কলকাতা: সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট ঘিরে ফের রাজনৈতিক (West Bengal Politics) জল্পনা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী শশী পাঁজাকে নিয়ে। শনিবার ভবানীপুরের একটি ফার্টিলিটি ক্লিনিকে এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাত হয়৷ সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই শশী পাঁজা তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দিতে পারেন বলে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠরা এই জল্পনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
জানা গিয়েছে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের স্বামী সুদর্শন ঘোষ দস্তিদার ওই ফার্টিলিটি ক্লিনিকের অন্যতম ডিরেক্টর। সূত্রের দাবি, শনিবার শশী পাঁজা ক্লিনিকে গেলে চিকিৎসক কাকলি ঘোষ দস্তিদার সেখানেই উপস্থিত ছিলেন। তবে সেই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক বৈঠক হিসেবে দেখার কোনও কারণ নেই বলেই দাবি করেছেন শশী পাঁজার ঘনিষ্ঠরা।
তাঁদের বক্তব্য, শশী পাঁজা ১৯৮৯ সাল থেকেই ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চে পেশাগত কারণে যাতায়াত করছেন। শনিবারও তিনি শুধুমাত্র নিজের কাজের জন্য সেখানে গিয়েছিলেন। এমনকি সোমবারও তাঁর ওই ক্লিনিকে যাওয়ার কথা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
শশী পাঁজার এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি কখনও ক্লিনিকে রাজনৈতিক আলোচনা করেন না। শনিবারও কোনও এনসিপিআই নেতার সঙ্গে রাজনৈতিক বৈঠক হয়নি। নিজের কাজ শেষ করে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ওই সূত্র আরও দাবি করেছে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর শশী পাঁজা বারবার বলেছেন যে, তিনি এখন কোনও রাজনৈতিক শিবিরের কাছেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নন। তাই আপাতত তিনি চিকিৎসা পেশাতেই মন দিতে চান।
পাশাপাশি তিনি নিজের কাজের বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অবহিত করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে শশী পাঁজার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এই জল্পনার সূত্রপাত রবিবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুদর্শন ঘোষ দস্তিদারের ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার একটি পোস্টে লেখেন, “Shashi Panja is going to leave Trinamool very soon.” অর্থাৎ, শশী পাঁজা খুব শিগগিরই তৃণমূল ছাড়তে চলেছেন। যদিও পরে তিনি সেই পোস্টটি মুছে দেন। কিন্তু ততক্ষণে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়ে যায়।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, নির্বাচনের পর থেকে শশী পাঁজার সঙ্গে তাঁর আর যোগাযোগ নেই। তাই তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারবেন না।
কুণাল ঘোষ বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে শশী পাঁজাকে দলীয় কর্মীদের মধ্যে বা সংগঠনের কোনও কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে বিজেপি কর্মীরা শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে এবং পরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু সেই সময়ও তাঁকে আদালত বা থানায় দেখা যায়নি।
কুণাল ঘোষের কথায়, নির্বাচনের পর তিনি শশী পাঁজাকে ফোন করেছিলেন। তখন শশী পাঁজা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিদেশে রয়েছেন এবং দেশে ফিরে যোগাযোগ করবেন। কিন্তু পরে আর তাঁদের মধ্যে কথা হয়নি। তাই তিনি জানেন না, শশী পাঁজা কার সঙ্গে দেখা করেছেন বা সেই সাক্ষাৎ একজন চিকিৎসক হিসেবে ছিল, নাকি একজন রাজনীতিক হিসেবে।
এখনও পর্যন্ত শশী পাঁজার দলবদল নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, ভবানীপুরের ক্লিনিকে যাওয়াকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের জেরে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের
