কলকাতা: মহানায়ক উত্তমকুমারের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এ বার খাস কলকাতার বুকেই গড়ে উঠছে অত্যাধুনিক পরিকাঠামো। শুক্রবার সকালে নিউটাউনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রস্তাবিত ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর ভূমিপুজো ও শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টলিপাড়ার একঝাঁক তারকার উপস্থিতিতে এ দিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে রাজ্যের পরবর্তী ‘সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা’ (Cultural Advisor) হিসেবে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী থাকছে এই ফিল্ম সেন্টারে?
রাজ্যে চলচ্চিত্র শিল্পের আধুনিকীকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলাই এই মহতী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করতে প্রাথমিক ভাবে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই ফিল্ম সেন্টারে দর্শকদের জন্য থাকছে ৭৫০ আসনবিশিষ্ট দু’টি অত্যাধুনিক থিয়েটার এবং ১০০০ আসনের একটি সুবিশাল প্রেক্ষাগৃহ। শুধু সিনেমা দেখাই নয়, সিনেমা নির্মাণের জন্য বিশ্বমানের স্টুডিয়ো তৈরি হচ্ছে এখানে। অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল এফেক্টস (VFX), কমিকস এবং উন্নত পোস্ট-প্রোডাকশনের ল্যাবরেটরিও থাকছে এই সেন্টারের অন্দরে। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জমির মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ডিপিআর (DPR) তৈরির কাজ চলছে। বর্ষা মিটলেই পুরোদমে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে যাবে।
মহানায়কের উদ্যাপনে নেই রাজনীতি
এ দিন দলমত নির্বিশেষে টলিউডের একাধিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, শিল্পের প্রতি এই ভালোবাসায় কোনও রাজনৈতিক বিভাজন বা রং নেই। তাঁর কথায়, ‘‘মহানায়ক সমগ্র বাঙালির গর্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুপ্রেরণায় এবং সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’’
উদ্যোগের নেপথ্যে টলিউড
এ দিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী এবং রঞ্জিত মল্লিকের মতো প্রবীণ অভিনেতারা। গোটা কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি এবং সমন্বয়ের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা ও আয়োজকের ভূমিকায় দেখা যায় যিশু সেনগুপ্তকে। পাশাপাশি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রঞ্জিত মল্লিক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও হরনাথ চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতার কথাও এ দিন বিশেষভাবে স্মরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ক্ষণিকের উদ্যাপন নয়, বরং আগামী দিনে বাংলা সিনেমাকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে এই ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’ যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে, তা একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছে ওয়াকিবহাল মহল।
নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য! চন্দ্রচূড় ঘোষের গবেষণা নিয়ে নয়া সিরিজ OTT তে
‘শিক্ষার প্রতি এই অঙ্গীকার ভারতকে গর্বিত করবে’, নিট-বিক্ষোভে পড়ুয়াদের পাশে সলমন
