দুর্গাপুজোয় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের গেরুয়া পোশাক, বড় বদল কলকাতা পুলিশের

কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) ভিড় সামলাতে এ বছর কলকাতা পুলিশের অস্থায়ী স্বেচ্ছাসেবকদের পোশাকে আসছে বড় পরিবর্তন। কয়েক দশকের পরিচিত সাদা-নীল রঙের বাইরে গিয়ে এবার…

kolkata-police-saffron-uniform-20000-volunteers-durga-puja-2026

কলকাতা: দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) ভিড় সামলাতে এ বছর কলকাতা পুলিশের অস্থায়ী স্বেচ্ছাসেবকদের পোশাকে আসছে বড় পরিবর্তন। কয়েক দশকের পরিচিত সাদা-নীল রঙের বাইরে গিয়ে এবার প্রায় ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের জন্য গেরুয়া এবং হালকা কমলা রঙের পোশাক তৈরি করা হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে দ্রুত তাঁদের চিহ্নিত করতেই এই নতুন পোশাকের পরিকল্পনা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisements

লালবাজার ইতিমধ্যেই প্রায় ৮৯ লক্ষ টাকার একটি দরপত্র প্রকাশ করেছে। তৃতীয়া থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে যানবাহন এবং পথচারীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে এই অস্থায়ী স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হবে।

   

Read More: চন্দ্রনাথ হত্যায় ২ কোটির সুপারি কিলিংয়ের চুক্তি হয়েছিল, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ শুভেন্দুর

২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের জন্য নতুন পোশাক

দরপত্র অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য ফুলহাতা টি-শার্ট এবং তার সঙ্গে মানানসই পিক ক্যাপ তৈরি করা হবে। মোট ২০ হাজার পোশাকের মধ্যে ১২ হাজারটি হবে গাঢ় কমলা রঙের এবং ৮ হাজারটি হালকা কমলা রঙের।

Advertisements

পুজোর সময় কলকাতার বিভিন্ন মণ্ডপ এবং রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। সেই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চোখে সহজে পড়ার মতো পোশাক পরানোই পুলিশের মূল উদ্দেশ্য। দরপত্রের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক মূল্যায়নের প্রক্রিয়া ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা। দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ১.৮ লক্ষ টাকা জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে।

Read More: আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরেই বাংলায় ৪ বিমানবন্দরের MOU সাক্ষর রাজ্যসরকারের

শুধু রঙের পরিবর্তন নয়, ভিড় নিয়ন্ত্রণের কৌশল

পুলিশের একাধিক আধিকারিকের মতে, পোশাকের রঙ বদলের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সৌন্দর্য বা বাহ্যিক পরিবর্তনের জন্য নয়। এর পিছনে রয়েছে নির্দিষ্ট পরিচালনাগত উদ্দেশ্য। এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, পুজোর সপ্তাহে কলকাতার প্রধান রাস্তাগুলি কার্যত মানুষের সমুদ্রে পরিণত হয়। সেই ভিড়ে পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের দ্রুত চিহ্নিত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাক দূর থেকেই নজরে পড়বে। ফলে সাধারণ মানুষ, হারিয়ে যাওয়া শিশু কিংবা গাড়িচালকরা দ্রুত স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য চাইতে পারবেন।

কারা থাকবেন এই অস্থায়ী বাহিনীতে?

কলকাতা পুলিশের এই অস্থায়ী ভিড় নিয়ন্ত্রণ বাহিনীতে থাকবেন এনসিসি ক্যাডেট, স্কাউট, সিভিল ডিফেন্স কর্মী, পড়ুয়া এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং ভিড় জমার সম্ভাবনা রয়েছে এমন সংকীর্ণ রাস্তার সংযোগস্থলে মোতায়েন করা হবে। পুলিশ ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি এই স্বেচ্ছাসেবকরাও পুজোর দিনগুলিতে রাস্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তাঁদের অধিকাংশের বয়স ২০ বছরের মধ্যে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

Read More: সারাদেশে দেওয়া হচ্ছে বোমা হামলার হুমকি! মোদী রাজ্যে ফাঁস বাংলাদেশি যোগসূত্র

ভিড় সামলানো থেকে জরুরি সাহায্য, একাধিক দায়িত্ব

এই স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব শুধু পথচারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মণ্ডপমুখী দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রয়োজন অনুযায়ী পথ দেখানো, মানুষকে জল পৌঁছে দেওয়া এবং কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত সাহায্যের ব্যবস্থা করাও তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে থাকবে। পাশাপাশি মহিলাদের উত্যক্ত করা বা অন্য কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকেও নজর রাখবেন তাঁরা। বড় ভিড়ের মধ্যে কোনও শিশু হারিয়ে গেলে বা কোনও ব্যক্তি সমস্যায় পড়লে দ্রুত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করাও তাঁদের অন্যতম কাজ হবে।

এফএম রেডিওতেও মিলবে ভিড়ের খবর

পুজোর সময় কোন এলাকায় কতটা ভিড়, কোথায় যান চলাচলে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং কোন রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা সুবিধাজনক, সেই সংক্রান্ত তথ্যও দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিড়ের ঘনত্ব এবং যান চলাচলের পরিবর্তন সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক তথ্য এফএম রেডিও সম্প্রচারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। এর ফলে পুজোর দর্শনার্থীরা রাস্তায় বেরোনোর আগেই বা পথে থাকাকালীন বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

দুর্গাপুজোয় কলকাতার বিপুল জনসমাগম সামলাতে প্রযুক্তি, পুলিশি নজরদারি এবং অস্থায়ী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। আর সেই ব্যবস্থার অন্যতম দৃশ্যমান পরিবর্তন হতে চলেছে ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের নতুন উজ্জ্বল কমলা পোশাক।

Advertisements