Toyota Hyryder অ্যারো ব্ল্যাক এডিশন, ৩১,৯৯৯ টাকায় বদলাবে লুক

গুরুগাঁও: টয়োটা আরবান ক্রুজার হাইরাইডারের (Toyota Hyryder) জন্য নতুন অ্যারো ব্ল্যাক এডিশন নিয়ে এল টয়োটা। এটি কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট নয়, বরং একটি স্টাইলিং প্যাকেজ। স্ট্যান্ডার্ড…

toyota-hyryder-aero-black-edition-price-features

গুরুগাঁও: টয়োটা আরবান ক্রুজার হাইরাইডারের (Toyota Hyryder) জন্য নতুন অ্যারো ব্ল্যাক এডিশন নিয়ে এল টয়োটা। এটি কোনও নতুন ভ্যারিয়েন্ট নয়, বরং একটি স্টাইলিং প্যাকেজ। স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েন্টের দামের উপর অতিরিক্ত ৩১,৯৯৯ টাকা খরচ করে এই প্যাকেজ নেওয়া যাবে।

Advertisements

অ্যারো ব্ল্যাক এডিশন প্যাকেজটি হাইরাইডারের জি এবং ভি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাবে। শুধু পেট্রল সংস্করণ নয়, নিওড্রাইভ মাইল্ড-হাইব্রিড এবং স্ট্রং-হাইব্রিড, দুই ধরনের পাওয়ারট্রেনের সঙ্গেই এই প্যাকেজ বেছে নেওয়া যাবে। মূলত যারা হাইরাইডারের চেহারায় আরও স্পোর্টি এবং আগ্রাসী ভাব চান, তাঁদের জন্যই নতুন এই এডিশন।

   

কী বদলেছে অ্যারো ব্ল্যাক এডিশনে?

অ্যারো ব্ল্যাক এডিশনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন গাড়ির বাইরের ডিজাইনে। প্যাকেজের মাধ্যমে হাইরাইডারের একাধিক ক্রোম এবং সিলভার রঙের অংশকে কালো করা হয়েছে। সামনের অংশে রয়েছে কালো গ্রিল আপার গার্নিশ, স্পোর্টি ফ্রন্ট স্পয়লার এবং কালো হেডল্যাম্প গার্নিশ। স্ট্যান্ডার্ড গাড়ির ক্রোম ও সিলভার অ্যাকসেন্টের জায়গায় এই কালো উপাদানগুলি ব্যবহার করায় গাড়িটির চেহারা আরও স্পোর্টি হয়েছে।

পিছনের অংশেও একই ধরনের পরিবর্তন রয়েছে। এখানে পাওয়া যাচ্ছে কালো টেলগেট গার্নিশ এবং কার্যকরী রিয়ার স্পয়লার। এছাড়াও বিশেষ সংস্করণ হিসেবে চেনানোর জন্য গাড়িতে রয়েছে ‘অ্যারো ব্ল্যাক’ লিমিটেড এডিশন ব্যাজ। তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এই প্যাকেজে গাড়ির ইঞ্জিন, যান্ত্রিক ব্যবস্থা বা ফিচারের তালিকায় কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩১,৯৯৯ টাকা মূলত ডিজাইনের পরিবর্তনের জন্য দিতে হবে।

Advertisements

হাইরাইডারের ডিজাইন কেমন?

টয়োটা আরবান ক্রুজার হাইরাইডার এমনিতেই কমপ্যাক্ট এসইউভি সেগমেন্টে আলাদা ডিজাইনের জন্য পরিচিত। সামনে রয়েছে টয়োটার ক্রিস্টাল অ্যাক্রিলিক গ্রিল, যা গাড়িটিকে প্রিমিয়াম চেহারা দেয়। এর সঙ্গে রয়েছে সরু টুইন এলইডি ডে-টাইম রানিং ল্যাম্প। মূল প্রজেক্টর হেডল্যাম্প বাম্পারের নিচের অংশে রাখা হয়েছে। এই স্প্লিট-হেডল্যাম্প ডিজাইন বর্তমানে এসইউভি বাজারে বেশ জনপ্রিয়।

হাইরাইডার মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারার সঙ্গে একই প্ল্যাটফর্ম ও আকৃতি ভাগ করে নিলেও টয়োটার নিজস্ব ডিজাইনের কারণে গাড়িটির আলাদা পরিচয় রয়েছে। পাশ থেকে দেখলে ১৭-ইঞ্চি অ্যালয় হুইল, রেকড উইন্ডস্ক্রিন, কালো বি এবং সি পিলার এবং পেশিবহুল বডি গাড়িটিকে এসইউভির মতো উপস্থিতি দেয়। পিছনে রয়েছে বুমেরাং আকৃতির এলইডি টেলল্যাম্প। বাম্পারে ইন্ডিকেটর এবং রিভার্স ল্যাম্পের হাউজিংয়ের পাশাপাশি নিচে বড় ফক্স স্কিড প্লেট দেওয়া হয়েছে।

কেবিনে থাকছে একই ফিচার

অ্যারো ব্ল্যাক এডিশন মূলত একটি স্টাইলিং প্যাকেজ হওয়ায় কেবিনে কোনও বড় পরিবর্তন করা হয়নি। জি এবং ভি ভ্যারিয়েন্টে যে ইন্টেরিয়র ও ফিচার পাওয়া যায়, এই সংস্করণেও সেটিই থাকবে।

হাইরাইডারের কেবিনে রয়েছে কালো ও বাদামি ডুয়াল-টোন থিম। ড্যাশবোর্ডে সফট-টাচ উপাদান এবং বেশিরভাগ স্পর্শযোগ্য অংশে লেদারেট ফিনিশ রয়েছে। গাড়িতে পাঁচজন যাত্রী বসতে পারেন। তবে পিছনের আসনে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক দীর্ঘ সময় বসলে আরাম কিছুটা কম হতে পারে।

ভি ভ্যারিয়েন্টে প্রিমিয়াম ফিচার

টপ-স্পেক ভ্যারিয়েন্টের উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে রয়েছে প্যানোরামিক সানরুফ এবং ৯-ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম।
এই সিস্টেমে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো এবং অ্যাপল কারপ্লে ব্যবহার করা যায়।

এছাড়াও রয়েছে:
• ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট
• অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল
• ওয়্যারলেস চার্জিং প্যাড
• অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং
• ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা
• রিক্লাইনিং রিয়ার সিট
• পিছনের যাত্রীদের জন্য আলাদা এসি ভেন্ট
• ইউএসবি চার্জিং পোর্ট
• ৬০:৪০ স্প্লিট-ফোল্ডিং রিয়ার সিট
ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী পিছনের আসন ভাঁজ করে বড় জিনিস বহনের সুবিধাও পাওয়া যায়।

নিরাপত্তায় কী রয়েছে?

অ্যারো ব্ল্যাক এডিশনে নিরাপত্তার সরঞ্জামগুলিতেও কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। হাইরাইডারে রয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ, এবিএস, ইবিডি, রিয়ার পার্কিং সেন্সর, ভেহিকল স্টেবিলিটি কন্ট্রোল এবং হিল-হোল্ড কন্ট্রোল। এছাড়াও রয়েছে ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা এবং আইএসওফিক্স চাইল্ড-সিট মাউন্ট। হাইরাইডার এখনও কোনও এনক্যাপ সংস্থার পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তবে একই প্ল্যাটফর্মের মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা আন্তর্জাতিক পরীক্ষায় শক্তিশালী নিরাপত্তা ফল দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন ধরনের ইঞ্জিনের বিকল্প

টয়োটা হাইরাইডার মোট তিনটি পাওয়ারট্রেন বিকল্পে পাওয়া যায়।

toyota-hyryder-aero-black-edition-price-features

হাইরাইডারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, ১.৫-লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রল ইঞ্জিনের ম্যানুয়াল সংস্করণে এডব্লিউডি-র বিকল্প রয়েছে। ফলে মাঝে মাঝে খারাপ বা কঠিন রাস্তা দিয়ে চলাচল করেন এমন ক্রেতাদের জন্য এটি বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

দাম ও প্রতিদ্বন্দ্বী

টয়োটা হাইরাইডারের দাম বর্তমানে ১১.৩১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু, যা এক্স-শোরুম মূল্য। নতুন অ্যারো ব্ল্যাক এডিশনের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ভ্যারিয়েন্টের উপর অতিরিক্ত ৩১,৯৯৯ টাকা দিতে হবে। এই এসইউভির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে হুন্ডাই ক্রেটা, হোন্ডা এলিভেট, কিয়া সেলটোস, স্কোডা কুশাক, ভক্সওয়াগন তাইগুন, টাটা কার্ভ এবং সিয়েরা, রেনল্ট ডাস্টার, নিসান টেকটন এবং একই পরিবারের মারুতি সুজুকি গ্র্যান্ড ভিটারা।

সব মিলিয়ে, টয়োটা হাইরাইডার অ্যারো ব্ল্যাক এডিশনে কোনও বড় যান্ত্রিক পরিবর্তন না এনে মূলত ব্ল্যাকড-আউট এক্সটেরিয়র এবং স্পোর্টি ডিজাইনের মাধ্যমে গাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। যাঁরা হাইরাইডারের ফিচার ও পাওয়ারট্রেন পছন্দ করেন, কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড মডেলের তুলনায় আরও আগ্রাসী চেহারা চান, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত ৩১,৯৯৯ টাকার এই প্যাকেজটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Advertisements