‘মুসলিমদের যত পারেন বঞ্চিত করুন!’ মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানে বিতর্ক

গুয়াহাটি: অসমে রোজ চলছে বুলডোজার। (Himanta Biswa Sarma)মিয়া মুসলিমদের খেদিয়ে দিয়ে জমি অধিগ্রহণ পর্বের মধ্যেই নয়া ফতোয়া জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রকাশ্যে একটি…

himanta-biswa-sarma-miya-muslims-controversy

গুয়াহাটি: অসমে রোজ চলছে বুলডোজার। (Himanta Biswa Sarma)মিয়া মুসলিমদের খেদিয়ে দিয়ে জমি অধিগ্রহণ পর্বের মধ্যেই নয়া ফতোয়া জারি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। প্রকাশ্যে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন যে অসমের মানুষ যেভাবে পারে মিয়া মুসলিমদের হেনস্থা করুন। রিক্সা ভাড়া ৫ টাকা চাইলে ৪ টাকা দিন। তিনি আরও বলেন যে মিয়াদের এত হয়রান করুন যাতে তারা অসমবাসীর হকের জমি ছাড়তে বাধ্য হয়।

Advertisements

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন যে এতে হয়তো কংগ্রেসের অসুবিধা বা আপত্তি থাকতে পারে কিন্তু তাতে সরকারের কিছুই করার নেই। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে। কংগ্রেস সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে আক্রমণ শানিয়েছে তারা বলেছে একজন মুখ্যমন্ত্রী কি করে এই ধরণের মন্তব্য করতে পারেন। তারা আরও বলেছে মিয়া মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে অসমের বাসিন্দা কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে এই ধরণের মন্তব্য করে শুধু ঘৃণা ছড়াচ্ছেন।

   

Astra Mk-1-কে আপগ্রেড করবে ডিআরডিও, পাল্লা হবে ১১০ থেকে ১৬০ কিমি

অসমের রাজনৈতিক মহল এমনিতেই উত্তপ্ত এবং মিয়া মুসলিমদের উচ্ছেদ চলছে বহু দিন ধরেই। সরকার দীর্ঘদিন ধরেই এই বুলডোজার অভিযান চালিয়ে অসমের বনাঞ্চলকে পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও বহুবার অভিযোগ করেছেন যে মিয়া মুসলিমরা প্রত্যেকেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের এই রাজ্য ছেড়ে চলে যেতেই হবে।

Advertisements

এমনকি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও অসমের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের জন্য রাজ্যের ডেমোগ্রাফি বদলে যাচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সামাজিক মহলেও যথেষ্ট আলোচিত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই এই মন্তব্যকে হেট্ স্পিচ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন একজন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে এই ধরণের মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়।

তারা আরও বলেছে যে অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে বের করার জন্য আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, কিন্তু এইভাবে কাউকে সরাসরি হেনস্থা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একজন মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে এই ধরণের মন্তব্য করেন এমনটাও বলেছেন অনেকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মোতে অসমের বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায় বহু দশক ধরে চাষবাস, রিকশা চালানো, ছোটখাটো ব্যবসা ও শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে।

তাদের অনেকেই দাবি করেন, তারা ভারতের স্বাধীনতার আগে বা পরে এসে এখানে বসতি গড়েছেন এবং সব ধরনের নাগরিক দলিল তাদের কাছে আছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের দৈনন্দিন জীবনে অবিশ্বাস ও সন্দেহের ছায়া লেগে থাকে। রিকশাচালক, ভ্যানচালক বা ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করা এই মানুষগুলির জন্য এমন মন্তব্য মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও চাপ সৃষ্টি করছে।

Advertisements