিনীপুর পর্যন্ত পৌঁছাবে। এছাড়া দুর্গাপুর ও আসানসোলে মেট্রো লিংক এবং ময়দান থেকে বাজে বাজে পর্যন্ত একটি সংযোগের কথাও বলা হয়েছে।প্রস্তাবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জমি অধিগ্রহণ কমানোর বিষয়টিতে। বিদ্যমান হাইওয়ে ও রেলপথের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রুট নির্ধারণ করা হলে কম জমি লাগবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নও তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

Advertisements

কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক সংস্থা বা এসপিভি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর নাম প্রস্তাব করা হয়েছে ওয়েস্ট বেঙ্গল র‍্যাপিড ট্রানজিট করপোরেশন বা ডব্লিউবিআরটিসি( RRTS)। এটি এনসিআরটিসির মতো মডেলে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে কলকাতার দ্রুত ও নিয়মিত যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা। বর্তমানে মানুষ মূলত সাধারণ ট্রেন ও সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল।

এগুলো প্রায়ই যানজটে ভোগে এবং সময়সাপেক্ষ। আরআরটিএস চালু হলে মেট্রোর মতো উচ্চগতির আঞ্চলিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা দৈনন্দিন যাতায়াতকে অনেক সহজ ও দ্রুত করে তুলবে। শিল্প, পর্যটন ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।প্রস্তাবটিতে বিস্তারিত প্রকৌশল, চাহিদা ও আর্থিক সমীক্ষা চালানোর কথা বলা হয়েছে। এই সমীক্ষা শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে এটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে।বাংলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নত আঞ্চলিক পরিবহন ব্যবস্থার অপেক্ষায় রয়েছেন। কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণের পাশাপাশি এই আরআরটিএস নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ উপকৃত হবেন। দুর্গাপুর-আসানসোলের মতো শিল্পশহরগুলো আরও ঘনিষ্ঠভাবে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হবে।

Advertisements