কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লন্ডভন্ড বাংলা, আবার কবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা?

কলকাতা: সোমবার কালবৈশাখীর (Kalbaisakhi) দাপটে একপ্রকার লন্ডভন্ড হয়েছে রাজ্যের একাধিক জায়গা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ উপড়ে পড়েছে, ভেঙেছে বহু বাড়ির জানলার কাঁচ। এই আবহাওয়ার জেরে…

kalbaisakhi-storm-west-bengal-weather-forecast-march

কলকাতা: সোমবার কালবৈশাখীর (Kalbaisakhi) দাপটে একপ্রকার লন্ডভন্ড হয়েছে রাজ্যের একাধিক জায়গা। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে গাছ উপড়ে পড়েছে, ভেঙেছে বহু বাড়ির জানলার কাঁচ। এই আবহাওয়ার জেরে স্বস্তির মুখে দেখেছে রাজ্যবাসী। মঙ্গলবার দিনভর আবহাওয়া ছিল তুলনামূলক শুষ্ক। আবহাওয়া দফতরের খবর অনুযায়ী, আগামী দু-একদিন এমনই আবহাওয়া থাকতে পারে। তবে ২০ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে ফের শহরে আসতে পারে ঝড়ের প্রকোপ।

Advertisements

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৪০টি জায়গা থেকে গাছ উপড়ে পড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে। দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জ, বেহালা ও আলিপুর এলাকায় ঝড়ের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।

   

সোমবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বজ্রঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়। ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বিদ্যুতের ঝলকানি আকাশকে বারবার আলোকিত করে তোলে, যার ফলে আতঙ্কিত হয় মহানগরী।

রাত ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ আলিপুরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে রেকর্ড করা হয়। পাশাপাশি রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে প্রায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা এই ঝড়ের তীব্রতাকেই স্পষ্ট করে।

Advertisements

আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী এলাকায় তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘ থেকেই এই ঝড়ের উৎপত্তি। পরে তা ক্রমে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও ঝড়-বৃষ্টির ব্যাপক প্রভাব দেখা যায়। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে।

বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, ‘স্কোয়াল’ বা ঝোড়ো হাওয়া এক ধরনের আকস্মিক ঝড়, যা বৃষ্টিসহ আঘাত হানে। আর কালবৈশাখী সেই ধরনেরই শক্তিশালী ঝড়, যা মূলত ছোটনাগপুর মালভূমি অঞ্চলে তৈরি হয়ে পূর্বভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এ ধরনের ঝড়ে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটারের বেশি বেগে হাওয়া বইতে পারে।

এই ঝড়ের ফলে শহরের তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৩০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ ডিগ্রি কম। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮.৪ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রি কম।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত শুক্রবার পর্যন্ত বড় কোনও ঝড়ের সম্ভাবনা নেই। তবে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়বে। তবে কালবৈশাখীর দাপট আরও একবার বিরাজ করবে বঙ্গে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।

Advertisements