কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সুখবর। (Jadavpur University)পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা দফতর ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স কর্মসূচির জন্য রাজ্যের পক্ষ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই অর্থ পাঁচ বছরে দেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একটি স্বপ্ন এবার বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীরা।
২০১৮ সালে ইউজিসি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ইনস্টিটিউট অফ এমিনেন্স তালিকায় স্থান দিয়েছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের ম্যাচিং গ্রান্টের শর্ত নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া থমকে যায়।(Jadavpur University) তখন কেন্দ্রীয় সরকারের শর্ত ছিল রাজ্যকে নির্দিষ্ট অংশ অবদান রাখতে হবে। পূর্ববর্তী সরকার সেই শর্তে রাজি হয়নি। ফলে যাদবপুর এই মর্যাদা ও সঙ্গে আসা বড় অঙ্কের অর্থ থেকে বঞ্চিত হয়।
আরও দেখুনঃ মার্কিন সফর বাতিল নেতানিয়াহুর! IRGC কে প্রস্তুত হতে নির্দেশ ইরানের
এবার পরিস্থিতি বদলেছে। জুন মাসের ২২ তারিখের রাজ্য বাজেটেই এই ২৫০ কোটি টাকার অংশ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ঘোষণার পর এখন উচ্চশিক্ষা দফতর নীতিগত অনুমোদন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দিয়েছে। (Jadavpur University)বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই একটি ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটি বাস্তবায়ন সমন্বয় করবে এবং একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরি করবে। কমিটির কাজ হবে পরিকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধি, আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতা এবং সামগ্রিক শিক্ষাগত উৎকর্ষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরি করা।
যাদবপুর এখন ইউজিসির কাছে তাদের ১,০০০ কোটি টাকার অংশ চাইবে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ইউজিসি তাদের অর্থ ছাড় করলেই রাজ্যের ২৫০ কোটি টাকা ছাড় করা হবে। সব মিলিয়ে মোট ১,২৫০ কোটি টাকার এই প্যাকেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা পরিকাঠামোকে অনেকটাই শক্তিশালী করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এই অর্থ দিয়ে গবেষণাগার আধুনিকায়ন, নতুন যন্ত্রপাতি কেনা, ল্যাবরেটরি উন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসের ভৌত অবকাঠামো মজবুত করা যাবে। অনেকের মতে, অনুদানের বড় অংশ গবেষণা অবকাঠামোতে ব্যয় করা হবে যাতে যাদবপুর আইআইটি বা এনআইটি-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে র্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়ার পর এই অর্থ সাহায্য করতে পারে শীর্ষ ছাত্রছাত্রীদের আকৃষ্ট করতে এবং ধরে রাখতে।
দীর্ঘদিনের এই অপেক্ষা শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলেই ক্যাম্পাসে উৎসাহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, শুধু অর্থ নয়, এই স্বীকৃতি যাদবপুরের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে নতুন করে তুলে ধরবে। তবে এখনও পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। ইউজিসির অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। রাজ্যের শর্ত অনুযায়ী কেন্দ্রীয় অর্থ আগে আসতে হবে।
সেইজন্য বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)দ্রুত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরি করে আবেদন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এর গবেষণা ও শিক্ষার মান অনেক সময় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তুলনীয় হয়েছে। কিন্তু পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অর্থের অভাবে অনেক সম্ভাবনা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। এই ১,২৫০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান সেই ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারে।
