গুরুগাঁও: TVS Apache RTR 160 4V-এর ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস উইথ ইউএসডি ভ্যারিয়েন্টটি রেঞ্জের ফ্ল্যাগশিপ মডেলের ঠিক নিচে অবস্থান করছে। দিল্লিতে এর এক্স-শোরুম দাম ১,৩২,৭৪০ টাকা। দামি ভ্যারিয়েন্টে যাওয়ার আগে এই মডেলটিই মূলত পারফরম্যান্স, নিরাপত্তা ও ফিচারের মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরি করে। ডিজাইন থেকে ইঞ্জিন, ব্রেকিং, মাইলেজ এবং ফিচার, সবকিছু এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
৩৭ মিমি ইউএসডি ফর্ক
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি চোখে পড়বে বাইকের সামনের অংশে। আগের সস্তা ভ্যারিয়েন্টের সাধারণ টেলিস্কোপিক ফর্কের বদলে এখানে রয়েছে ৩৭ মিমি আপসাইড-ডাউন বা ইউএসডি ফর্ক। এর ফলে সামনের অংশটি আরও মোটা ও প্রিমিয়াম দেখায়। পাশাপাশি ইউএসডি ফর্ক আরও উন্নত ড্যাম্পিং দিতে পারে এবং বাইকের হ্যান্ডলিংয়েও কিছুটা সুবিধা দিতে পারে। লাইটিংয়ের ক্ষেত্রে অবশ্য রেঞ্জের অন্যান্য ভ্যারিয়েন্টের মতোই রয়েছে:
- এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প
- এলইডি টেলল্যাম্প
- এলইডি টার্ন ইন্ডিকেটর
এই ভ্যারিয়েন্টে কিছু বিশেষ রঙের বিকল্পও পাওয়া যায়। তার মধ্যে লাল অ্যালয় হুইলের সঙ্গে ম্যাট ব্ল্যাক উল্লেখযোগ্য, যা নিচের ভ্যারিয়েন্টগুলিতে পাওয়া যায় না।
Read More: চার-দরজার Ford Mustang আসছে? ৪ সেকেন্ডের কমে ১০০ কিমি গতি!
এলসিডি ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার
ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস উইথ ইউএসডি ভ্যারিয়েন্টে সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস মডেলের মতোই এলসিডি ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার রয়েছে। উপরের ইউএসডি উইথ টিএফটি ভ্যারিয়েন্টের জন্য রঙিন টিএফটি ডিসপ্লে রাখা হয়েছে। তবে এলসিডি ডিসপ্লেটিও যথেষ্ট ফিচার সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে:
- টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন
- কল অ্যালার্ট
- রাইড টেলিমেট্রি
স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে এই সুবিধাগুলি ব্যবহার করা যায়। তবে এই ভ্যারিয়েন্টে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল নেই। এটি শুধুমাত্র রেঞ্জের সবচেয়ে দামি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়।
ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস
নামেই এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যটি স্পষ্ট। এই মডেলে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস রয়েছে। অর্থাৎ শুধু সামনের চাকার বদলে সামনে ও পিছনের দুই চাকাতেই অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেমের সুরক্ষা পাওয়া যায়। ব্রেকিং হার্ডওয়্যারে রয়েছে:
- সামনে ২৭০ মিমি পেটাল ডিস্ক
- পিছনে ২৪০ মিমি পেটাল ডিস্ক
চাকা ও টায়ারের মাপও অপরিবর্তিত:
- সামনে: ৯০/৯০-১৭
- পিছনে: ১৩০/৭০-১৭
দুই চাকাতেই ১৭ ইঞ্চির রিম রয়েছে।
বাইকের ওজন ১৪৬ কেজি, যা সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় প্রায় ৩ কেজি বেশি।
ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
যান্ত্রিকভাবে এই ভ্যারিয়েন্টে কোনও পরিবর্তন নেই। পুরো Apache RTR 160 4V রেঞ্জের মতো এখানেও রয়েছে ১৫৯.৭ সিসি, এয়ার-অয়েল-কুলড, সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। রাইডিং মোড অনুযায়ী শক্তি ও টর্কের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়।
স্পোর্ট মোড
- শক্তি: ১৭.৫৫ পিএস @ ৯,২৫০ আরপিএম
- টর্ক: ১৪.৭৩ এনএম @ ৭,৫০০ আরপিএম
- সর্বোচ্চ গতি: ১১৪ কিমি/ঘণ্টা
আরবান ও রেন মোড
- শক্তি: ১৫.৬৪ পিএস @ ৮,৬৫০ আরপিএম
- টর্ক: ১৪.১৪ এনএম @ ৭,২৫০ আরপিএম
- সর্বোচ্চ গতি: ১০৩ কিমি/ঘণ্টা
অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ
ইঞ্জিনের সঙ্গে রয়েছে অ্যাসিস্ট ও স্লিপার ক্লাচ। এর ফলে ক্লাচ লিভার পরিচালনা করতে কম পরিশ্রম হয়। পাশাপাশি দ্রুত ডাউনশিফট করার সময় পিছনের চাকায় অতিরিক্ত চাপ কমিয়ে চাকাটি লক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমাতে সাহায্য করে।
মাইলেজ কেমন?
বাস্তব ব্যবহারে Apache RTR 160 4V প্রায় ৪২-৪৫ কিমি/লিটার মাইলেজ দিয়েছে। একটি স্পোর্টি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে মিশ্র ব্যবহারে এই মাইলেজ যথেষ্ট ভালো বলেই ধরা যায়।
এই ভ্যারিয়েন্ট কার জন্য?
১,৩২,৭৪০ টাকা দামে এই ভ্যারিয়েন্টটি তাঁদের জন্য উপযুক্ত, যাঁরা Apache RTR 160 4V-এর স্পোর্টি পারফরম্যান্সের সঙ্গে ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস এবং ইউএসডি ফর্ক চান, কিন্তু টপ-এন্ড টিএফটি ডিসপ্লে ও ট্র্যাকশন কন্ট্রোলের জন্য আরও বেশি টাকা খরচ করতে চান না। বিশেষ করে ইউএসডি ফর্ক, ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস, ১৭.৫৫ পিএস শক্তি এবং স্মার্ট কানেক্টিভিটি একসঙ্গে পাওয়ায় এটি রেঞ্জের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্যারিয়েন্ট।
