বাংলার প্রতিবেশী রাজ্যে ৩ গুন বেতন বাড়ল বিধায়কদের

ভুবনেশ্বর, ১১ ডিসেম্বর: ওড়িশার বিধানসভায় পাস হল এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত (Odisha MLA Salary Hike)বিধায়কদের মাসিক বেতন এবং ভাতা এক লাফে তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এর…

odisha-mla-salary-hike-2024-2025-full-details

ভুবনেশ্বর, ১১ ডিসেম্বর: ওড়িশার বিধানসভায় পাস হল এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত (Odisha MLA Salary Hike)বিধায়কদের মাসিক বেতন এবং ভাতা এক লাফে তিনগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হলো। এর ফলে দেশব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে নবম সংশোধনী এই বেতন কাঠামো। প্রতিবেশী বাংলাতেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

Advertisements

ওড়িশা বিধানসভায় সর্বসম্মতিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়, যার মাধ্যমে ১৭তম বিধানসভার মেয়াদ শুরু হওয়া জুন ২০২৪ থেকে বিধায়কদের নতুন বেতন কার্যকর হল। দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৃদ্ধি দাবি করে আসা বিধায়কদের মতে, তাদের কাজের চাপ, জনসংযোগ, খরচ ও ক্রমবর্ধমান জীবিকা ব্যয় বিবেচনা করলে পুরনো বেতন কাঠামো আর বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাচ্ছিল না।

   

জোটবদ্ধ ক্লাবগুলির সঙ্গে প্রথম ডিভিশন লিগ আয়োজনে আগ্ৰহী ফেডারেশন

এর আগে এক জন বিধায়ক মাসে মোটামুটি ১.১১ লক্ষ টাকা পেতেন। নতুন সংশোধনের পর সেই সংখ্যাটি দাঁড়াল ৩.৪৫ লক্ষ টাকায়। শুধু বেসিক বেতনই নয়, বিভিন্ন ভাতা যাতায়াত, বই-পত্রিকা, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা সব ক্ষেত্রেই বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছে।

Advertisements

নতুন বেতন কাঠামোতে একজন বিধায়ক পাবেন বেসিক বেতন ₹90,000, কনস্টিটুয়েন্সি/সেক্রেটারিয়াল অ্যালোয়েন্স: ₹75,000, কনভেয়েন্স অ্যালোয়েন্স: ₹50,000, বই, জার্নাল, পিরিয়ডিক্যালস: ₹10,000, বিদ্যুৎ ভাতা: ₹20,000, ফিক্সড ট্র্যাভেলিং ভাতা: ₹50,000, মেডিক্যাল ভাতা: ₹35,000, টেলিফোন ভাতা: ₹15,000 এই সব মিলিয়ে মাসিক পারিশ্রমিক দাঁড়াল ₹3,45,000।

পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী মুকেশ মহালিং জানান, “সকল দলের সদস্যরা বেতন বৃদ্ধি সমর্থন করেছেন। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হল বিধায়কদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের কাজের মান আরও উন্নত করা।” এছাড়া সংশোধনী বিলে উল্লেখ আছে, প্রতি পাঁচ বছরে একবার বেতন, ভাতা ও পেনশন পুনর্বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমেও বেতন বাড়ানো সম্ভব হবে যা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাংশের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিধায়কদের মতোই মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পদাধিকারীর বেতনও বাড়বে। যদিও তাদের নতুন প্যাকেজের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি, সরকারি সূত্রের দাবি—সেটিও একই অনুপাতে যথেষ্ট বৃদ্ধি পাবে। বিধায়কদের মতে, বহু বছর পর পাওয়া এই বেতন বৃদ্ধি তাঁদের কাজের দায়বদ্ধতা বাড়াবে। তবে সাধারণ মানুষের একাংশ বলছেন, “রাজ্যে যখন বেকারত্ব ও মূল্যবৃদ্ধি সমস্যা তীব্র, তখন বিধায়কদের বেতন এমনভাবে বাড়ানো কতটা যুক্তিযুক্ত?”

অন্যদিকে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতন বাড়ালে রাজনীতির পেশাগত মান উন্নত হয়। ফলে যোগ্য মানুষ রাজনীতিতে আসার আগ্রহ পায়। ওড়িশার এই বেতন বৃদ্ধি প্রতিবেশী বাংলাতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠছে যে পশ্চিমবঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে বিধায়কদের বেতন অপরিবর্তিত রয়েছে, তাই তা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। ওড়িশা সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে ভারতে আইন প্রণেতাদের আর্থিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও মূল্যায়নের দরজা খুলে দিল।

Advertisements