Suvendu Adhikari: বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর শোক প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একসময় একই দলের সদস্য ছিলেন দুজনে। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারর সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে সরকারের পালাবদলের পর প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয়নি। পুলিশ বা প্রশাসনও তলব করেনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, “দুর্নীতিগ্রস্ত কোনও লোক তাঁকে ভয় দেখিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশকে তাঁর ব্যবহৃত ফোনগুলি দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।”
আশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পাশাপাশি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে। এই নিয়ে নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সুইসাইড নোট ফরেনসিকে যাবে। তাঁর হাতের লেখা কি না এটা পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে। একজন রাজনৈতিক নেতা কিংবা বিরোধী নেতা হিসেবে অনেক কথা বলতে পারতাম। কিন্তু, এখন ওই সুইসাইড নোটের উপর আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না। সুইসাইড নোট পরীক্ষা নিরীক্ষার পর একজন পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমার বলা উচিত। পুলিশমন্ত্রীর দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।”
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সকালেই খবরটা শুনেছি। খুবই দুঃখের। আমরা তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। ২০০৬ সালে গুটিকয়েক বিরোধী বিধায়ক ছিলেন। তার মধ্যে উনিও ছিলেন, আমিও ছিলাম। স্বাভাবিকভাবে আমার কাছে বেদনার। তারপর পুলিশকে যা বলার বলেছি। জেলাশাসককে বলেছি। ময়নাতদন্ত সুষ্ঠুভাবে করার জন্য বলেছি। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বলেছি পুলিশকে।“
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “স্থানীয় বিধায়ক ধ্রুব সাহার কাছে জানার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় সাংসদ অসিত মাল আমায় ফোন করেছিলেন। উনি পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। আমি বললাম, ভিডিয়ো কল করছি। ভিডিয়ো কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। সমবেদনা জানিয়েছি। পাশে থাকার কথা জানিয়েছি। আমি তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেউ উত্ত্যক্ত করেছেন কি না। এর মধ্যে অর্থাৎ আমাদের এই ১০০ দিনে কিছু ঘটেছে কি না। তাঁরা বললেন, কোনও কিছু ঘটেনি। বরং ধ্রুব সাহা বাড়িতে এসে প্রণাম করে গিয়েছেন।”
তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (TRDA)-র চেয়ারম্যান ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ওঁকে কেউ ডাকেনি। উনি শান্তিপূর্ণভাবে ছিলেন। উনি সবার সঙ্গে মিশতেন। আশিসবাবুর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হয়েছে বলে আমার জানা নেই। পরিবারও জানিয়েছে, আমাদের কাছে পুলিশের তরফে কোনও ফোন আসেনি।”
পরিবারের সদস্যদের পুলিশকে সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি তাঁর পরিবারের সদস্যদের বলেছি, একটু পুলিশকে সহযোগিতা করুন। উনি যে মোবাইলগুলো ব্যবহার করতেন, সেগুলো যদি পুলিশকে দেন, তাহলে তারা তদন্ত করে দেখবে। দুর্নীতিগ্রস্ত কোনও লোকজন তাঁকে ভয় দেখিয়েছেন কি না।”
