২০২২ সালের সেরা ১০ BMW কাস্টম বাইক, নজরকাড়া ডিজাইনে চমকে দেবে

কলকাতা: ২০২২ সাল ছিল কাস্টম মোটরসাইকেল ডিজাইনের দিক থেকে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এই সময়ে মোটরসাইকেল, গাড়ি, অ্যারোস্পেস এবং আধুনিক শিল্পকলার ডিজাইনের সীমারেখা অনেকটাই মুছে গিয়েছিল। বিশ্বের…

top 10 bmw custom motorcycles from bikeexif 2022

কলকাতা: ২০২২ সাল ছিল কাস্টম মোটরসাইকেল ডিজাইনের দিক থেকে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। এই সময়ে মোটরসাইকেল, গাড়ি, অ্যারোস্পেস এবং আধুনিক শিল্পকলার ডিজাইনের সীমারেখা অনেকটাই মুছে গিয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কাস্টম বিল্ডাররা বিএমডব্লিউ-এর (BMW) পরিচিত মডেলগুলিকে এমনভাবে বদলে দিয়েছিলেন, যা কোনওটি দেখতে রেসিং মেশিনের মতো, কোনওটি আবার সমসাময়িক আর্ট মিউজিয়ামে রাখার মতো।

Advertisements

এই তালিকায় রয়েছে বিএমডব্লিউ আর১৮, আর নাইনটি, কে১০০, কে১১০০ আরএস, আর৬৯ এবং আর১০০আর-এর মতো মডেল। কোনওটি হয়েছে ক্যাফে রেসার, কোনওটি রিভার্স ট্রাইক, আবার কোনওটি প্রায় ভবিষ্যতের কনসেপ্ট বাইকের মতো দেখতে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ২০২২ সালে বাইক এক্সআইএফ-এর নজর কাড়া সেরা ১০টি বিএমডব্লিউ কাস্টম মোটরসাইকেল।

   

১০. ওয়ার্কহর্স স্পিড শপের ‘অ্যাভুস’ আর১৮

বেলজিয়ামের ব্রিস হেনেবার্ট তাঁর ওয়ার্কহর্স স্পিড শপের মাধ্যমে বিশালাকার বিএমডব্লিউ আর১৮-কে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেন। ১৯৩০-এর দশকের আর্ট ডেকো, প্রাক-যুদ্ধ রেসিং এবং বার্লিনের ঐতিহাসিক অ্যাভুস সার্কিট থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হয় এই কাস্টম বাইক। বাইকের অন্যতম আকর্ষণ ২১ ইঞ্চির সামনের এবং ১৮ ইঞ্চির ২৪০-সেকশনের পিছনের চাকা। ১,৮০২ সিসি বক্সার ইঞ্জিনের বিশাল আকারের সঙ্গে এই সেটআপটি দারুণ মানানসই। সাসপেনশনে রয়েছে ওহলিন্স-এর উপাদান, আর ব্রেকিং সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়েছে বেরিঙ্গারের ইনবোর্ড সেটআপ। কাস্টম এগজস্ট, থ্রি-ডি প্রিন্টেড কার্বন-রিইনফোর্সড নাইলন ফ্রন্ট ফেয়ারিং এবং হাতে তৈরি অ্যালুমিনিয়াম বডিওয়ার্ক বাইকটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।

৯. রিচার্ড পেটজোল্ডের বিএমডব্লিউ কে১০০ এলটি

ড্রেসডেনের এনার্জি টেকনোলজির ছাত্র রিচার্ড পেটজোল্ড ১৯৯১ সালের বিএমডব্লিউ কে১০০ এলটি-কে একটি অসাধারণ ক্যাফে রেসারে পরিণত করেন। ৯০ এইচপি-র ইনলাইন-ফোর ইঞ্জিনটি মূলত অপরিবর্তিত রাখা হলেও ইনটেক সিস্টেম উন্নত করা হয়। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় মোটো গুজি ভি১১-এর মারজোকি আপসাইড-ডাউন ফর্ক এবং ব্রেম্বোর চার-পিস্টন ক্যালিপার। কার্বন ফাইবার ফেন্ডার, হুসকভার্না-অনুপ্রাণিত টেল সেকশন এবং থ্রি-ডি প্রিন্টেড বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এই বিল্ডটিকে আলাদা করে তুলেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এটি ছিল রিচার্ডের প্রথম কাস্টম বিল্ড। অথচ শেষ পর্যন্ত বাইকটি এতটাই পেশাদার মানের হয় যে সেটি জার্মানির কঠোর টিইউভি নিয়ম মেনেও রাস্তায় চালানোর উপযোগী ছিল।

Advertisements

৮. পাওয়ারব্রিকের কে১১০০ আরএস ক্যাফে রেসার

নেদারল্যান্ডসের ওয়ার্কশপ পাওয়ারব্রিক ভারী বিএমডব্লিউ কে১১০০ আরএস-কে একটি আগ্রাসী ক্যাফে রেসারে পরিণত করে। মূল ১০০ এইচপি ইঞ্জিনে বিভিন্ন যান্ত্রিক পরিবর্তন করে শক্তি প্রায় ১৩০ এইচপি-তে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে রয়েছে এস১০০০আরআর-এর সুপারবাইক ফর্ক, বিটুবো কার্টিজ, ব্রেম্বো ব্রেকিং সিস্টেম এবং ওয়াইএসএস জি-রেসিং মনোশক। নতুন সাবফ্রেম, মোটোগ্যাজেট ইলেকট্রনিক্স এবং ফোর-টু-ওয়ান স্টেইনলেস-স্টিল এগজস্ট বাইকটির পারফরম্যান্স ও চেহারা দুটোই বদলে দেয়।

৭. মোবিয়াস গ্যারাজের ‘ইজারা ৭০০’ আর৬৯

এই তালিকার সবচেয়ে অদ্ভুত যান্ত্রিক নির্মাণগুলির একটি হল ‘ইজারা ৭০০’। ফ্রান্সের মোবিয়াস গ্যারাজ প্রায় এক দশক ধরে এই বিএমডব্লিউ আর৬৯ বিল্ড তৈরি করে। ১৯৫৫ সালের বিএমডব্লিউ আর৬৯-এর ক্র্যাঙ্ককেসের সঙ্গে ১৯৬৪ সালের বিএমডব্লিউ ৭০০ গাড়ির বড় সিলিন্ডার যুক্ত করা হয়। দুই ভিন্ন যন্ত্রাংশকে একসঙ্গে কাজ করানোর জন্য ক্র্যাঙ্ককেসে অ্যালুমিনিয়াম ভরে সেটিকে নতুন করে মেশিনিং করা হয়েছিল। ফলাফল, ৬৫ এইচপি শক্তির একটি সম্পূর্ণ অভিনব বক্সার ইঞ্জিন। এর সঙ্গে রয়েছে ভিনটেজ রেনস্পোর্ট-অনুপ্রাণিত চ্যাসিস এবং ওহলিন্স সাসপেনশন। এই বাইক শুধু দেখতে অসাধারণ নয়, পারফরম্যান্সের দিক থেকেও যথেষ্ট শক্তিশালী। ‘হুইলস অ্যান্ড ওয়েভস’ উৎসবে এটি প্রথম পুরস্কারও জেতে।

bmw custom motorcycles from bikeexif 2022

৬. ফ্যাবম্যান ক্রিয়েশন্সের ‘স্টর্ম’ আর নাইনটি

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েন বুইস বিএমডব্লিউ আর নাইনটির চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দেন। কোনও ডিজিটাল টেমপ্লেট বা প্রচলিত আঁকা নকশা ছাড়াই তিনি হাতে তৈরি করেন সম্পূর্ণ অ্যালুমিনিয়াম বডি। নিজের তৈরি ইংলিশ হুইল ব্যবহার করে অ্যালুমিনিয়ামের প্যানেলগুলি হাতে আকার দেওয়া হয়। বাইকটির ডিজাইন অনেকটাই পুরনো দিনের বিমান বা ল্যান্ড-স্পিড-রেকর্ড মেশিনের মতো। বডিওয়ার্কের বিশেষ এয়ার ডাক্ট ইঞ্জিন ও ব্রেক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। এগজস্ট সিস্টেমও প্রায় সম্পূর্ণভাবে বডির ভিতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ফলাফলটি দেখতে এতটাই আলাদা যে প্রথম দেখায় এটিকে মোটরসাইকেলের বদলে ভবিষ্যতের কোনও বিমান বলেও মনে হতে পারে।

৫. শিফকাস্টমের আর১৮ রিভার্স ট্রাইক

বিএমডব্লিউ আর১৮-কে তিন চাকার রিভার্স ট্রাইকে পরিণত করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল মিনস্কের শিফকাস্টম। বিএমডব্লিউ ৩২৮ স্পোর্টস কার থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি করা হয় অ্যালুমিনিয়ামের নোজ সেকশন। সেখানে রয়েছে বিখ্যাত বিএমডব্লিউ কিডনি গ্রিল। সামনে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ডাবল-উইশবোন সাসপেনশন। অডি এ৩-এর চাকা, নিসিন ব্রেক এবং কাস্টম স্টিয়ারিং লিঙ্কেজের সঙ্গে আর১৮-এর বিশাল বক্সার ইঞ্জিন মিলিয়ে তৈরি হয়েছে একটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী তিন চাকার মেশিন।

৪. কিংস্টন কাস্টমের ‘প্লেটন’ আর নাইনটি

ক্লায়েন্ট যখন শুধু সিট এবং ট্যাঙ্ক বদলানোর কথা বলেছিলেন, তখন কিংস্টন কাস্টমের ডার্ক ওহলারকিং আরও বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। ফোম ব্যবহার করে প্রথমে বডিওয়ার্কের আকৃতি তৈরি করা হয়। পরে থ্রি-ডি স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ফাইনাল ফাইবারগ্লাস শেল তৈরি করা হয়। কাস্টম অ্যালুমিনিয়াম ফুয়েল রিজার্ভার, লেদার সিট, ব্রাসের ডিটেইলিং এবং বিএমডব্লিউ-এর বিখ্যাত কিডনি গ্রিল বাইকটিকে ১৯৩০-এর দশকের কোনও ভবিষ্যৎ কল্পনার মোটরসাইকেলের মতো করে তুলেছে। বাইকটির জনপ্রিয়তার কারণে কিংস্টন কাস্টম পরে মাত্র নয়টি ইউনিট তৈরির পরিকল্পনাও করেছিল।

৩. কামপার্ট কনট্র্যাপশন্সের বিএমডব্লিউ আর১০০আর থ্রি-হুইলার

প্রোটোটাইপ মডেল নির্মাতা টিম কামপার ১৯৯৩ সালের বিএমডব্লিউ আর১০০আর-এর সঙ্গে একটি ইউটিলিটি এটিভির সামনের অংশ যুক্ত করে তৈরি করেন এই তিন চাকার মেশিন। ৯৮০ সিসি বক্সার ইঞ্জিনটি সামনের দিকে সরিয়ে ওজনের ভারসাম্য উন্নত করা হয়। সামনে রয়েছে দুটি অস্টিন ৭ ওয়্যার-স্পোক চাকা। পিছনে রাখা হয়েছে বিএমডব্লিউ-এর শ্যাফট ড্রাইভ এবং চাকা। সবচেয়ে নজরকাড়া অংশ অবশ্যই হাতে তৈরি অ্যালুমিনিয়াম বডিওয়ার্ক। বিএমডব্লিউ ৫০৭ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া সাইড ভেন্ট, কাস্টম ড্যাশবোর্ড এবং বিশেষ এগজস্ট বাইকটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

২. সিএনসিপিটি মোটোর ‘ক্লাউড ৯’ আর নাইনটি

আয়রনউড মোটরসাইকেলসের আরজান ভ্যান ডেন বুম এবং পাওয়ারব্রিকের টিমোথি সোমার্স একসঙ্গে তৈরি করেন ‘ক্লাউড ৯’। তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি বিএমডব্লিউ তৈরি করা, যা দেখতে যেন ২০৮৪ সালের কোনও ভবিষ্যৎ মোটরসাইকেল। মনোকক-স্টাইলের বডিওয়ার্ক প্রথমে ক্লে দিয়ে তৈরি করা হয়। পরে থ্রি-ডি প্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্যানেল তৈরি করা হয়। চ্যাসিসে রয়েছে ম্যাট্রিস ফর্ক কার্টিজ, টিএফএক্স মনোশক এবং হালকা ওজনের রোটোবক্স কার্বন-ফাইবার চাকা। পিরেলি ডিয়াবলো সুপারবাইক স্লিক টায়ার, কাস্টম ইঞ্জিন কভার এবং ভবিষ্যৎধর্মী বডিওয়ার্ক মিলিয়ে ‘ক্লাউড ৯’ হয়ে উঠেছিল তালিকার অন্যতম উন্নত কাস্টম বিএমডব্লিউ।

১. রেট্রোরাইডস বাই লোরেঞ্চোর বিএমডব্লিউ কে১০০ আরএস

২০২২ সালের তালিকার শীর্ষে ছিল ব্রাজিলের রেট্রোরাইডস বাই লোরেঞ্চোর তৈরি বিএমডব্লিউ কে১০০ আরএস ক্যাফে রেসার। বিএমডব্লিউ কে-সিরিজের সবচেয়ে পরিচিত ডিজাইন সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হল ফুয়েল ট্যাঙ্ক এবং নিচের ফেয়ারিংয়ের মাঝের অস্বস্তিকর ফাঁক। এই সমস্যাটিই দূর করার দিকে মূল নজর দিয়েছিলেন নির্মাতারা। থ্রি-ডি প্রিন্টেড কার্বন-ফাইবার রেডিয়েটর শাউড, সিএনসি-মেশিনড অ্যালুমিনিয়াম গ্রিল এবং কাস্টম ফ্রন্ট ফেয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা হয় সম্পূর্ণ নতুন সিলুয়েট। হোন্ডা হর্নেটের আপসাইড-ডাউন ফর্ক, কাস্টম ট্রিপল ট্রি এবং ১৭ ইঞ্চির চাকার সঙ্গে ব্যবহার করা হয় হেইডেনাও কে৭৩ টায়ার। পিছনে রয়েছে রেট্রোরাইডসের নিজস্ব হরাইজন্টাল লিঙ্কেজ সাসপেনশন। ছোট করা সাবফ্রেমে রয়েছে ডায়মন্ড-স্টিচড কালো লেদার সিট এবং বিল্ট-ইন এলইডি টেললাইট। ৯০ এইচপি-র ইনলাইন-ফোর ইঞ্জিন, কালো রঙের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, ব্রোঞ্জ ভেলোসিটি স্ট্যাক এবং অত্যন্ত পরিষ্কার ডিজাইন এই কে১০০ আরএস-কে ২০২২ সালের অন্যতম সেরা কাস্টম বিএমডব্লিউতে পরিণত করেছে।

২০২২ সালের সেরা কাস্টম বিএমডব্লিউগুলির বিশেষত্ব কী?

এই দশটি মোটরসাইকেলের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট। কাস্টম বিল্ডাররা বিএমডব্লিউ-এর পুরনো ও নতুন মোটরসাইকেলগুলিকে শুধু বাহ্যিকভাবে বদলে দেননি। তাঁরা ইঞ্জিন, চ্যাসিস, সাসপেনশন, ব্রেক এবং ইলেকট্রনিক্সেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। কেউ আর১৮-কে আর্ট ডেকো ক্রুজারে পরিণত করেছেন, কেউ কে১০০-কে ক্যাফে রেসারে বদলেছেন, আবার কেউ আর১৮ ও আর১০০আর-কে তিন চাকার মেশিনে রূপ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে থ্রি-ডি প্রিন্টিং, সিএনসি মেশিনিং, কার্বন ফাইবার এবং আধুনিক সাসপেনশন ও ব্রেকিং প্রযুক্তির ব্যবহার কাস্টম মোটরসাইকেল নির্মাণকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রতিটি বাইকের নিজস্ব একটি চরিত্র রয়েছে। সেই কারণেই ২০২২ সালের এই বিএমডব্লিউ কাস্টম মোটরসাইকেলগুলি এখনও মোটরসাইকেল ডিজাইনের দুনিয়ায় এতটা আকর্ষণীয়।

আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯

আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ

আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন

Advertisements