বাংলার রাজনীতিতে শূন্য হয়েও টলিপাড়ায় জয়জয়কার বামেদের

কলকাতা: টলিপাড়ায় রাজনৈতিক জল্পনা যখন তুঙ্গে, বাংলার মসনদ কার হাতে যাবে তৃণমূল না (Artists Forum)বিজেপি তখন এক অন্য রাজনীতির খবর এল টালিগঞ্জ আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচন…

left-victory-tollygunge-artists-forum-election

কলকাতা: টলিপাড়ায় রাজনৈতিক জল্পনা যখন তুঙ্গে, বাংলার মসনদ কার হাতে যাবে তৃণমূল না (Artists Forum)বিজেপি তখন এক অন্য রাজনীতির খবর এল টালিগঞ্জ আর্টিস্ট ফোরামের নির্বাচন থেকে। রাজ্যের রাজনীতিতে বামেরা যেখানে শূন্যের কোঠায় পৌঁছে গেছে, সেখানে টলিউডের শিল্পী সংগঠনে ফের লাল আবির উড়ল। ওয়েস্ট বেঙ্গল মোশন পিকচার আর্টিস্টস ফোরামের (টালিগঞ্জ আর্টিস্ট ফোরাম) সাম্প্রতিক নির্বাচনে বামপন্থী প্যানেলের প্রার্থীরা বড় জয় পেয়েছেন।

Advertisements

অভিনেতা চন্দন সেন এবং দেবদূত ঘোষ সহ একাধিক বাম সমর্থিত প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হয়েছেন, যা টলিপাড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হতেই সামনে এল নতুন কমিটির ছবি। সংগঠনের সভাপতি হয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক। কার্যকরী সভাপতি পদে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।

   

সবুজ-মেরুনের এই প্রাক্তন তারকাকে দলে টানল মুম্বাই সিটি এফসি

সহ-সভাপতি হিসেবে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, ভরত কল ও লাবণী সরকারের নাম ঘোষিত হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। সহকারী সম্পাদক পদে দেবদূত ঘোষ এবং আবির চট্টোপাধ্যায় জায়গা করে নিয়েছেন। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে চন্দন সেন নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পেয়েছেন বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়।

Advertisements

এই ফলাফল দেখে অনেকে বলছেন যে টলিউডের শিল্পী সংগঠনে বামপন্থীদের প্রভাব এখনও অটুট। চন্দন সেন এবং দেবদূত ঘোষের মতো অভিনেতারা দীর্ঘদিন ধরে বাম ঘরানার সঙ্গে যুক্ত। চন্দন সেন তো বামফ্রন্ট আমলে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, আর দেবদূত ঘোষও শিল্পীদের অধিকার রক্ষায় বামপন্থী লাইনে কাজ করে আসছেন। এই নির্বাচনে বামপন্থী প্যানেলের জয়কে অনেকে ‘লাল ঝড়’ বলে অভিহিত করছেন।

যদিও সংগঠনটি রাজনৈতিক দল নয়, কিন্তু শিল্পীদের সংগঠন হিসেবে এর প্রভাব টলিউডে যথেষ্ট।নির্বাচনের আগে টলিপাড়ায় বেশ উত্তেজনা ছিল। দু’বছর নির্বাচন না হওয়ায় কিছু প্যানেল অপেক্ষায় ছিল। এবারের ভোটে শিল্পীদের প্রটেকশন, সিকিউরিটি, নতুনদের সুযোগ এবং সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রবীণ অভিনেতা দুলাল লাহিড়ী বলেছেন, “আর্টিস্ট ফোরাম নতুনদের জন্য অনেক কিছু করছে।

লড়াই করে আমরা এই সংগঠনকে শক্তিশালী করেছি।” শঙ্কর চক্রবর্তীও বলেছেন যে সঠিক প্রার্থী জিতুক, এটাই চান।এই জয়ের পর টলিউডে আলোচনা হচ্ছে যে বামপন্থীদের সাংস্কৃতিক প্রভাব এখনও রয়ে গেছে। রাজ্য রাজনীতিতে যেখানে তারা প্রায় অদৃশ্য, সেখানে শিল্পীদের মধ্যে তাদের সমর্থন দেখে অনেকে অবাক। কেউ কেউ বলছেন, এটি শুধু সংগঠনের নির্বাচন নয়, বরং সাংস্কৃতিক রাজনীতির একটি প্রতিফলন। তৃণমূল বা বিজেপির প্রভাব টলিপাড়ায় থাকলেও, বামেরা শিল্পীদের মধ্যে এখনও শক্ত ঘাঁটি ধরে রেখেছে।

Advertisements