কলকাতা: ভারতের গাড়ির বাজারে আগামী কয়েক বছরে টয়োটার (Toyota) পণ্য তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। নতুন প্রজন্মের ফর্চুনার, ইনোভা হাইক্রসের আপডেটেড সংস্করণ, গ্লানজার ফেসলিফট, নতুন ইলেকট্রিক এমপিভি এবং ছোট আকারের ল্যান্ড ক্রুজার এফজে, একাধিক নতুন মডেল ও আপডেট নিয়ে কাজ করছে সংস্থা। ফলে ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে টয়োটার ভারতীয় পোর্টফোলিও আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠতে পারে।
১. টয়োটা ইনোভা হাইক্রস ফেসলিফট
ইনোভা হাইক্রসের ফেসলিফট ইতিমধ্যেই ভারতে পরীক্ষামূলকভাবে রাস্তায় দেখা গিয়েছে। নতুন মডেলটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে বাজারে আসতে পারে। পরীক্ষামূলক গাড়ির ছবি থেকে সামনের অংশে বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নতুন গ্রিল এবং পরিবর্তিত আলো ব্যবহারের পাশাপাশি কেবিনেও নতুন ট্রিম ও কিছু অতিরিক্ত সরঞ্জাম যোগ হতে পারে। তবে যান্ত্রিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
বর্তমান ইনোভা হাইক্রসে ২.০ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন রয়েছে, যা ১৭৩ এইচপি শক্তি উৎপন্ন করে। স্ট্রং-হাইব্রিড সংস্করণে একই ক্ষমতার ইঞ্জিন ও বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয়ে ১৮৪ এইচপি শক্তি পাওয়া যায়। পেট্রল সংস্করণে সিভিটি এবং হাইব্রিড সংস্করণে ই-সিভিটি গিয়ারবক্স রয়েছে।
২. টয়োটা গ্লানজা ফেসলিফট
টয়োটা গ্লানজার ফেসলিফট ২০২৬ সালের শেষ দিকে বাজারে আসতে পারে। যদিও টয়োটা এখনও এর আনুষ্ঠানিক লঞ্চের সময় জানায়নি।
নতুন গ্লানজায় টয়োটার নিজস্ব ডিজাইনের ছাপ আরও স্পষ্ট হতে পারে। বর্তমানে গাড়িটির সঙ্গে মারুতি সুজুকি ব্যালেনোর যথেষ্ট মিল রয়েছে। নতুন সংস্করণে সেই মিল কিছুটা কমিয়ে আলাদা স্টাইল দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাড়িটিতে আরও প্রযুক্তি যোগ হতে পারে বলেও রিপোর্ট রয়েছে। স্ট্রং-হাইব্রিড প্রযুক্তি এবং এডিএএস যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এই বিষয়গুলি এখনও নিশ্চিত নয়। বর্তমান গ্লানজায় ১.২ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন রয়েছে। পাশাপাশি সিএনজি সংস্করণও পাওয়া যায়।
৩. মারুতি ওয়াইএমসি-ভিত্তিক টয়োটা ইলেকট্রিক এমপিভি
টয়োটা তিন সারির একটি নতুন ইলেকট্রিক এমপিভি তৈরির কাজ করছে। গাড়িটি মারুতি সুজুকির আসন্ন ওয়াইএমসি মডেলের সঙ্গে একই স্থাপত্য ব্যবহার করবে। নতুন ইলেকট্রিক এমপিভিটি ২০২৭-২৮ সালের দিকে বাজারে আসতে পারে। গাড়িটি হিয়ারটেক-ই স্থাপত্যের উপর তৈরি হবে। টয়োটার ইলেকট্রিক এমপিভিটি ভেলফায়ারের নিচে এবং ইনোভার পাশাপাশি অবস্থান করবে।
তবে একই ভিত্তি ব্যবহার করলেও টয়োটা সংস্করণে আলাদা ডিজাইন ও নিজস্ব অবস্থান দেখা যেতে পারে। গাড়িটি বিওয়াইডি ইম্যাক্স ৭-এর মতো মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। ভারতে এটি টয়োটার তুলনামূলকভাবে বেশি সাশ্রয়ী তিন সারির ইলেকট্রিক গাড়ি হয়ে উঠতে পারে।
৪. নতুন প্রজন্মের টয়োটা ফর্চুনার
এই তালিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মডেলগুলির মধ্যে অবশ্যই থাকবে নতুন প্রজন্মের টয়োটা ফর্চুনার। নতুন গাড়িটির পরীক্ষামূলক সংস্করণ ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে। ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে এটি ভারতে আসতে পারে। যদিও টয়োটা এখনও নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা করেনি।
নতুন ফর্চুনারে টয়োটার ল্যাডার-ফ্রেম স্থাপত্যের আপডেটেড সংস্করণ ব্যবহার হতে পারে। গাড়িটির ডিজাইন আরও বক্সি হতে পারে এবং কেবিনে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত কানেক্টিভিটি যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এডিএএস-ও নতুন প্রজন্মের ফর্চুনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হতে পারে। ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ২.৭ লিটারের পেট্রল এবং ২.৮ লিটারের ডিজেল ইঞ্জিন চালু থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজেল ইঞ্জিনের সঙ্গে বর্তমান ৪৮ ভোল্ট মাইল্ড-হাইব্রিড প্রযুক্তিও থাকতে পারে। চার-চাকা চালনা ব্যবস্থা এবং ম্যানুয়াল ও স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সের বিকল্পও বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫. টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার এফজে
তালিকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় মডেল হতে পারে ল্যান্ড ক্রুজার এফজে। এটি মূলত তুলনামূলক ছোট এবং সাশ্রয়ী ল্যান্ড ক্রুজার হিসেবে বাজারে আসতে পারে।
গাড়িটি ২০২৮ সালের শেষ দিকে ভারতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি টয়োটার মহারাষ্ট্রের আসন্ন কারখানায় এর উৎপাদন হতে পারে বলেও সম্ভাবনা রয়েছে। ল্যান্ড ক্রুজার এফজে-তে আইএমভি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হবে। এই একই প্ল্যাটফর্ম ফর্চুনার এবং হাইলাক্সের মতো গাড়িতেও ব্যবহৃত হয়।
ভারতীয় সংস্করণে ডিজেল ইঞ্জিন না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এর পরিবর্তে প্রায় ১৬৩ এইচপি শক্তি এবং ২৪৬ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপাদনকারী ২.৭ লিটারের পেট্রল ইঞ্জিন থাকতে পারে। পাশাপাশি স্ট্রং-হাইব্রিড এবং প্লাগ-ইন হাইব্রিড সংস্করণ নিয়েও টয়োটা ভাবছে বলে জানা যাচ্ছে।
টয়োটার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গাড়িগুলি?
টয়োটার আসন্ন পণ্য তালিকা দেখলে বোঝা যায়, সংস্থা শুধু নতুন গাড়ি যোগ করার পরিকল্পনা করছে না। ভারতীয় গাড়ির বাজার যে বিভিন্ন দিকে এগোচ্ছে, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই পোর্টফোলিও সাজাচ্ছে টয়োটা।
একদিকে থাকবে ডিজেল ও মাইল্ড-হাইব্রিড প্রযুক্তির এসইউভি, অন্যদিকে স্ট্রং-হাইব্রিড গাড়ি। পাশাপাশি সাশ্রয়ী হ্যাচব্যাক এবং তিন সারির ইলেকট্রিক এমপিভিও আসবে। এর সঙ্গে ল্যান্ড ক্রুজার এফজে-র মতো নতুন অফ-রোডার যোগ হলে টয়োটার ভারতীয় পোর্টফোলিও আরও শক্তিশালী হবে।
এর মধ্যে নতুন প্রজন্মের ফর্চুনার সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ক্রেতার নজর কাড়তে পারে। তবে ইলেকট্রিক এমপিভি এবং ল্যান্ড ক্রুজার এফজে ভবিষ্যতে ভারতে টয়োটার কৌশলের ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
