পুরনো BMW, Audi বা Mercedes কিনবেন? ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে ৪ ভুল ধারণা

নয়াদিল্লি: নতুন বিলাসবহুল গাড়ি (Luxury Cars) শোরুম থেকে বের করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে গাড়ির দাম, অবচয় এবং মালিকানার সামগ্রিক খরচ বিবেচনা…

used-bmw-audi-mercedes-luxury-car-myths-buying-guide

নয়াদিল্লি: নতুন বিলাসবহুল গাড়ি (Luxury Cars) শোরুম থেকে বের করে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। তবে গাড়ির দাম, অবচয় এবং মালিকানার সামগ্রিক খরচ বিবেচনা করে বর্তমানে অনেক ক্রেতাই সার্টিফায়েড প্রি-ওনড বা ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন।

Advertisements

সংগঠিত ডিলারশিপ, গাড়ির ইতিহাস যাচাইয়ের সুবিধা এবং সহজতর অর্থায়ন ব্যবস্থার কারণে প্রি-ওনড বিলাসবহুল গাড়ির বাজারও বদলেছে। তবুও বিএমডব্লিউ, অডি বা মার্সিডিজের মতো পুরনো বিলাসবহুল গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের মধ্যে এখনও বেশ কিছু পুরনো ধারণা রয়েছে। অটোবেস্ট এম্পেরিওর প্রতিষ্ঠাতা অবনীত সিং কোহলি এমন কয়েকটি প্রচলিত ধারণার ব্যাখ্যা করেছেন।

   

ভুল ধারণা ১: পুরনো বিলাসবহুল গাড়ি মানেই রক্ষণাবেক্ষণের খরচে সর্বস্বান্ত

ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ধারণাগুলির একটি হল, কয়েক বছর পর এই গাড়িগুলি মালিকের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
এই ধারণার পিছনে অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহৃত গাড়ির বাজারের অভিজ্ঞতা বড় কারণ। সেখানে অনেক সময় গাড়ির সম্পূর্ণ ইতিহাস পাওয়া যায় না এবং গাড়ির গুণমান যাচাইও যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য হয় না।

তবে সংগঠিত প্রি-ওনড বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। সার্টিফায়েড ডিলাররা ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, সাসপেনশন, ইলেকট্রনিক্স এবং গাড়ির বাহ্যিক অবস্থাসহ একাধিক বিষয় বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করেন। অনেক গাড়ির ক্ষেত্রে যাচাই করা সার্ভিস রেকর্ডও পাওয়া যায়।

Advertisements

ফলে ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা এবং সঠিক ইতিহাস-সহ গাড়ি বিশ্বস্ত ডিলারের কাছ থেকে কিনলে দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা সম্ভব বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

Also Read | চিন,পাক-বাংলাদেশ সীমান্তে রেল খাতে ৪৫০০০ কোটি বরাদ্দ করার পরিকল্পনা মোদী সরকারের

ভুল ধারণা ২: ৫০-৬০ হাজার কিলোমিটার চললেই বিলাসবহুল গাড়ি নষ্ট হতে শুরু করে

ব্যবহৃত গাড়ির বাজারে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ধারণা হল, আধুনিক বিলাসবহুল গাড়ি ৫০,০০০ বা ৬০,০০০ কিলোমিটার পার করলেই বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে।
তবে গাড়ির মিটার কত কিলোমিটার দেখাচ্ছে, সেটিই তার প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করে না। প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিয়মিত সার্ভিসিং, আগের মালিকের গাড়ি চালানোর ধরন এবং রক্ষণাবেক্ষণের মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতারা ইঞ্জিনিয়ারিং, উপকরণ এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ করেন। তাই শুধু কিলোমিটার দেখে গাড়ির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে তার সার্ভিস ইতিহাস এবং রক্ষণাবেক্ষণের রেকর্ড খতিয়ে দেখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভুল ধারণা ৩: প্রি-ওনড বিলাসবহুল গাড়ি কিনলে পুরনো প্রযুক্তি মেনে নিতে হবে

অনেক ক্রেতা মনে করেন, ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ি কিনলে নতুন প্রযুক্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে। কিন্তু কয়েক বছর পুরনো অনেক প্রিমিয়াম গাড়িতেও উন্নত প্রযুক্তি এবং আরামদায়ক ফিচার পাওয়া যায়।

বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতারা সাধারণত নতুন প্রযুক্তি এবং উন্নত ফিচার দ্রুত বাজারে নিয়ে আসে। ফলে কয়েক বছর পুরনো গাড়িতেও উন্নত ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, বিভিন্ন সুরক্ষা ও আরামের ফিচার, কানেক্টেড প্রযুক্তি, ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স ফিচার থাকতে পারে। অর্থাৎ নতুন গাড়ির তুলনায় কম দামে প্রিমিয়াম গাড়ির অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

Also Read | লাদাখে যুদ্ধযানের জন্য Indian Army কেন XWG ডিজেলের দিকে ঝুঁকছে?

ভুল ধারণা ৪: ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়ির ঋণ ও বিমা খুব কঠিন বা ব্যয়বহুল

অনেকের ধারণা, কয়েক বছর পুরনো বিলাসবহুল গাড়ির জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন। বিমার খরচ নিয়েও একই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।
কিন্তু সংগঠিত প্রি-ওনড বিলাসবহুল গাড়ির বাজার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু ব্যাংক এবং বিশেষায়িত অটোমোটিভ এনবিএফসি সার্টিফায়েড ব্যবহৃত গাড়ির অর্থায়নে আগ্রহী হয়েছে। গাড়ির মূল্যায়ন এবং ক্রেতার যোগ্যতার ভিত্তিতে ঋণদাতারা গাড়ির মূল্যের ৮০-৮৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছেন।

বিমার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি ক্রেতাদের ধারণার তুলনায় কিছুটা আলাদা। ব্যবহৃত গাড়ির ইনসিওর্ড ডিক্লেয়ার্ড ভ্যালু বা আইডিভি নতুন গাড়ির তুলনায় ইতিমধ্যেই কমে যায়। ফলে সম্পূর্ণ বিমার প্রিমিয়ামও তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

ধরা যাক, কেউ নতুন ৩০ লক্ষ টাকার একটি এসইউভি কেনার কথা ভাবছেন। তার বদলে একই ধরনের সার্টিফায়েড প্রি-ওনড বিলাসবহুল গাড়ি কিনলে বার্ষিক বিমার খরচ প্রত্যাশার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।

এখন ক্রেতারা কী দেখছেন?

অটোবেস্ট এম্পেরিওর প্রতিষ্ঠাতা অবনীত সিং কোহলির মতে, বাজারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন গাড়িতে নয়, ক্রেতাদের মানসিকতায়। নতুন প্রজন্মের সচেতন ক্রেতারা শুধু গাড়িটি নতুন না ব্যবহৃত, সেটি দেখছেন না। তাঁরা সার্ভিস ইতিহাস, মালিকানার রেকর্ড, অর্থায়নের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নিয়ে প্রশ্ন করছেন।

তাঁর মতে, সংগঠিত প্রি-ওনড বিলাসবহুল গাড়ির বাজার ক্রেতাদের জন্য আরও বেশি স্বচ্ছতা ও আস্থা তৈরি করছে। এর ফলে নতুন গাড়ির সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত খরচ না করেও প্রিমিয়াম গাড়ির মালিকানার অভিজ্ঞতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে ব্যবহৃত বিএমডব্লিউ, অডি বা মার্সিডিজ কেনার আগে শুধু ব্র্যান্ড বা দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে গাড়ির সার্ভিস ইতিহাস, রক্ষণাবেক্ষণ, মালিকানার রেকর্ড এবং সার্টিফিকেশন যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত গাড়ির বয়স বা কিলোমিটারের চেয়ে তার প্রকৃত অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাসই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Advertisements