বিদেশ যাওয়ার জন্য অভিষেকের আদালতে দেওয়া সার্টিফিকেট জাল! দাবি মেডিকেল কাউন্সিলের

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (Abhishek Banerjee)অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন…

abhishek-banerjee-medical-certificate

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (Abhishek Banerjee)অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর নির্দেশ দেয়।

Advertisements

এখন মেডিকেল কাউন্সিল অভিযোগ করেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টে যে মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন, তা নকল।যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়, তাহলে সাংবিধানিক আদালতে জাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া শুধু অনৈতিক নয়, ন্যায়ব্যবস্থার মূলে আঘাত। আইনজীবী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ এখনও মুক্তি পায়নি আন্দোলনকারীরা! ফের পথে নামার হুঁশিয়ারি আরশোলা সৌরভের

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রার আবেদন নিয়ে। তিনি আদালতে জানিয়েছিলেন, চোখের বিশেষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান। সঙ্গে জমা দেওয়া হয় মেডিকেল সার্টিফিকেট। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে বলে, দেশেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। এরপরই মেডিকেল কাউন্সিলের অভিযোগ সামনে আসে।

Advertisements

তাঁরা দাবি করেছে, জমা দেওয়া সার্টিফিকেটটি জাল।এই অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তিগত স্তরের অসততা নয়, আদালতের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবেও দেখা হবে। আইনজীবীরা বলছেন, সাংবিধানিক আদালতে জাল নথি জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এতে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়ে। যদি কেউ জেনেশুনে জাল সার্টিফিকেট ব্যবহার করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরও দেখুনঃ মোদীর ভিডিও উধাও কেন! মেটার গ্লোবাল হেডকে সমন ধরাল সরকার

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে তৃণমূলের একাংশের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। দলের অনেকেই মনে করেন, এই ধরনের অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত করবে। বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলো এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তাঁরা বলছেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে এই ধরনের আচরণ গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর।

এদিকে আইনজীবী সমাজের একাংশ দাবি করেছে, হাইকোর্টের উচিত পুরো ঘটনার তদন্ত করে দেখা। যদি জালিয়াতির প্রমাণ মেলে, তাহলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে মেডিকেল কাউন্সিলের অভিযোগ যাচাই করা দরকার। কারণ এই ধরনের অভিযোগ যাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত না হয়।সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া মিশ্র।

আরও দেখুনঃ ৬ মাসে ৪৪ হিন্দু খুন-২৫৭ সাম্প্রদায়িক হামলা! বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রিপোর্টে ছড়াল আতংক

কেউ কেউ বলছেন, নেতাদেরও সাধারণ নাগরিকের মতো আইন মানতে হবে। অন্যরা মনে করেন, অভিযোগ উঠলে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী নেতার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আরও বেশি জরুরি।

Advertisements