উত্তরপাড়ার বন্ধ হিন্দুস্তান মোটরসের কারখানায় এবার EV উদ্যোগ বিড়লা গোষ্ঠীর

কলকাতা: সি কে এ বিড়লা গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।(Uttarpara) উত্তরপাড়ায় পুরনো হিন্দুস্তান মোটরস কারখানায় ইভি উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। রাজ্য সরকারের কাছে…

uttarpara-hindustan-motors-ev

কলকাতা: সি কে এ বিড়লা গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।(Uttarpara) উত্তরপাড়ায় পুরনো হিন্দুস্তান মোটরস কারখানায় ইভি উৎপাদনের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। রাজ্য সরকারের কাছে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। ২০১৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া এই কারখানাটিতে একসময় অ্যাম্বাসাডর গাড়ি তৈরি হতো। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্ল্যান্টে প্রেস, ফোর্জ, ফাউন্ড্রি, মেশিন ও অ্যাসেম্বলি ইউনিট ছিল।

Advertisements

হিন্দুস্তান মোটরস (Uttarpara)জানিয়েছে, রাজ্য সরকার প্রায় ৩৯৫ একর জমির দখল ফিরিয়ে নিয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোম্পানির আপিল খারিজ করে দিয়েছিল। ফলে জমি এখন রাজ্যের হাতে। এই জমিতেই নতুন করে বৈদ্যুতিক গাড়ির কারখানা গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সি কে এ বিড়লা গোষ্ঠী। প্রস্তাবটি এখন রাজ্য সরকারের বিবেচনাধীন।পশ্চিমবঙ্গে বড় অটোমোবাইল বিনিয়োগের অভাব দীর্ঘদিনের।

   

আরও দেখুনঃ মোদী সফরে ফের সাফল্য! আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

২০০৮ সালে টাটা মোটরস তাদের ন্যানো প্রকল্প সিংগুর থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর রাজ্যে আর কোনো বড় অটো ওইএম আসেনি। সেই শূন্যতা পূরণের আশা জাগাচ্ছে এই নতুন উদ্যোগ। অর্থবছর ২০২৬-এ রাজ্যে ভারতের মোট ৪৬.৪৩ লাখ যাত্রীবাহী গাড়ির মাত্র ২.৭ শতাংশ এবং ২.১৭ কোটি দুই চাকার গাড়ির ৪.৭ শতাংশ বিক্রি হয়েছে। অটোমোবাইল খাতে রাজ্যের অংশ এখনও সীমিত।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইভি কারখানা সফল করতে হলে শুধু জমি দিলেই হবে না।

Advertisements

বড় আকারের উৎপাদন, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের নেটওয়ার্ক, স্থানীয় সোর্সিং এবং পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পুরনো ইকোসিস্টেম ভেঙে গেছে। (Uttarpara)নতুন করে সেই চেইন তৈরি করতে সময় ও বিনিয়োগ লাগবে। উত্তরপাড়ার পুরনো কারখানার পরিকাঠামো কিছুটা কাজে লাগানো গেলেও আধুনিক ইভি উৎপাদনের জন্য নতুন প্রযুক্তি ও দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হবে।বিড়লা গোষ্ঠীর এই পদক্ষেপ রাজ্যের শিল্প মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

একসময় অ্যাম্বাসাডরের জন্য বিখ্যাত উত্তরপাড়া আবার শিল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয় মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থানের আশা জেগেছে। কারখানা চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আশপাশের এলাকায় ছোট-বড় শিল্প ও পরিষেবা খাতেও গতি আসতে পারে।তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। জমির মালিকানা ও ব্যবহার নিয়ে পুরনো জটিলতা কাটিয়ে উঠতে হবে।

পরিবেশগত অনুমতি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক যোগাযোগ এবং যন্ত্রাংশ শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। রাজ্য সরকার যদি নীতিগত সহায়তা দেয় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে প্রকল্পটি এগিয়ে যেতে পারে। অন্যান্য রাজ্যে ইভি উৎপাদনে যেভাবে গতি এসেছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধারা তৈরি করা সম্ভব।সি কে এ বিড়লা গোষ্ঠীর প্রস্তাব শুধু একটি কারখানার বিষয় নয়।

এটি রাজ্যের অটোমোবাইল খাতকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার সুযোগ। (Uttarpara)টাটা ন্যানোর প্রস্থানের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণের একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইভি বিপ্লবের যুগে পশ্চিমবঙ্গ যদি এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তাহলে শিল্প, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Advertisements