Tata Nano কি ফিরছে EV হয়ে? ছোট গাড়ির প্রত্যাবর্তন কেন যুক্তিযুক্ত

গুরুগাঁও: একসময় ভারতের সবচেয়ে আলোচিত ছোট গাড়িগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল Tata Nano। কম দাম, ছোট আকার এবং শহরের রাস্তায় সহজে চলাচলের সুবিধার জন্য গাড়িটি নিয়ে…

tata-nano-ev-return-electric-car-india

গুরুগাঁও: একসময় ভারতের সবচেয়ে আলোচিত ছোট গাড়িগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল Tata Nano। কম দাম, ছোট আকার এবং শহরের রাস্তায় সহজে চলাচলের সুবিধার জন্য গাড়িটি নিয়ে একসময় ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। এবার সেই আইকনিক নামটি নতুন অবতারে ফিরতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন লিক অনুযায়ী, Tata Nano ফের বাজারে এলে সেটি ইলেকট্রিক গাড়ি হিসেবেই আসতে পারে।

Advertisements

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, Tata Motors এখনও Nano EV নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি। এরফলে এই মুহূর্তে প্রত্যাবর্তনের খবরকে সম্ভাবনা বা জল্পনা হিসেবেই দেখতে হবে।

   

কেন এখনও Nano-কে মনে রেখেছেন ভারতীয়রা?

২০০৯ সালে Tata Motors Nano বাজারে আনার সময় লক্ষ্য ছিল আরও বেশি ভারতীয় পরিবারের কাছে চারচাকার গাড়ি পৌঁছে দেওয়া। ছোট আকার, কম খরচ এবং সাশ্রয়ী মালিকানার ধারণা নিয়ে তৈরি হয়েছিল গাড়িটি।

Nano নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তৈরি হলেও ‘অতি সস্তার গাড়ি’ হিসেবে এর ব্র্যান্ডিং শেষ পর্যন্ত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্রেতাই তুলনামূলক বড় হ্যাচব্যাকের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন। ফলে Nano ধীরে ধীরে সেই আকর্ষণ হারায় এবং গাড়িটি শেষ পর্যন্ত বাজার থেকে বিদায় নেয়। যদিও বিক্রি প্রত্যাশা পূরণ না করলেও Nano-এর প্রতি একটি নির্দিষ্ট ক্রেতাগোষ্ঠীর আগ্রহ থেকে যায়।

Advertisements

এখন Nano EV কেন বেশি যুক্তিযুক্ত?

Nano বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভারতের গাড়ির বাজার অনেকটাই বদলে গিয়েছে। বিশেষ করে ইলেকট্রিক গাড়ি এখন আর শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক প্রযুক্তি নয়। শহুরে ব্যবহারের জন্য EV-এর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ছোট আকারের একটি ইলেকট্রিক গাড়ির যুক্তি রয়েছে। শহরের ভিড় রাস্তায় ছোট গাড়ি চালানো এবং পার্ক করা তুলনামূলক সহজ। পাশাপাশি পেট্রোলের বদলে বিদ্যুতে চলায় দৈনন্দিন ব্যবহারের খরচও কম হতে পারে।

ফলে একটি Nano EV মূলত তিন ধরনের ক্রেতাকে আকর্ষণ করতে পারে:
• প্রথমবার গাড়ি কিনতে চাওয়া মানুষ
• শহরে প্রতিদিন যাতায়াতকারী ক্রেতা
• বড় গাড়ির পাশাপাশি একটি ছোট দ্বিতীয় গাড়ি খুঁজছেন এমন পরিবার
দুই-চাকার গাড়ি থেকে চারচাকায় আপগ্রেড করতে চাওয়া ক্রেতাদের কাছেও একটি ছোট, সাশ্রয়ী EV আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

Tata-র EV অভিজ্ঞতাও এখন অনেক বেশি

২০০৯ সালে Nano তৈরির সময় ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার আজকের মতো ছিল না। কিন্তু বর্তমানে Tata Motors-এর EV পোর্টফোলিও যথেষ্ট বড়। সংস্থার ইলেকট্রিক গাড়ির তালিকায় রয়েছে Tiago EV, Punch EV এবং Nexon EV-এর মতো মডেল। এর ফলে ব্যাটারি, মোটর, চার্জিং এবং ইলেকট্রিক পাওয়ারট্রেন নিয়ে Tata Motors-এর অভিজ্ঞতা আগের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে যদি সংস্থা ছোট আকারের একটি EV তৈরি করে, সেটি Tiago EV-এর নিচে একটি নতুন জায়গা তৈরি করতে পারে।

কেমন হতে পারে নতুন Nano EV?

আধুনিক সময়ে শুধু কম দাম দিয়ে কোনও গাড়িকে সফল করা সহজ নয়। একজন ক্রেতা এখন নিরাপত্তা, পারফরম্যান্স, ইন্টেরিয়র, প্রযুক্তি এবং সামগ্রিক গুণমানও বিবেচনা করেন।

তাই নতুন Nano EV এলে প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে থাকতে পারে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, শহুরে ব্যবহারের উপযোগী পারফরম্যান্স, আধুনিক ইন্টেরিয়র এবং স্মার্ট প্রযুক্তি।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে এর компакт আকার। ছোট গাড়ির সঙ্গে আধুনিক ব্যাটারি প্রযুক্তি যুক্ত হলে শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় রেঞ্জ দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। এর জন্য খুব বড় ব্যাটারি প্যাকের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

শুধু কম দাম রাখলেই হবে না

Nano-এর প্রথম প্রজন্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়ে গিয়েছে। শুধু সস্তা হলেই ভারতীয় ক্রেতারা গাড়িটি কিনবেন, এমনটা নয়। গাড়ির ডিজাইন, নিরাপত্তা, বৈশিষ্ট্য এবং সেটি মালিকের কাছে কতটা আকর্ষণীয় বা মর্যাদাপূর্ণ মনে হচ্ছে, সেগুলিও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই Nano যদি EV হিসেবে ফিরে আসে, তাহলে সেটিকে শুধুমাত্র ‘কম দামের গাড়ি’ হিসেবে বাজারজাত করার বদলে শহরের জন্য বুদ্ধিমান, কমপ্যাক্ট এবং সাশ্রয়ী পরিবহণের সমাধান হিসেবে তুলে ধরা বেশি কার্যকর হতে পারে।

Tata Nano EV কবে আসবে?

এই মুহূর্তে Tata Motors-এর পক্ষ থেকে Nano EV-এর কোনও আনুষ্ঠানিক লঞ্চ ঘোষণা বা নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। তাই গাড়িটির দাম, ব্যাটারি, রেঞ্জ, ডিজাইন বা লঞ্চের তারিখ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

ভারতের EV বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং শহুরে ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনা করলে, Nano নামটি ইলেকট্রিক গাড়ি হিসেবে ফিরে এলে আগের তুলনায় অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত হতে পারে। ২০০৯ সালের Nano যেখানে মূলত কম দামের চারচাকার গাড়ি হিসেবে পরিচিত হয়েছিল, নতুন Nano EV সফল হতে গেলে তাকে আধুনিক, সাশ্রয়ী এবং শহুরে জীবনযাত্রার উপযোগী গাড়ি হিসেবেই নিজেদের জায়গা তৈরি করতে হবে।

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা

Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন

Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের

Advertisements