রবীন্দ্রসংগীত গেয়ে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি হারানো শিল্পী শোভনকে অনন্য সম্মান অরিজিৎ চক্রবর্তীর সুরভারতীর! পেলেন পরীক্ষকের দায়িত্ব

কলকাতা:নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করার সময়ে রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন শোভন চক্রবর্তী (Shovan Chakraborty)। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই চাকরি হারান তিনি। এই বিতর্কিত ঘটনাতে নিন্দার…

shovan-chakraborty

কলকাতা:নিরাপত্তা রক্ষীর কাজ করার সময়ে রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন শোভন চক্রবর্তী (Shovan Chakraborty)। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই চাকরি হারান তিনি। এই বিতর্কিত ঘটনাতে নিন্দার ঝড় ওঠে সংস্কৃতি মহলে। এই শোভন চক্রবর্তীকেই অনন্য সম্মান জানিয়েছে সুরভারতী সংগীত কলাকেন্দ্র, যার কর্ণধার সমাজ মাধ্যমের বিশেষ পরিচিত মুখ অরিজিৎ চক্রবর্তী।

Advertisements

কোনো করপোরেট লোকদেখানো প্রতিশ্রুতি নয়, একজন প্রকৃত শিল্পীর আত্মমর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক স্তরের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরীক্ষা সংস্থা ‘সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্র’ এবং সংস্থার সভাপতি অরিজিৎ চক্রবর্তী।

   

শুধু সম্মাননাই নয়, তাঁর শিল্পীসত্তাকে মর্যাদা দিয়ে পরীক্ষক হিসেবে কাজের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ১৭ আগস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক চিত্রপ্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শোভন। (Shovan Chakraborty)অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন তিনি। পরে নিজের কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন শোভন। তাঁর গানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংস্কৃতিকমনস্ক দর্শকদের মধ্যে ফের তৈরি হয় আগ্রহ ও আবেগের পরিবেশ।

Advertisements

শোভনের এই নতুন স্বীকৃতির পিছনে মূল ভাবনা হিসেবে শিল্পীর স্বাধীনতা এবং যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়নের কথাই তুলে ধরেছে সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্র। সংস্থার দাবি, কোনও শিল্পীর প্রতিভাকে শুধুমাত্র তাঁর পেশাগত পরিচয় বা জীবনের কোনও বিতর্কিত অধ্যায়ের ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়। বরং প্রতিকূলতার মধ্যেও যাঁরা নিজেদের শিল্পচর্চা ধরে রাখেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।

এই ভাবনা থেকেই সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্রের সভাপতি অরিজিৎ চক্রবর্তীর বিশেষ আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে যোগ দেন শোভন। অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে ১০ হাজার টাকার একটি বিশেষ সম্মাননা চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর শিল্পীসত্তাকে সম্মান জানিয়ে ভবিষ্যতে সংগীতের সঙ্গে স্বাধীনভাবে যুক্ত থাকার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে শোভনের গান ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁর কাছে চাকরি এবং ব্যবসায়িক কাজের প্রস্তাব আসছিল বলে জানা যায়। কিন্তু শোভনের নিজের ইচ্ছা কিছুটা আলাদা। তাঁর বক্তব্য, বাঁধাধরা চাকরি বা বাণিজ্যিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি স্বাধীনভাবে এবং নিজের মর্যাদা বজায় রেখে সংগীতচর্চা চালিয়ে যেতে চান। শিল্পী হিসেবে নিজের পরিচয়কে সামনে রেখেই ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে চান তিনি।

শোভনের এই ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিয়েছে সুরভারতী। সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে কোনও নির্দিষ্ট চাকরিতে আবদ্ধ না করে স্বাধীন ‘পরীক্ষক’ বা Examiner হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাবে সম্মতিও জানিয়েছেন শোভন। ফলে এবার থেকে সংগীতের সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত থাকার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের মূল্যায়নের কাজেও তাঁকে দেখা যেতে পারে।

শুধু এখানেই থেমে থাকছে না সুরভারতীর উদ্যোগ। শোভনের নিজস্ব সংগীত বিদ্যালয়টি যাতে ফের পূর্ণ উদ্যমে চালু করা যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য ও সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থাৎ শোভন যাতে নিজের পছন্দের পথে থেকেই সংগীতচর্চা ও শিক্ষাদানের কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে তারা।

সুরভারতী সঙ্গীত কলাকেন্দ্রের সভাপতি অরিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, প্রকৃত শিল্পী কখনও একা নন। জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যিনি সংগীতের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা বজায় রেখেছেন, তাঁকে যথাযথ সম্মান এবং কাজের স্বাধীনতা দেওয়া সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলির দায়িত্ব। তাঁর মতে, শোভন একজন যোগ্য শিল্পী এবং তাঁর স্বতন্ত্র শিল্পীসত্তাকে মর্যাদা দিয়ে তাঁকে পরীক্ষকের দায়িত্ব দিতে পেরে সংস্থা আনন্দিত। একই সঙ্গে তাঁর সংগীত বিদ্যালয়ের পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রেও পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

Advertisements